বালু উত্তোলন বিধিমালা এবং শাসনব্যবস্থা

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, National Chambal Sanctuary-তে অবৈধ খনির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত “বালু মাফিয়া” এবং নদী শাসনব্যবস্থার ভেঙে পড়ার বিষয়টি আবারও সবার নজরে এনেছে। উত্তর ভারতে নির্মাণ শিল্পের প্রসারের জন্য বালু অপরিহার্য হলেও, এর উত্তোলন এখন একটি নিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড থেকে সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। এটি সেতুর কাঠামোগত স্থায়িত্ব এবং জলজ প্রাণীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

1. আইনি মর্যাদা: একটি “গৌণ খনিজ”

ভারতে, Mines and Minerals (Development and Regulation) Act, 1957 (MMDR Act)-এর অধীনে খনিজগুলোকে ‘প্রধান’ (Major) এবং ‘গৌণ’ (Minor) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

  • গৌণ খনিজ: বালুকে একটি গৌণ খনিজ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
  • নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ: প্রধান খনিজগুলোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, গৌণ খনিজের ক্ষেত্রে নিয়ম তৈরি করা, রয়্যালটি রেট নির্ধারণ এবং তদারকি করার ক্ষমতা State Governments বা রাজ্য সরকারগুলোর হাতে থাকে।
  • সাংবিধানিক যোগসূত্র: এটি সপ্তম তপশিলের State List (List II) বা রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত, যদিও কেন্দ্র এর সংরক্ষণের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করে দিতে পারে।

2. পরিবেশগত ও ভৌত প্রভাব

অনিয়ন্ত্রিত বা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নদী ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি করে:

  • নদীবক্ষ ক্ষয়: অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ নিচে নেমে যায়, যার ফলে নদীপাড়ের ভাঙন ত্বরান্বিত হয় এবং নদীর চ্যানেল গভীর হয়ে যায়।
  • জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: চম্বল অঞ্চলে দেখা গেছে যে, বালু উত্তোলনের ফলে সেই বালুচরগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যা ঘড়িয়াল এবং কচ্ছপদের ডিম পাড়ার জন্য প্রয়োজন।
  • পানির গুণমান: পানিতে ঘোলাটে ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সূর্যালোক গভীরে পৌঁছাতে পারে না, যা জলজ উদ্ভিদ ও মাছের ক্ষতি করে।
  • অবকাঠামোর ঝুঁকি: পানির স্তর নিচে নামিয়ে এবং পাড় ক্ষয় করে, বালু উত্তোলন সেতু এবং পিলারের ভিত্তি দুর্বল করে দিতে পারে।

3. নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো: নির্দেশিকা এবং পর্যবেক্ষণ

পরিবেশের সাথে উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখতে MoEF&CC দুটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করেছে:

  • Sustainable Sand Mining Management Guidelines (SSMG) 2016: এটি “District Survey Report” (DSR)-এর ওপর গুরুত্ব দেয় যাতে এমন এলাকাগুলো শনাক্ত করা যায় যেখানে বালু উত্তোলন পরিবেশের ক্ষতি করবে না। এটি জোর দেয় যে, উত্তোলিত বালুর পরিমাণ যেন বার্ষিক পুনর্ভরণের (replenishment) হারের চেয়ে বেশি না হয়।
  • Enforcement & Monitoring Guidelines 2020: অবৈধ উত্তোলন রোধ করতে ড্রোন, যানবাহনের জিপিএস ট্র্যাকিং এবং নাইট ভিশন নজরদারির মতো প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারের সূচনা করা হয়েছে। এছাড়াও খনির লিজ নবায়নের আগে “Replenishment Studies” বা পুনর্ভরণ সমীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

4. এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স (EC) বা পরিবেশগত ছাড়পত্র

Deepak Kumar vs. State of Haryana (2012) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর:

  • বাধ্যতামূলক EC: এমনকি 5 হেক্টরের কম এলাকার গৌণ খনিজ উত্তোলনের জন্যও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • শ্রেণিবিভাগ: বড় প্রকল্পের (Category A) জন্য কেন্দ্র সরকারের (MoEF&CC) ছাড়পত্র প্রয়োজন, আর ছোট প্রকল্পের (Category B) ছাড়পত্র দেয় State Environment Impact Assessment Authority (SEIAA)
Q: ভারতে বালু উত্তোলন ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:

1. গৌণ খনিজের অবৈধ উত্তোলন রোধে নিয়ম তৈরির ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারগুলোর হাতে ন্যস্ত।

2. "Sustainable Sand Mining Management Guidelines" অনুযায়ী, সম্পদের স্থায়িত্ব প্রমাণের জন্য পুনর্ভরণ সমীক্ষা (replenishment study) করার পরই কেবল বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

3.
2012 সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, পাঁচ হেক্টরের কম এলাকার খনি লিজের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজন নেই।

ওপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কয়টি সঠিক?
(a)
Only one
(b) Only two
(c) All three
(d) None

সমাধান: উত্তর: (b)

বিবৃতি 1 সঠিক: MMDR Act, 1957-এর Section 23C রাজ্য সরকারগুলোকে খনিজের অবৈধ উত্তোলন, পরিবহন এবং মজুত রোধে নিয়ম তৈরির ক্ষমতা দেয়।

বিবৃতি 2 সঠিক: 2016 এবং 2020 উভয় নির্দেশিকাই জোর দেয় যে, নদীর স্বাস্থ্য রক্ষায় বালু উত্তোলন অবশ্যই District Survey Report এবং পুনর্ভরণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।

বিবৃতি 3 ভুল: Deepak Kumar Case (2012)-এ সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ হেক্টরের কম লিজ এলাকার জন্যও Environmental Clearance বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।

Practice Today’s MCQs

Latest Articles