রঙালি বিহু এবং ভারতের নবান্ন উৎসব

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি অসমে রঙালি বিহু (যা বোহাগ বিহু নামেও পরিচিত) অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে শুরু হয়েছে । এটি অসমীয়া নববর্ষ এবং বসন্তকালীন বীজ বপন মরসুমের সূচনা করে । এই সাংস্কৃতিক মাইলফলকটি ভারতের অন্যান্য প্রধান নবান্ন এবং নববর্ষের উৎসবের সাথে একই সময়ে পালিত হয়, যেমন পাঞ্জাবের বৈশাখী, পশ্চিমবঙ্গের পহেলা বৈশাখ, তামিলনাড়ুর পুথান্ডু এবং কেরালার বিষু। এটি আমাদের দেশের বৈচিত্র্যময় অথচ ঐক্যবদ্ধ কৃষি ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন ।

১. রঙালি বিহু: অসমের প্রাণ

অসমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসব হলো বিহু, যা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কৃষিভিত্তিক জীবনধারার সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে । ধানের ফসল চক্রের বিভিন্ন পর্যায়কে চিহ্নিত করতে বছরে তিনবার এটি পালিত হয় ।

বিহুর তিনটি ধরন:

  • রঙালি বা বোহাগ বিহু (এপ্রিল): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিহু, যা অসমীয়া নববর্ষ এবং বীজ বপনের মরসুম শুরু করে । এটি আনন্দের উৎসব (‘রং’ মানে আনন্দ) এবং সাত দিন ধরে চলে (সাত বিহু) ।
    • গোরু বিহু: গবাদি পশুর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য উৎসর্গ করা হয় ।
    • মানুহ বিহু: মানুষ নতুন পোশাক (ঐতিহ্যবাহী গামোসা সহ) পরিধান করে এবং বড়দের আশীর্বাদ নেয় ।
  • কঙালি বা কাতি বিহু (অক্টোবর): এটি একটি গম্ভীর অনুষ্ঠান। ক্রমবর্ধমান শস্যকে রক্ষার প্রার্থনায় ধান ক্ষেতে প্রদীপ (সাকি) জ্বালানো হয় ।
  • ভোগালি বা মাঘ বিহু (জানুয়ারি): এটি ফসল কাটার মরসুমের সমাপ্তি চিহ্নিত করে । এটি ভোজের উৎসব (‘ভোগা’ মানে খাওয়া)। অস্থায়ী খড়ের ঘর বা ভেলাঘর-এ সামাজিক ভোজের আয়োজন করা হয় এবং মেজি (অগ্নিশিখা) জ্বালানোর মাধ্যমে এই উৎসব শেষ হয় ।

সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ:

  • বিহু নাচ: নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরিবেশিত একটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত লোকনৃত্য । ২০২৩ সালে UNESCO একে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ বা ‘অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ।
  • বাদ্যযন্ত্র: ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র যেমন ঢোল, পেপা (মহিষের শিং দিয়ে তৈরি বাঁশি), গগনা এবং টোকা (বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র) ব্যবহার করা হয় ।
  • খাদ্যদ্রব্য: পিঠা, লারু এবং জলপান-এর মতো বিশেষ সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয় ।

২. ভারতজুড়ে নবান্ন বা ফসল কাটার উৎসব

উৎসবঅঞ্চল / রাজ্যমূল গুরুত্ব
বৈশাখীপাঞ্জাব ও হরিয়ানারবি শস্য কাটা এবং খালসা পন্থ (১৬৯৯) প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে পালিত হয় ।
বিষুকেরালাবিষুকানি (সকালে প্রথম দর্শন) এবং হলুদ কানি কোন্না ফুলের জন্য পরিচিত ।
পুথান্ডুতামিলনাড়ুতামিল নববর্ষ; ঘরবাড়ি কোলাম (চালের গুঁড়োর নকশা) দিয়ে সাজানো হয় ।
পহেলা বৈশাখপশ্চিমবঙ্গবাঙালি নববর্ষ; ঘর পরিষ্কার এবং ব্যবসার নতুন খাতা (হালখাতা) দিয়ে শুরু হয় ।
পনা সংক্রান্তিওড়িশা‘মহা বিষুব সংক্রান্তি’ নামেও পরিচিত; ওড়িয়া নববর্ষের সূচনা ।
গুড়ি পাদওয়ামহারাষ্ট্রনববর্ষ পালন; বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বাড়ির বাইরে গুড়ি (সজ্জিত লাঠি) তোলা হয় ।
উগাদিঅন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটকছয়টি স্বাদের মিশ্রণে তৈরি উগাদি পাছাদি পদের জন্য বিখ্যাত ।
নুয়াখাইপশ্চিম ওড়িশা‘নতুন ধান’ কাটার উৎসব, সাধারণত আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে হয় ।
ওয়াঙ্গালামেঘালয় (গারো উপজাতি)এটি ‘১০০ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত; ভালো ফলনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় ।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন: 
1. রঙালি বিহু অসমের ফসল কাটার সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং 'মেজি' নামক সামাজিক অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে উদযাপন করা হয় ।
2. কেরালার 'বিষু' উৎসবে 'বিষুকানি' দেখা হয়, যাতে চাল, ফল এবং ফুলের মতো শুভ জিনিস রাখা থাকে ।
3. মেঘালয়ের গারো উপজাতির প্রধান নবান্ন উৎসব হলো ওয়াঙ্গালা, যা '১০০ ঢোলের উৎসব' নামেও পরিচিত ।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 2 এবং 3
(c) কেবল 1 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
সমাধান: (b) কেবল 2 এবং 3