লোকসভা স্পিকারের অপসারণ প্রক্রিয়া

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলগুলো স্পিকার শ্রী ওম বিড়লাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব (রেজোলিউশন) জমা দিয়েছে। সংসদীয় অচলাবস্থার কয়েকদিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, স্পিকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন; তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকে কথা বলতে বাধা দিয়েছেন এবং মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন।

১. সাংবিধানিক বিধান

  • ধারা ৯৪: এই ধারা অনুযায়ী, লোকসভার তৎকালীন সমস্ত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে স্পিকারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে।
  • ধারা ৯৬: এই ধারাটি স্পিকারের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা করে। তবে, যখন তাঁকে অপসারণের কোনো প্রস্তাব বিবেচনাধীন থাকে, তখন তিনি সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন না।

২. পদ্ধতিগত প্রয়োজনীয়তা

অপসারণ প্রক্রিয়াটি সংবিধান এবং লোকসভার কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) দ্বারা পরিচালিত হয়:

  • ১৪ দিনের অগ্রিম নোটিশ: অপসারণের প্রস্তাব আনার অন্তত ১৪ দিন আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।
  • ৫০ জন সদস্যের সমর্থন: লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করার আগে অন্তত ৫০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
  • সুনির্দিষ্ট অভিযোগ: প্রস্তাবটি অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং এতে নিশ্চিত অভিযোগ থাকতে হবে। এতে কোনো অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি বা মানহানিকর বক্তব্য থাকা চলবে না।

৩. ভোটদান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা

  • কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Effective Majority): এই প্রস্তাবটি লোকসভার তৎকালীন সকল সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারা পাস হতে হবে। একে প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলা হয় (অর্থাৎ, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা থেকে শূন্য আসনগুলো বাদ দিয়ে যে সংখ্যা থাকে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা)।
  • সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়: এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, স্পিকারকে অপসারণের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (উপস্থিত এবং ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা) যথেষ্ট নয়।

৪. অপসারণ চলাকালীন স্পিকারের অধিকার

  • কথা বলার অধিকার: যখন অপসারণের প্রস্তাবটি আলোচিত হয়, তখন স্পিকার সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন এবং আলোচনায় অংশ নিতে পারেন
  • ভোট দেওয়ার অধিকার: এই ধরনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্পিকার প্রথম দফায় ভোট দিতে পারেন।
  • কাস্টিং ভোট নেই: সাধারণ সময়ে ভোট সমান-সমান হলে স্পিকার জয়-পরাজয় নির্ধারণী ভোট (Casting Vote) দেন। কিন্তু নিজের অপসারণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তিনি কোনো কাস্টিং ভোট দিতে পারেন না।
  • সভাপতিত্বে বাধা: অপসারণের প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন থাকাকালীন তিনি সভার সভাপতিত্ব করতে পারবেন না, এমনকি তিনি সভায় উপস্থিত থাকলেও নয়।

৫. সারাংশ সারণী: অপসারণ প্রস্তাবের সময় স্পিকারের মর্যাদা

বৈশিষ্ট্যঅবস্থা/মর্যাদা
সভাপতিত্বের ক্ষমতাসভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন না।
সভায় উপস্থিতিউপস্থিত থাকতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন।
প্রথম দফার ভোটঅনুমোদিত (সাধারণ সদস্য হিসেবে ভোট দিতে পারেন)।
কাস্টিং ভোটঅনুমোদিত নয় (ভোট সমান হলে তা ভাঙতে ভোট দিতে পারবেন না)।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসাধারণত ডেপুটি স্পিকার বা চেয়ারম্যান প্যানেলের কোনো সদস্য।
প্রশ্ন: লোকসভার স্পিকারের প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:

1. স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব হাউসে গ্রহণ করার জন্য অন্তত ১০০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

2. অপসারণের প্রস্তাবটি হাউসের মোট সদস্য সংখ্যার (শূন্য পদসহ) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে।

3. যখন তাঁর অপসারণের প্রস্তাব বিবেচনাধীন থাকে, তখন স্পিকার প্রথম দফায় ভোট দিতে পারেন কিন্তু কাস্টিং ভোট দিতে পারেন না।

উপরের কয়টি বিবৃতি সঠিক?

a) মাত্র একটি
b) মাত্র দুটি
c) তিনটিই সঠিক
d) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: a (মাত্র একটি)

ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 ভুল: লোকসভার কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকারের অপসারণ প্রস্তাবের জন্য ৫০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, ১০০ জন নয়।
• বিবৃতি 2 ভুল: প্রস্তাবটি তৎকালীন সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পাস হতে হবে। "মোট সদস্য সংখ্যা" বা পরম সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Absolute Majority) এবং কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা এক নয়।
• বিবৃতি 3 সঠিক: ধারা ৯৬ অনুযায়ী, নিজের অপসারণ প্রস্তাবের সময় স্পিকার প্রথম দফায় ভোট দিতে পারেন কিন্তু কাস্টিং ভোট দিতে পারেন না।

Practice Today’s MCQs