প্রেক্ষাপট:
সম্প্রতি, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) আইটি (সংশোধনী) বিধিমালা, ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করেছে। এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দ্বারা তৈরি ছবি বা ভিডিও (যা দেখতে একদম বাস্তবের মতো, অর্থাৎ ডিপফেক) স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা (Labeling), যাতে কৃত্রিম বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায় এবং ডিজিটাল দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়।
আইটি সংশোধনী বিধিমালা, ২০২৬-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সিন্থেটিকালি জেনারেটেড ইনফরমেশন (SGI)-এর সংজ্ঞা:
- পরিধি: এআই (AI) বা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তৈরি বা পরিবর্তন করা অডিও, ভিজ্যুয়াল বা অডিও-ভিজ্যুয়াল তথ্য এর অন্তর্ভুক্ত।
- মানদণ্ড: এমন তথ্য যা একজন সাধারণ মানুষের কাছে সত্য বা আসল বলে মনে হতে পারে এবং যা প্রকৃত ঘটনা বা ব্যক্তির থেকে আলাদা করা কঠিন।
২. বাধ্যতামূলক লেবেলিং এবং মেটাডেটা:
- স্পষ্ট লেবেল (Prominent Labels): অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে এআই-দ্বারা তৈরি কন্টেন্টগুলোতে স্পষ্টভাবে “Synthetic” বা “AI-generated” লেখা রয়েছে।
- উৎসের প্রমাণ (Provenance): কন্টেন্টের উৎস শনাক্ত করতে এবং শনাক্তকারী চিহ্নগুলো যাতে মুছে ফেলা না যায়, সেজন্য স্থায়ী মেটাডেটা বা ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করতে হবে।
৩. মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মের (Intermediary) বাধ্যবাধকতা:
- ব্যবহারকারীর ঘোষণা: ব্যবহারকারীরা যদি কোনো এআই-জেনারেটেড কন্টেন্ট পোস্ট করেন, তবে তা নিজে থেকে প্রকাশ বা ডিক্লেয়ার করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- যাচাইকরণ: ব্যবহারকারী ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে, সেই কৃত্রিম কন্টেন্ট শনাক্ত ও যাচাই করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে অটোমেটেড টুলস বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
৪. কঠোর কমপ্লায়েন্স বা মান্যতা সময়সীমা:
| কন্টেন্টের ধরন | পূর্ববর্তী সময়সীমা | নতুন ২০২৬ সময়সীমা |
| অবৈধ/বেআইনি কন্টেন্ট | ৩৬ ঘণ্টা | ৩ ঘণ্টা |
| ডিপফেক/অসম্মতিমূলক ছবি (NCII) | ২৪ ঘণ্টা | ২ ঘণ্টা |
| অভিযোগ প্রতিকার (Grievance Redressal) | ১৫ দিন | ৭ দিন |
৫. সেফ হারবার এবং আইনি দায়বদ্ধতা (Safe Harbour & Legal Liability):
- প্ল্যাটফর্মগুলো আইটি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে আইনি সুরক্ষা বা সেফ হারবার তখনই পাবে, যদি তারা এই বিধিমালাগুলো সঠিকভাবে পালন করে।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেবেল করতে বা কন্টেন্ট সরাতে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের আইনি রক্ষাকবচ হারাবে, ফলে ব্যবহারকারীর পোস্ট করা কন্টেন্টের জন্য প্ল্যাটফর্মটি সরাসরি আইনিভাবে দায়ী থাকবে।
৬. গুরুত্বপূর্ণ ছাড়:
- সাধারণ এডিটিং: স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিং (যেমন: কালার ব্যালেন্স, নয়েজ রিডাকশন)।
- অ্যাক্সেসিবিলিটি: স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ বা সার্চ-অপ্টিমাইজেশন ট্যাগ।
- সদিচ্ছামূলক ব্যবহার (Good-Faith Use): একাডেমিক গবেষণা এবং কাল্পনিক খসড়া যা বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে না।
Q: আইটি (IT) সংশোধনী বিধিমালা ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. এই বিধিমালা অনুযায়ী সিন্থেটিকালি জেনারেটেড ইনফরমেশন (SGI) হলো এমন যেকোনো ডিজিটাল বিষয়বস্তু (content), যা দেখতে আসল মনে হলেও আসলে অ্যালগরিদমের সাহায্যে তৈরি।
2. নতুন নিয়ম অনুসারে, কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পাওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ এআই (AI) কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে।
3. স্মার্টফোন ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় কালার কারেকশন-কে কঠোরভাবে SGI হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে "AI-generated" লেবেল লাগানো প্রয়োজন।
ওপরের দেওয়া বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
A) শুধুমাত্র 1 এবং 2
B) শুধুমাত্র 2 এবং 3
C) শুধুমাত্র 1
D) 1, 2 এবং 3
সঠিক উত্তর: A
সমাধানের ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: SGI-এর আইনি সংজ্ঞা হলো এমন তথ্য যা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত এবং যা একজন সাধারণ মানুষের কাছে বাস্তব বলে ভ্রম হতে পারে।
• বিবৃতি 2 সঠিক: ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার সময়সীমা ৩৬ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টা করা হয়েছে।
• বিবৃতি 3 ভুল: স্মার্টফোনের সাধারণ ডিজিটাল উন্নয়ন যেমন কালার কারেকশন বা নয়েজ রিডাকশন-কে এই বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের আওতা থেকে ছাড় (Exempted) দেওয়া হয়েছে।