ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণা

প্রেক্ষাপট

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ মহাকাশ বিভাগের জন্য ১৩,৪১৬.২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো গভীর মহাকাশ অভিযান, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান (Astrophysics) এবং বড় টেলিস্কোপ অবকাঠামো তৈরি করা। এটি ভারতের মৌলিক বিজ্ঞান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি মানমন্দিরের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

প্রধান বাজেট ঘোষণা এবং অবকাঠামো

উদ্যোগঅবস্থানতাৎপর্য
৩০-মিটার ন্যাশনাল লার্জ অপটিক্যাল-ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ (NLOT)ভারত (স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে)এটি ভারতকে অপটিক্যাল জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে যাবে।
ন্যাশনাল লার্জ সোলার টেলিস্কোপ (NLST)প্যানগং লেকের কাছে, লাদাখউচ্চ-রেজোলিউশনের সূর্য গবেষণা এবং মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে সাহায্য করবে।
হিমালয়ান চন্দ্র টেলিস্কোপ (HCT)হানলে, লাদাখনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (Control system) আধুনিকীকরণ।
COSMOS-2 প্ল্যানেটোরিয়ামঅমরাবতী, অন্ধ্রপ্রদেশসাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসার।
জায়ান্ট মেট্রেওয়েভ রেডিও টেলিস্কোপ (GMRT)পুনের কাছেবিশ্বের বৃহত্তম নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে।

ভারতের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ

  • তহবিলের অপব্যবহার: প্রকৃত ব্যয় প্রায়ই বাজেট বরাদ্দের চেয়ে কম হয়, যার ফলে প্রকল্পে বিলম্ব ঘটে।
  • বিদেশি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা: নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোর জন্য ভারত বিদেশের ওপর নির্ভরশীল:
    • উচ্চ-রেজোলিউশন অপটিক্যাল জ্যোতির্বিজ্ঞান।
    • উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও পর্যবেক্ষণ।
    • সাব-মিলিমিটার জ্যোতির্বিজ্ঞান (এই রেঞ্জে ভারতের কোনো টেলিস্কোপ নেই)।
  • আন্তর্জাতিক টেলিস্কোপে সীমিত প্রবেশাধিকার: বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব গবেষকদের বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
  • প্রশাসনিক বাধা: বিদেশে টেলিস্কোপের সময়ের অংশীদারিত্ব কেনার মতো উদ্ভাবনী মডেলে আমলাতান্ত্রিক অনীহা।
  • মেধা পাচার (Brain drain): ভারতে উন্নত গবেষণাগার বা সুবিধার অভাবে দক্ষ বিজ্ঞানীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

শুধুমাত্র আমেরিকা, চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্যোতির্বিজ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং মহাকাশ ও ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত টেলিস্কোপগুলোর ক্রমাগত আধুনিকীকরণ করে চলেছে।

কৌশলগত লক্ষ্য

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান মেগা সায়েন্স ভিশন ২০৩৫

এর অধীনে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো হলো:

  • সাব-মিলিমিটার টেলিস্কোপ (প্রক্রিয়াধীন)।
  • পরবর্তী প্রজন্মের মানমন্দির (Next-generation observatories) ।
  • এআই (AI) চালিত ডেটা প্রসেসিং কেন্দ্র
প্রশ্ন: 

ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণা ব্যবস্থা সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:


1. জায়ান্ট মেট্রেওয়েভ রেডিও টেলিস্কোপ (GMRT) হলো বিশ্বের বৃহত্তম নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে।

2. ভারতের বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ সচল সাব-মিলিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের টেলিস্কোপ রয়েছে।

3. ন্যাশনাল লার্জ সোলার টেলিস্কোপ লাদাখের প্যানগং লেকের কাছে স্থাপন করা হচ্ছে।

4. মহাকাশ খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়াতে IN-SPACe প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

ওপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক?

(a) কেবল 1, 3 এবং 4
(b) কেবল 1 এবং 2
(c) কেবল 2, 3 এবং 4
(d) 1, 2, 3 এবং 4

সঠিক উত্তর: (a)

ব্যাখ্যা:
বিবৃতি 1 সঠিক: পুনের কাছে অবস্থিত GMRT বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে যা নিম্ন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। এটি পালসার এবং গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিবৃতি 2 সঠিক নয়: ভারতের বর্তমানে কোনো সাব-মিলিমিটার টেলিস্কোপ নেই। এটি ২০৩৫ ভিশনের অধীনে কেবল প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই বিবৃতিটি ভুল।
বিবৃতি 3 সঠিক: বাজেট ২০২৬-২৭-এ লাদাখের প্যানগং লেকের কাছে সৌর গবেষণার জন্য এই টেলিস্কোপ নির্মাণের তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিবৃতি 4 সঠিক: মহাকাশ খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে ২০২০ সালে IN-SPACe প্রতিষ্ঠা করা হয়।

Practice Today’s MCQs