এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি UPSC Mains-এর এই মডেল প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবেন:
ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্ব একটি ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থেকে একটি ব্যাপক প্রযুক্তি-কৌশলগত (techno-strategic) সহযোগিতায় বিবর্তিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তনের তাৎপর্য পরীক্ষা করুন। (২৫০ শব্দ, GS-2 আন্তর্জাতিক সম্পর্ক)
প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “Special Global Strategic Partnership” (বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব)-এ উন্নীত করা হয়েছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা।
ভারত–ফ্রান্স সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি
১. স্বাধীনতা–পরবর্তী প্রারম্ভিক পর্যায় (১৯৪৭–১৯৬২)
- শান্তিপূর্ণ উপনিবেশ ত্যাগ: গোয়ায় পর্তুগিজদের মতো নয়, ফ্রান্স কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের ভারতের অন্তর্গত অঞ্চলগুলি (পুদুচেরি, কারাইক্যাল, মাহে এবং ইয়ানাম) হস্তান্তর করার পথ বেছে নেয়। চুক্তিপত্র (Treaty of Cession) ১৯৫৬ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৬২ সালে তা অনুমোদিত হয়।
- প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সূচনা: ১৯৫৩ সালেই সহযোগিতা শুরু হয়, যখন ডাসো আওরাগাঁ (Dassault Ouragan – তুফানি) বিমান ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)–এ অন্তর্ভুক্ত হয়।
২. শীতল যুদ্ধের যুগ: “বিশ্বস্ত বিকল্প”
- ভারত যখন অ–জোট নিরপেক্ষ নীতি (Non-Alignment) অনুসরণ করছিল, তখন ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়, যারা যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো “শর্তসাপেক্ষ” সহযোগিতা আরোপ করেনি।
- মহাকাশ সহযোগিতা (১৯৬০–৭০–এর দশক): ফ্রান্স ইসরো (ISRO)–কে শ্রীহরিকোটা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ রকেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি ভাগ করে। ভাইকিং (Viking) ইঞ্জিন ভারতের বিকাস (Vikas) ইঞ্জিন–এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক সহায়তা (১৯৮০–এর দশক): ১৯৮৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভ্যন্তরীণ আইনের কারণে তারাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র–এর জন্য জ্বালানি সরবরাহ থেকে সরে দাঁড়ায়। তখন ফ্রান্স এগিয়ে এসে জ্বালানি সরবরাহ করে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. ১৯৯৮ সালের মোড় পরিবর্তন (কৌশলগত অংশীদারিত্ব)
- প্রথম কৌশলগত অংশীদার: ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্স ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Strategic Partnership) স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ হয়।
- পোখরান–II–এর পর সমর্থন: ১৯৯৮ সালে ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। বরং তারা উচ্চপর্যায়ের “কৌশলগত সংলাপ” (Strategic Dialogue) শুরু করে। এর ফলে নয়াদিল্লির কাছে ফ্রান্স দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বাস অর্জন করে।
৪. ২০০০–এর পরবর্তী সময়: বৈশ্বিক সমন্বয়ের গভীরতা বৃদ্ধি
- নাগরিক পারমাণবিক চুক্তি (২০০৮): NSG ছাড়পত্র (waiver) পাওয়ার পর, ফ্রান্সই ছিল প্রথম দেশ যারা ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নাগরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু নেতৃত্ব (২০১৫): প্যারিসে COP21 সম্মেলন–এ যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সৌর জোট (International Solar Alliance – ISA) চালু করা হয়। এর মাধ্যমে সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্তরে উন্নীত হয়।
- ইন্দো–প্যাসিফিক কৌশল (২০১৮): “ভারত–ফ্রান্স ভারত মহাসাগর অঞ্চলে যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণের মাধ্যমে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে ফ্রান্স ভারতের প্রধান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভসমূহ
১. নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব স্তম্ভ
এই স্তম্ভটির মূল লক্ষ্য হলো ভারতকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। বর্তমানে সম্পর্কের ধরন “ক্রেতা–বিক্রেতা“ থেকে পরিবর্তিত হয়ে “যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদন“-এ রূপান্তরিত হয়েছে।
- প্রতিরক্ষা শিল্প রোডম্যাপ (২০২৬–২০৩৬): একটি ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য হলো ১০০% প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer) নিশ্চিত করা।
- আকাশপথ: ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (AMCA)-এর জন্য ১১০ কিলোনিউটন ইঞ্জিনের যৌথ উন্নয়নে Safran-HAL অংশীদারিত্ব; কর্ণাটকের ভেমাগালে H125 হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইন (Tata-Airbus যৌথ উদ্যোগ) স্থাপন—যা ভারতের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টার কারখানা।
- নৌপথ: ভারতীয় নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ২৬টি Rafale-M যুদ্ধবিমান এবং ৩টি অতিরিক্ত Scorpene শ্রেণির সাবমেরিন ক্রয়ের চুক্তি।
- মিসাইল: HAMMER নামক আকাশ-থেকে-ভূমি মিসাইল ভারতে তৈরির জন্য BEL-Safran যৌথ উদ্যোগ।
- মহাকাশ: জলবায়ু পর্যবেক্ষণের জন্য TRISHNA মিশন এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারির জন্য স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ব্যবস্থা।
- কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy): দুই দেশই আমেরিকা-চীন দ্বিমেরু রাজনীতির বাইরে একটি “তৃতীয় বিকল্প” হিসেবে কাজ করে।
২. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন স্তম্ভ (নতুন ডিজিটাল যুগ)
২০২৬ সালকে “ভারত–ফ্রান্স উদ্ভাবন বছর“ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): ২০২৬ সালে নয়াদিল্লিতে ‘AI Impact Summit’ আয়োজন; যেখানে প্রধান লক্ষ্য হলো “জনকল্যাণে এআই” (AI for Global Good)।
- স্বাস্থ্য খাতে এআই: উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির জন্য AIIMS নয়াদিল্লিতে ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার স্থাপন।
- ডিজিটাল পরিকাঠামো: ফ্রান্সে UPI পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে যুক্ত করতে Indo-French Innovation Network চালু।
- গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals): লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ মেটালের সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে ২০২৬ সালের যৌথ ঘোষণা, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের জন্য জরুরি।
৩. পৃথিবী ও বৈশ্বিক সমস্যা স্তম্ভ
- সিভিল নিউক্লিয়ার ২.০: জয়তাপুর প্রকল্পের পাশাপাশি এখন Small Modular Reactors (SMRs) এবং অ্যাডভান্সড মডুলার রিঅ্যাক্টর তৈরির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA): বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির প্রসারে দুই দেশের যৌথ নেতৃত্ব।
- ব্লু ইকোনমি: টেকসই মৎস্য চাষ এবং “ইকো–পোর্ট“ বা পরিবেশবান্ধব বন্দর পরিকাঠামো তৈরির রোডম্যাপ।
- গ্রিন হাইড্রোজেন: ভারতকে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের বৈশ্বিক হাবে পরিণত করতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব।
৪. জনগণের জন্য অংশীদারিত্ব
- শিক্ষা: ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০,০০০ ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা।
- যাতায়াত সুবিধা (Mobility): ২০২৬ সালে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) সংশোধন করা হয়েছে যাতে পেশাদারদের যাতায়াত ও কর্মসংস্থান সহজ হয়।
- সংস্কৃতি: নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় জাদুঘর প্রকল্পে ফ্রান্স একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
৫. ভূ–রাজনীতি: ইন্দো–প্যাসিফিক ও বহুমুখিতা
- সম্মেলনের সমন্বয়: ২০২৬ সালে ফ্রান্স (জি-৭ সভাপতি) এবং ভারত (ব্রিকস সভাপতি) বৈশ্বিক ঋণ, জলবায়ু অর্থায়ন এবং এআই পরিচালনার বিষয়ে একযোগে কাজ করছে।
- ত্রিমুখী সহযোগিতা: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলোকে সহায়তা করতে “Indo-Pacific Triangular Development Fund” গঠন।
- IMEC করিডোর: ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরকে একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতি।
ভারত–ফ্রান্স সম্পর্কের চ্যালেঞ্জসমূহ
১. পারমাণবিক দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত অচলাবস্থা (জয়তাপুর)
- সমস্যা: ২০০৮ সালে প্রস্তাবিত হওয়া সত্ত্বেও ১০,৩৮০ মেগাওয়াট সম্পন্ন জয়তাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
- বাধা: ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক দায়বদ্ধতা আইন (২০১০) অনুযায়ী দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরঞ্জামের সরবরাহকারী সংস্থা দায়ী থাকে। ফরাসি কোম্পানি EDF এই আর্থিক ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। ফলে বর্তমানে বড় প্রকল্পের বদলে ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টরের (SMR) দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
২. বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা
- সমস্যা: দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার) জার্মানি বা আমেরিকার তুলনায় অনেক কম।
- বাধা: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নেই। এছাড়া শ্রমমান, পরিবেশগত নিয়ম এবং ডেটা প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি কড়াকড়ির কারণে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
৩. বৈশ্বিক দ্বন্দ্বে কৌশলগত “অসামঞ্জস্য“
- রাশিয়া–ইউক্রেন: ফ্রান্স ন্যাটো (NATO)-র সদস্য হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও ভারত একটি নিরপেক্ষ বা সূক্ষ্ম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে। এর ফলে মাঝে মাঝে যৌথ বিবৃতিতে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়।
- চীন বিতর্ক: চীনে ফ্রান্সের বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ভারত অনেক সময় উদ্বিগ্ন থাকে যে ফ্রান্সের “ইউরোপীয় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন“ নীতি হয়তো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আগ্রাসনের প্রতি কিছুটা নমনীয় হতে পারে।
৪. প্রযুক্তি হস্তান্তরের (ToT) প্রতিবন্ধকতা
- সমস্যা: “মেক ইন ইন্ডিয়া” রোডম্যাপ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও প্রযুক্তির গভীরতা হস্তান্তরের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।
- বাধা: ফরাসি কোম্পানিগুলো প্রায়ই তাদের অত্যন্ত গোপনীয় বা “ব্ল্যাক-বক্স” প্রযুক্তি (যেমন জেট ইঞ্জিনের সোর্স কোড) শেয়ার করতে চায় না। শুধুমাত্র যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো (Assembly) থেকে সম্পূর্ণ মেধা স্বত্ব (Intellectual Property) শেয়ার করার প্রক্রিয়াটি বেশ ধীরগতিসম্পন্ন।
৫. আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
- IMEC চ্যালেঞ্জ: ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা (যেমন লোহিত সাগরের সংকট) এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এটি প্রকল্পের বাণিজ্যিক সফলতাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
১. কৌশলগত ও ভূ–রাজনৈতিক সমন্বয়
- IMEC-কে কার্যকর করা: ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরকে (IMEC) একটি স্বপ্ন থেকে বাস্তব ও নিরাপদ বাণিজ্যিক পথে রূপান্তর করতে ২০২৬ সালের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- UNSC ও বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জন্য ফ্রান্সের উচিত যৌথ তৎপরতা বাড়ানো। একবিংশ শতাব্দীর বহুমুখী বৈশ্বিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করতে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের দাবিতে ফ্রান্সকে আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।
- আফ্রিকা অভিমুখে যাত্রা: ২০২৬ সালের নাইরোবি সম্মেলন (আফ্রিকা-ফ্রান্স-ভারত)-কে কাজে লাগিয়ে সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
২. প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব
- ক্রয় প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে: ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত Joint Advanced Technology Development Group-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম শুধু কেনা নয়, বরং যৌথ উন্নয়নে পুরোপুরি মনোনিবেশ করা। এর মাধ্যমে জটিল অ্যারো-ইঞ্জিন (Safran-HAL) এবং আন্ডারওয়াটার ড্রোন বা জলের নিচের ড্রোনের ১০০% মেধা স্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (IP) শেয়ারিং নিশ্চিত করা।
- রপ্তানি হাব (Export Hub): কর্ণাটকে সদ্য উদ্বোধন হওয়া H125 হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইন-কে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে ফরাসি প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো ভারতে তৈরি করে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা।
৩. জ্বালানি ও পারমাণবিক জট নিরসন
- SMR-কে অগ্রাধিকার: জয়তাপুর প্রকল্পের আইনি জটিলতার কথা মাথায় রেখে ভারত-ফ্রান্স SMR (Small Modular Reactor) অংশীদারিত্বকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। এই ছোট রিয়্যাক্টরগুলো কারখানায় তৈরি করা যায়, এতে ঝুঁকি কম এবং অর্থায়ন সহজ। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এটি একটি বাস্তবসম্মত পথ।
- গ্রিন হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম: ভারতের গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনকে ফ্রান্সের শিল্প চাহিদার সাথে যুক্ত করতে একটি অভিন্ন মানদণ্ড ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৪. ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী নেতৃত্ব
- AI-এর গণতান্ত্রিকীকরণ: ২০২৬ সালের ‘AI Impact Summit’-এর ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের “ডিজিটাল বিভাজন” দূর করা। ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এআই (AI) টুলগুলো যেন ‘ওপেন সোর্স’ হয় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে সহজে পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করা।
- DPI কূটনীতি: ফ্রান্সে (আইফেল টাওয়ার ও গ্যালারী লাফায়েত) UPI-এর সাফল্যকে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে ভারত-ফ্রান্সের ডিজিটাল সহযোগিতাকে বৈশ্বিক ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (DPI) একটি আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরা।
উপসংহার
“ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব এখন আর কেবল একে অপরের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন বৈশ্বিক সার্বভৌমত্বের যৌথ রূপরেখা (Co-designing Global Sovereignty) তৈরির একটি মাধ্যম। SMR-এর মাধ্যমে পারমাণবিক দায়বদ্ধতার জটিলতা সমাধান করে এবং Triangular Development Fund-এর মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে সমন্বিত করে, ভারত ও ফ্রান্স এই অস্থির বিশ্বে দুটি ‘স্থিতিশীল মেরু’ হিসেবে কাজ করতে পারে।”