চাবাহারবন্দর

Chabahar port

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি সরকার পার্লামেন্টে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই ভারত চাবাহার বন্দরের জন্য তার প্রতিশ্রুত ১২০ মিলিয়ন ডলার সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে।

এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) জানিয়েছে যে, ভারত-মার্কিন আলোচনার পর চাবাহার প্রকল্পের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে যে, ভবিষ্যতে এই মেয়াদের আরও সম্প্রসারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত বর্তমানে সকল অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছে।

চাবাহার বন্দর প্রকল্প সম্পর্কে

  • ২০১৫ সালের জানুয়ারি: বিদেশে বন্দর উন্নয়নের লক্ষ্যে কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর অধীনে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) গঠিত হয়।
  • ২০১৬ সালের এপ্রিল: ভারত, ইরান এবং আফগানিস্তান চাবাহার বন্দর উন্নয়নের জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে।
  • ২০১৭ সালের ডিসেম্বর: ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত উন্নয়নের ফলে শহীদ বেহেশতি বন্দরের প্রথম ধাপের উদ্বোধন করা হয়।
  • ২০১৮ সালের ডিসেম্বর: IPGL শহীদ বেহেশতি বন্দরের কার্যক্রমের একটি অংশের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
  • ২০২০ সাল: প্রথমবার এই বন্দরের মাধ্যমে আফগান পণ্য ভারতে পৌঁছায়। সেই বছর ভারত এই ধরনের চারটি চালান গ্রহণ করেছিল।

ভৌগোলিক কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • অবস্থান: এটি ওমান উপসাগরে অবস্থিত। এটি হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল এলাকা এড়িয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌছনোর পথ তৈরি করে দেয়।
  • কাঠামো: এই বন্দরে দুটি আলাদা কমপ্লেক্স রয়েছে: শহীদ বেহেশতি এবং শহীদ কালান্তারি। প্রতিটিতে পাঁচটি করে বার্থ (জাহাজ ভেড়ানোর জায়গা) রয়েছে।
  • অবকাঠামো: এটি একটি গভীর সমুদ্র বন্দর, যা বিশালকার পণ্যবাহী জাহাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। ইরানের অন্যান্য বন্দর যেমন বন্দর আব্বাসে এই ধরনের বড় জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হয় না।

কৌশলগত গুরুত্ব

  • বিকল্প বাণিজ্য পথ: এটি পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারত থেকে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের জন্য একটি বিকল্প পথ প্রদান করে।
  • আঞ্চলিক সংযোগ: আন্তর্জাতিক উত্তরদক্ষিণ পরিবহন করিডোর (INSTC)-এর মাধ্যমে এটি মধ্য এশিয়া, রাশিয়া এবং ইউরোপের সাথে ভারতের সংযোগ বৃদ্ধি করে।
  • INSTC কী: এটি একটি বহুমুখী পরিবহন পথ যা ইরান হয়ে ভারত মহাসাগর ও পারস্য উপসাগরকে কাস্পিয়ান সাগরের সাথে যুক্ত করে এবং রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের মাধ্যমে উত্তর ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • ভারসাম্য রক্ষা: এটি চীনের সহায়তায় তৈরি পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা: এই বন্দরটি আঞ্চলিক জ্বালানি সম্পদে ভারতের প্রবেশাধিকার সহজ করে এবং ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে একটি স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
চাবাহার বন্দর সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো বিবেচনা করুন:
I. চাবাহার বন্দর ইরানের একমাত্র সামুদ্রিক বন্দর যেখান থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছনো যায়।
II. ভারত 'ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড' (IPGL)-এর মাধ্যমে চাবাহারের শহীদ বেহেশতি টার্মিনালটি পরিচালনা করে।
III. এই বন্দরটি পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ভারতের সরাসরি স্থলপথের বিকল্প প্রদান করে।
IV. এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (INSTC)-এর অংশ।

ওপরের কোন তথ্যগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র I, II এবং III
(b) শুধুমাত্র I, II এবং IV
(c) শুধুমাত্র I, III and IV
(d) I, II, III এবং IV

সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা:
•I নম্বর তথ্যটি সঠিক: চাবাহার হলো ইরানের একমাত্র সামুদ্রিক বন্দর, যা ওমান উপসাগরে অবস্থিত এবং ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেয়।
II নম্বর তথ্যটি সঠিক: ইরানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL)-এর মাধ্যমে শহীদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা করছে।
•III নম্বর তথ্যটি সঠিক: চাবাহার বন্দর পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার সাথে সরাসরি সংযোগের পথ তৈরি করে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
IV নম্বর তথ্যটি সঠিক: এই বন্দরটি আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (INSTC)-এর একটি প্রধান অংশ, যা ভারতকে মধ্য এশিয়া, রাশিয়া এবং ইউরোপের সাথে যুক্ত করে।

Practice Today’s MCQs