ভারতের ভঙ্গুর মধ্যবিত্ত শ্রেণি: প্রকৃত গতিশীলতা ছাড়াই প্রবৃদ্ধি

India's Vulnerable Middle Class: Growth Without True Mobility

এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি নিম্নোক্ত UPSC Mains মডেল প্রশ্নটির উত্তর দিতে সক্ষম হবেন:

India’s growth story has reduced poverty but failed to ensure upward mobility. Examine in the context of the emerging ‘vulnerable middle class. ১৫ নম্বর (GS-3, অর্থনীতি)

ভূমিকা

  • ভারত দারিদ্র্য বিমোচনে চিত্তাকর্ষক উন্নতি করেছে এবং বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের (Targeted Welfare Schemes) মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রচলিত দারিদ্র্যসীমার (Poverty Lines) উপরে তুলে এনেছে। তবে এই অগ্রগতির আড়ালে একটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে—অনেকেই একটি ভঙ্গুর মধ্যবর্তী‘ (Vulnerable Middle) অবস্থানে আটকে আছেন, যারা স্বল্প আয়, চাকরির অস্থিরতা এবং সীমাবদ্ধ উর্ধ্বমুখী গতিশীলতার সম্মুখীন।
  • বিশ্বব্যাংকের (World Bank) সাম্প্রতিক একটি গবেষণা পত্রে শুধুমাত্র দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা গণনার পরিবর্তে, একটি শোভন জীবনযাত্রার মান (Decent Standard of Living) থেকে মানুষের দূরত্ব পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা গভীরতর অর্থনৈতিক ফাটলগুলোকে প্রকাশ্যে আনে।

প্রেক্ষাপট: দারিদ্র্যভিত্তিক পরিমাপের সীমাবদ্ধতা

বিশ্বব্যাংকের নিম্ন মধ্যমআয়ের দারিদ্র্যসীমার (Lower Middle-Income Poverty Line) নিচে থাকা ভারতীয়দের হার এক দশক আগের ৫০%-এর বেশি থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ৩০%- দাঁড়িয়েছে। ভর্তুকিযুক্ত খাদ্য, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (DBT) এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির (Financial Inclusion) মতো কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো এতে সহায়তা করেছে। তবে, দারিদ্র্যসীমা প্রকৃত পরিস্থিতির কেবল একটি আংশিক চিত্র তুলে ধরে।

  • দারিদ্র্যসীমা শুধুমাত্র এটি নির্দেশ করে যে ব্যক্তি ন্যূনতম বেঁচে থাকার সীমা (Minimum Survival Threshold) অতিক্রম করেছে কিনা, কিন্তু এটি সেই সীমার উপরে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার মান প্রকাশ করে না। দারিদ্র্যসীমার ঠিক উপরে থাকা অনেক পরিবারই এখনও আয়ের অস্থিরতা, স্বল্প সঞ্চয় এবং উচ্চমাত্রার ঝুঁকির (Vulnerability) মধ্যে রয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থানকে অত্যন্ত ভঙ্গুর করে তুলেছে।
  • বিশ্বব্যাংকের নতুন কাঠামো: এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বিশ্বব্যাংক গতানুগতিক দরিদ্র বনাম দরিদ্র” (Poor vs Non-poor) শ্রেণিবিভাগের বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা একটি পর্যায়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি (Spectrum-based Approach) প্রস্তাব করেছে, যেখানে কল্যাণ পরিমাপ করা হবে একজন ব্যক্তি একটি যুক্তিসঙ্গত জীবনযাত্রার মান থেকে কতটা দূরে রয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে। এর ফলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভঙ্গুরতার বিভিন্ন স্তরগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

মধ্যবিত্ত শ্রেণি (Middle-Income Class – MIC) সম্পর্কে

ভারতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি (MIC)-এর কোনও একক সংজ্ঞা নেই, তবে সাধারণভাবে এটিকে এমন একটি সামাজিকঅর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ গোষ্ঠী হিসেবে ধরা হয় যাদের দারিদ্র্যে পতনের ঝুঁকি কম

  • Organisation for Economic Co-operation and Development অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় $10–$100, তারা মধ্যবিত্ত।
  • People Research on India’s Consumer Economy (PRICE) অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় লাখ৩০ লাখ (২০২০২১), তারা MIC-এর অন্তর্ভুক্ত।

শ্রেণিভিত্তিক বৈশিষ্ট্য

  • নিম্ন মধ্যবিত্ত (Lower Middle Class): এরা তাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভোগ্যপণ্য, যানবাহন গৃহস্থালী সামগ্রীতে, ফলে সঞ্চয়ের সুযোগ কম থাকে।
  • উচ্চ মধ্যবিত্ত (Upper Middle Class): এরা বিলাসবহুল অপ্রয়োজনীয় পণ্যে (যেমন কম্পিউটার, এয়ার কন্ডিশনার) ব্যয় করতে সক্ষম এবং তাদের আর্থিক নমনীয়তা বেশি
  • বাস্তবিক দুর্বলতা (Vulnerability): e-Shram portal-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৪.১১% অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের আয় ১০,০০০এর নিচে, যা অস্থিতিশীল আয় সীমিত জীবনমান উন্নতি নির্দেশ করে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিবর্তনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রভাব

. অর্থনীতির ওপর প্রভাব

  • ভোগব্যয় বৃদ্ধির ইঞ্জিন: ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের আয় ভারতের ভোক্তা বাজারের (Consumer Landscape) ধরন বদলে দিচ্ছে। এটি পোশাক, যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার পণ্যের পেছনে ব্যয় বৃদ্ধি করছে। PRICE-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো প্রায় . ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ভোগব্যয় পরিচালনা করবে।
  • নতুন বাজার সৃষ্টি উদ্যোক্তা: শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশীয় ও বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি বিশাল আকাঙ্ক্ষাভিত্তিক বাজার (Aspirational Market) হিসেবে কাজ করছে। এটি স্টার্ট-আপ এবং ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর চাহিদা বাড়িয়ে উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি: একটি স্থিতিশীল মধ্যবিত্ত সমাজ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়—যা দীর্ঘমেয়াদী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের (Inclusive Development) জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পুঁজি তৈরি করে।

. নগর পরিকাঠামো নগর উন্নয়ন

  • টিয়ার টিয়ার শহরগুলোর বিকাশ: মধ্যবিত্তের বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা ছোট শহরগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কেন্দ্রে পরিণত করছে, যা বড় মেগাসিটির বাইরেও রিটেইল এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
  • আকাঙ্ক্ষাভিত্তিক শহুরে স্থানের উত্থান: মধ্যবিত্তের ভোগব্যয়ের ধরন ছোট শহরগুলোতে শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স এবং ক্যাফে কালচারের বিস্তার ঘটিয়েছে, যা ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
  • আবাসিক জীবনযাত্রার লোকতন্ত্রীকরণ: এক সময়ের অভিজাত গেটেড কমিউনিটি সংস্কৃতি এখন টিয়ার-২ শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা মধ্যবিত্তের আবাসন সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

. সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব

  • প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে, বৃহত্তর মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, উন্নত সুশাসন এবং জাতীয় স্তরে উন্নত আর্থ-সামাজিক ফলাফলের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
  • সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন: ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির সাথে সাথে মধ্যবিত্ত সমাজ গণতান্ত্রিক আদর্শ, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে প্রাধান্য দেয়। তারা পরিবেশ সচেতনতা প্রদর্শন করে এবং নাগরিক জীবনে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি প্রগতিশীল সামাজিক ধারা (Progressive Social Feedback Loop) তৈরি করে।

ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

. অর্থনৈতিক আর্থিক চাপ

  • মুদ্রাস্ফীতির চাপ: বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান খরচ ব্যয়যোগ্য আয় (Disposable Income) কমিয়ে দিচ্ছে। একটি বড় চিকিৎসা সংকট কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারকে পুনরায় দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
  • ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা: গৃহস্থালীর আর্থিক সঞ্চয় জিডিপির %- নেমে এসেছে, বিপরীতে অসুরক্ষিত ঋণ (Unsecured Borrowing) বাড়ছে। সম্পদ তৈরির বদলে এখন সাধারণ ভোগব্যয়ের জন্য ক্রেডিট বা ঋণ ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • সুবিধা ছাড়া কর প্রদান: মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রধান করদাতা (Taxpayer) হওয়া সত্ত্বেও তারা সরাসরি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা বিশেষ প্রণোদনা পায় না, যা নিম্নবিত্তরা লক্ষ্যভিত্তিক কল্যাণের মাধ্যমে পেয়ে থাকে।

. কাঠামোগত প্রযুক্তিগত বাধা

  • অটোমেশনের ফলে কর্মচ্যুতি: এআই (AI) এবং অটোমেশন ব্যাংকিং, আইটি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মধ্যবর্তী স্তরের পেশাদার চাকরিগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
  • বেকারত্ব সংকট: যুব বেকারত্ব (প্রায় ৪৫%) এবং স্নাতক পাস করাদের বেকারত্বের হার (প্রায় ২৯%) নির্দেশ করে যে, শিক্ষা এখন আর উর্ধ্বমুখী গতিশীলতার (Upward Mobility) গ্যারান্টি নয়।
  • কৃষিতে বিপরীত অভিবাসন (Reverse Migration): ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে স্থবিরতার কারণে ২০১৬-২০২১ সালের মধ্যে ২.৪ কোটি চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে, ফলে অনেক কর্মী পুনরায় স্বল্পউৎপাদনশীল কৃষি কাজে ফিরে যাচ্ছে।

. সামাজিক চ্যালেঞ্জ

  • মানব উন্নয়ন ঘাটতি: ভারতে শিশুদের শীর্ণতা (Child Wasting) এবং খর্বতা (Stunting)-এর উচ্চ হার ভবিষ্যতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর উন্নতির সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।
  • সামাজিক সীমাবদ্ধতা: পিতৃতান্ত্রিক প্রথা এখনও মধ্যবিত্ত নারীদের পেশাগত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা পারিবারিক আয়ের ভিত্তি সংকুচিত করে।

মধ্যবিত্তের প্রতি নীতিগত অবহেলার কারণসমূহ

  • স্বনির্ভরতার মিথ: নীতিনির্ধারকরা মনে করেন মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিস্থাপক এবং তাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। এটি একটি ভুল ধারণা (Misconception) যা পরোক্ষ কর ও মুদ্রাস্ফীতির চাপকে উপেক্ষা করে।
  • বৈচিত্র্যময় গঠন: মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরকারি চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে গিগ ওয়ার্কার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এদের জন্য নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করা কঠিন।
  • রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের অভাব: মধ্যবিত্তরা সাধারণত সংগঠিত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Group) হিসেবে কাজ করে না এবং তাদের ভোটদানের হারও তুলনামূলকভাবে কম।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতা: প্রতি বছর ১.২ কোটি যুবক শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত চাকরির অভাবে তারা কৃষিতে ফিরে যাচ্ছে, যা জাতীয় উৎপাদনে (Output) মাত্র ১৮% অবদান রাখে।
  • শীর্ষে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া: ভারতের শীর্ষ ১% মানুষ জাতীয় আয়ের ২২%-এর বেশি দখল করে রেখেছে, যা মধ্যবিত্তের উদ্বেগের প্রতি রাজনৈতিক মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
  • নীতি কাঠামোতে কম প্রতিনিধিত্ব: নীতি নির্ধারণী সংস্থাগুলো মূলত বড় ব্যবসায়ী লবি এবং গ্রামীণ নির্বাচনী স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়, ফলে মধ্যবিত্তের সমস্যাগুলো প্রান্তিক (Marginalised) থেকে যায়।

ভবিষ্যতের পথনির্দেশ: প্রবৃদ্ধি গতিশীলতার মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন

মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে একটি স্থায়ী ভঙ্গুর স্তরে” (Vulnerable Layer) পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন:

  • উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: সরকারকে Make in India এবং PLI (Production Linked Incentive) প্রকল্পের মাধ্যমে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে, যাতে প্রতি বছর শ্রমবাজারে আসা . কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। একইসাথে ন্যূনতম মজুরি সংশোধন ও খাত-ভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে মজুরি ও উৎপাদনশীলতার সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান জোরদার: বর্তমানে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ১০%-এর কম, যা বাড়াতে হবে। এর জন্য লেবার কোড (Labour Codes) ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রম আইন সহজ করা, MSME খাতের প্রসার এবং e-Shram পোর্টালে নিবন্ধিত অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য EPF, ESI ও স্বাস্থ্য বিমার মতো সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) নিশ্চিত করতে হবে।
  • মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ নীতি প্রণোদনা: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের ওপর মধ্যবিত্তনির্দিষ্ট ট্যাক্স রিবেট চালু করা, PMAY (Pradhan Mantri Awas Yojana)-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসনে ভর্তুকি দেওয়া এবং সরাসরি সুবিধা নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারের সংস্কার প্রয়োজন।
  • উন্নত কল্যাণ পরিমাপক গ্রহণ: NITI Aayog এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) বিশ্বব্যাংকের ওয়েলবিইং স্পেকট্রাম‘ (Well-being Spectrum) মডেল গ্রহণ করতে হবে। গতানুগতিক দারিদ্র্যসীমার বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক গতিশীলতা (Mobility) পরিমাপ করতে হবে।
  • অটোমেশন দক্ষতার ঘাটতি মোকাবেলা: আইটি, ব্যাংকিং ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো অটোমেশনঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোর জন্য Skill IndiaPMKVY-এর অধীনে দেশজুড়ে রিস্কিলিং (Reskilling) প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে এআই (AI) এবং গ্রিন টেকের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে।
  • ঋণ হ্রাস স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি: RBI-এর প্রচারণার মাধ্যমে আর্থিক সাক্ষরতা (Financial Literacy) বাড়ানো, অসুরক্ষিত ঋণের লাগাম টানা এবং দীর্ঘমেয়াদী আমানতের ওপর কর ছাড় দিয়ে সঞ্চয় উৎসাহিত করতে হবে, যাতে জিডিপির ৩৮% পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া গৃহস্থালী ঋণ কমানো যায়।

উপসংহার

ভারতের উন্নয়নকে এখন কেবল দারিদ্র্য বিমোচনের গণ্ডি পেরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ মধ্যবিত্ত শ্রেণি (Middle-income Class) গঠনে মনোনিবেশ করতে হবে। প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং উর্ধ্বমুখী গতিশীলতার (Upward Mobility) মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা একটি ভঙ্গুর মধ্যবিত্তের উত্থান রোধে এবং প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়নের (Sustainable Development) জন্য অপরিহার্য।

Latest Articles