ভাষা ম্যাটারস: ভারতে মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার

ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য কীভাবে একই সাথে একটি চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক সংহতির (social cohesion) চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে? বহুভাষিক শিক্ষা সংস্কারের প্রেক্ষাপটে আপনার উত্তরটি ব্যাখ্যা করুন। ২৫০ শব্দ (জিএস-১, ভারতীয় সমাজ)

প্রেক্ষাপট

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে, যার এবারের মূলভাব (Theme) ছিল “বহুভাষিক শিক্ষায় যুব কণ্ঠস্বর”, ইউনেস্কো (UNESCO) তাদের ভারত বিষয়ক সপ্তম শিক্ষা প্রতিবেদন (SOER) ২০২৫ প্রকাশ করেছে। “ভাষা ম্যাটারস: মাতৃভাষা ও বহুভাষিক শিক্ষা” শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি শিখন প্রক্রিয়ায় ভাষাগত পরিচয়ের গুরুত্বকে জাতীয় স্তরে নতুন করে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে।

ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ১,৩০০-এরও বেশি মাতৃভাষা এবং ১২১টি স্বীকৃত ভাষা রয়েছে। এই সুবিশাল বৈচিত্র্য ভারতের এক অনন্য জাতীয় সম্পদ।

সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বিধি:

  • ধারা ২৯(১): যে কোনও নাগরিক গোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার প্রদান করে।
  • ধারা ৩০: সংখ্যালঘুদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার অধিকার দেয়।
  • ধারা ৩৫০এ (350A): প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের জন্য রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
  • ধারা ৩৫০বি (350B): ভাষাগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগের সংস্থান রাখে।
  • অষ্টম তফশিল: বর্তমানে ভারতের ২২টি দাপ্তরিক ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া সংবিধানের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে সরকারি ভাষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলোচিত হয়েছে।

নীতিগত কাঠামো: সাংবিধানিক এই বিধানগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (NCF) ২০২২ ও ২০২৩-এ শিশুর গৃহভাষা বা মাতৃভাষাকে প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মাতৃভাষায় মানসম্মত শিক্ষা

ধারণা ও শিক্ষাতাত্ত্বিক ভিত্তি

  • মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (MTBMLE) পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাথমিক স্তরে শিশুর প্রথম ভাষা (মাতৃভাষা বা গৃহভাষা)-কে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে এবং সুশৃঙ্খলভাবে অন্যান্য ভাষা (আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক) পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • ইউনেস্কো (UNESCO) এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০—উভয়ই এই নীতিতে একমত যে, বুনিয়াদি শিক্ষা তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন শিশুকে তার পুরো বোধগম্য ভাষায় পড়ানো হয়। এটি শিক্ষার্থীর ধারণাগত স্পষ্টতা, পঠন-পাঠন এবং শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণকে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে।

জ্ঞানীয় ও বিকাশগত সুবিধাসমূহ

  • শক্তিশালী বুনিয়াদি সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান: মাতৃভাষায় শিক্ষাদান শুরু হলে শিশুরা কোনও অপরিচিত ভাষার পাঠোদ্ধারের অতিরিক্ত মানসিক চাপ ছাড়াই সরাসরি শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুর ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
  • শিক্ষার্থীর স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও স্কুলছুট রোধ: গ্রামীণ ও আদিবাসী স্কুলগুলোর তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও পড়াশোনা শেষ করার হার বৃদ্ধি করে; বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
  • আজীবন শিক্ষা ও উচ্চতর দক্ষতা: মাতৃভাষার মজবুত ভিত্তি পরবর্তী স্তরে অন্যান্য ভাষা এবং জটিল বিষয়গুলোতে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে।

NEP ২০২০ এবং NCF-এ নীতির প্রতিফলন

  • জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সুপারিশ করেছে যে, অন্তত পঞ্চম শ্রেণি এবং সম্ভব হলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে শিশুর গৃহভাষা বা স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করা উচিত।
  • জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (NCF) ২০২২ ও ২০২৩-এর মাধ্যমে এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বহুভাষিক শিক্ষণপদ্ধতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কারকে পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে।

ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা: শিখন ও ভাষার অসঙ্গতি

  • ভাষার বাধা: এনসিইআরটি (NCERT)-র তথ্যমতে, ভারতের প্রায় ৪৪% শিশু স্কুলে এমন একটি ভাষায় কথা বলে যা শিক্ষার মাধ্যম (Medium of Instruction) থেকে আলাদা। এটি তাদের শেখার পথে তাৎক্ষণিক এক ভাষাগত প্রাচীর তৈরি করে।
  • এই শিশুদের জন্য শিক্ষা একটি দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়: তাদের একই সাথে শিক্ষার মাধ্যমের পাঠোদ্ধার করতে হয় এবং শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু বুঝতে হয়। এর ফলে প্রায়ই তাদের বুনিয়াদি দক্ষতা দুর্বল থেকে যায়।
  • ক্রমবর্ধমান শিক্ষার ঘাটতি: প্রাথমিক স্তরে সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানের এই দুর্বলতা সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে, যা প্রভাবশালী ভাষাসংখ্যালঘু ভাষাভাষী শিশুদের মধ্যে এক বিশাল বৈষম্য তৈরি করে।
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব ও স্কুলছুটের ঝুঁকি: যারা ক্লাসের পড়া বুঝতে লড়াই করে, তারা ক্রমশ নিজেদের বিছিন্ন মনে করে এবং পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে আদিবাসী, গ্রামীণ এবং আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এর ফলে স্কুলছুটের প্রবণতা বেড়ে যায়।
  • সামাজিক স্তরবিন্যাস আরও প্রকট হওয়া: স্কুলে যখন কেবল প্রভাবশালী ভাষাগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন তা ভাষাগত সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করে এবং বিদ্যমান সামাজিক ও শিক্ষাগত বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

এখানে অনুচ্ছেদটির একটি সাবলীল, নির্ভুল এবং যথাযথ পরিভাষা সমৃদ্ধ বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো:

ভাষা’র গুরুত্ব

  • শিক্ষাগত সাম্য ও অন্তর্ভুক্তি: মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (MTBMLE) পদ্ধতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার একটি প্রধান কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তফসিলি জাতি (Dalit), আদিবাসী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো ভাষার অমিলের কারণে পিছিয়ে পড়বে না।
    • শিশুর গৃহভাষাকে শিক্ষার একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে স্কুলগুলো কেবল পাঠদানের কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষার্থীর সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশের স্থানে পরিণত হয়।
  • ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ: যখন একটি ভাষা হারিয়ে যায়, তখন তার সঙ্গে যুক্ত একটি স্বতন্ত্র বিশ্বদর্শন, মৌখিক ঐতিহ্য এবং আদিম জ্ঞানভাণ্ডারও বিলুপ্ত হয়।
    • ইউনেস্কো একে মানবতার সঞ্চিত জ্ঞানের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই শিক্ষা পদ্ধতি বিপন্ন ও সংখ্যালঘু ভাষাগুলোকে নথিভুক্ত, পুনরুজ্জীবিত এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যা ভারতের অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়ক।
  • সামাজিক সংহতি ও জাতীয় পরিচয়: কেবল হিন্দি বা ইংরেজি নয়, বরং সব ভাষাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া একটি বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-কে সুসংহত করে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে।
    • এটি সংবিধানের অষ্টম তফশিল এবং ভাষা-সংক্রান্ত অন্যান্য বিধানে প্রতিফলিত ভাষাগত বহুত্ববাদের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকেও সমর্থন করে।

প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা: আশাব্যঞ্জক কিছু দৃষ্টান্ত

  • ওড়িশার বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রম: ওড়িশা দীর্ঘ সময় ধরে একটি MTBMLE কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা ১৭টি জেলার ২১টি আদিবাসী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মাধ্যমে প্রায় ৯০,০০০ আদিবাসী শিশু এই ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে।
    • মূল্যায়ন অনুযায়ী, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পঠন-পাঠনের বোধগম্যতা, শ্রেণিকক্ষে সক্রিয়তা এবং স্কুলে টিকে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • তেলেঙ্গানা ও ডিজিটাল বহুভাষিক সম্পদ: তেলেঙ্গানায় দীক্ষা (DIKSHA) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আদিবাসী ও সংখ্যালঘু ভাষা সহ বিভিন্ন স্থানীয় ভাষায় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে পারছেন।
    • এটি প্রমাণ করে যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) কীভাবে বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারে।
  • জাতীয় ডিজিটাল ও ভাষা-প্রযুক্তি উদ্যোগ: পিএম ই-বিদ্যা (PM eVIDYA) এবং আদি বাণী (Adi Vaani) বুনিয়াদি শিক্ষার জন্য বহুভাষিক অডিও-ভিজ্যুয়াল এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট সরবরাহ করছে।
    • ভাষিণী (BHASHINI) এবং AI4Bharat-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত প্রযুক্তিগুলো কণ্ঠস্বর থেকে কণ্ঠস্বর অনুবাদ এবং টেক্সট-টু-স্পিচ টুলের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষাগুলোকে সমৃদ্ধ করছে। এই প্রযুক্তিগুলো বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণ এবং স্থানীয় ভাষায় কন্টেন্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বহুভাষিক মডেল বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাসমূহ

একটি বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উত্তরণের পথে বেশ কিছু কাঠামোগত এবং সামাজিক বাধা রয়েছে:

কাঠামোগত বাধা:

  • নীতিগত সীমাবদ্ধতা: অনেক রাজ্যে এখনও সুনির্দিষ্ট মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (MTB-MLE) কাঠামোর অভাব রয়েছে, যার ফলে এর বাস্তবায়ন বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে।
  • শিক্ষক সংকট: আদিবাসী ভাষায় দক্ষ এবং বহুভাষিক শিক্ষণপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের চরম ঘাটতি রয়েছে।
  • শিক্ষা উপকরণের গুণমান: সংখ্যালঘু ভাষাগুলোতে পাঠ্যপুস্তক এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির অভাব রয়েছে, অথবা সেগুলোর শিক্ষাগত মান সন্তোষজনক নয়।

আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ:

  • অভিভাবকদের পছন্দ: অনেক অভিভাবকই ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাকে সামাজিক উন্নতির একমাত্র পথ হিসেবে দেখেন, যা মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রতি এক ধরণের অনীহা তৈরি করে।
  • ভাষাগত আধিপত্য: হিন্দি বা ইংরেজির আধিপত্য আঞ্চলিক এবং আদিবাসী উপভাষাগুলোকে অবহেলিত করে রাখছে।

সম্পদের সীমাবদ্ধতা:

  • অর্থায়ন: এই ধরণের উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের বদলে প্রায়ই স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে চলে।
  • ডিজিটাল বিভাজন: ইন্টারনেট সংযোগের অসমতা দূরবর্তী এলাকাগুলোতে ডিজিটাল বহুভাষিক শিক্ষা পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথনির্দেশ: নীতি ও বাস্তবায়ন

ইউনেস্কো প্রতিবেদন এবং এনইপি (NEP) ২০২০-এর লক্ষ্যপূরণে একটি বহুমুখী কৌশল প্রয়োজন:

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার:

  • জাতীয় MTB-MLE মিশন: কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রচেষ্টায় সমন্বয় আনতে এবং সফল পাইলট প্রকল্পগুলোকে পদ্ধতিগত সংস্কারে রূপ দিতে একটি জাতীয় মিশন গঠন করা প্রয়োজন।
  • স্থানীয়করণ নীতি: রাজ্যগুলোকে তাদের নিজস্ব ভাষাগত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নীতি তৈরি করতে হবে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ:

  • নিয়োগে অগ্রাধিকার: স্থানীয় উপভাষায় সাবলীল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে এবং B.Ed.D.El.Ed. পাঠ্যক্রমে MTB-MLE নীতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • দক্ষতা বৃদ্ধি: শিক্ষকদের বহুভাষিক ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারে নিরন্তর প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

পাঠ্যক্রম ও সম্প্রদায়:

  • বহুভাষিক উপকরণ: সংখ্যালঘু ভাষা সহ সব স্তরের জন্য উচ্চমানের পাঠ্যপুস্তক ও ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।
  • আদিম জ্ঞানভাণ্ডার: শিক্ষার শেকড় সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তুতান্ত্রিক জ্ঞান এবং মৌখিক ইতিহাসকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • অভিভাবকদের অংশগ্রহণ: পাঠ্যক্রমের নকশা ও উপকরণ তৈরিতে অভিভাবক এবং সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠদের যুক্ত করতে হবে।

প্রযুক্তিগত ও আর্থিক অঙ্গীকার:

  • ডিজিটাল সরঞ্জামের বিস্তার: DIKSHA, PM eVIDYA, BHASHINI এবং AI4Bharat-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
  • টেকসই অর্থায়ন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ তৈরির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও নিবেদিত তহবিল বরাদ্দ করতে হবে।

উপসংহার

ভারতের এই ‘ভাষাগত মুহূর্ত’ শিক্ষাক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। ভাষাগত বৈচিত্র্য কোনও বোঝা নয়, বরং এটি সাম্য, অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন—যদি শিশুরা তাদের বোধগম্য ও আপন ভাষায় শিখতে পারে। এই পরিবর্তন কেবল একটি শিক্ষণতাত্ত্বিক পছন্দ নয়, বরং SDG 4 (মানসম্মত শিক্ষা) অর্জনের এক অপরিহার্য শর্ত, যা শিক্ষাকে প্রকৃত অর্থেই অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংস্কৃতিমনস্ক করে তুলবে।

Latest Articles