ভারত-গ্রিস প্রতিরক্ষা সম্পর্ক

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, গ্রিসের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াসের সাথে নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

১. কৌশলগত সম্পর্কের বিবর্তন

  • ১৯৯৮ সালের সমঝোতা স্মারক (MoU): দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব (২০২৩): ২০২৩ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এথেন্স সফরের সময় এই সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়, যেখানে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
  • ইউরোপের প্রবেশদ্বার: গ্রিসকে বর্তমানে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের প্রধান কৌশলগত ভিত্তি এবং ভারতমধ্যপ্রাচ্যইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (IMEC)-এর প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২. যৌথসামরিক মহড়া এবং আন্তঃক্রিয়াশীলতা

বিমান বাহিনী সহযোগিতা:

  • ইনিওখোস (Exercise INIOCHOS) মহড়া: গ্রিসের আন্দ্রাভিদা বিমান ঘাঁটিতে হেলেনিক বিমান বাহিনী আয়োজিত এই বহুজাতিক মহড়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) এখন নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
  • তরঙ্গ শক্তি মহড়া (২০২৪): গ্রিস তাদের F-16 যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের বৃহত্তম বহুজাতিক বিমান মহড়ায় অংশ নিয়েছিল, যা দুই দেশের সামরিক সমন্বয়ে একটি বড় অগ্রগতি।

নৌবাহিনী সহযোগিতা:

  • প্রথম সামুদ্রিক মহড়া (২০২৫): ভারতীয় নৌবাহিনী (আইএনএস ত্রিকান্দ) এবং হেলেনিক নৌবাহিনী সালামিস নৌ ঘাঁটির কাছে ভূমধ্যসাগরে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক মহড়া পরিচালনা করে।
  • বন্দর পরিদর্শন: ক্রেট দ্বীপের সুদা বে (Souda Bay), যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো (NATO) নৌ ঘাঁটি, সেখানে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন সামুদ্রিক লজিস্টিক সহযোগিতার গভীরতাকে প্রমাণ করে।

থলবাহিনী সহযোগিতা:

  • যৌথ সার্ভিস স্টাফ টক: দীর্ঘমেয়াদী সামরিক যোগাযোগ এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমন্বয় করার জন্য ২০২৬ সালের শুরুতে এই প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

৩. প্রতিরক্ষা-শিল্প এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা

  • যৌথ উদ্যোগ: উভয় দেশ ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
  • রক্ষণাবেক্ষণ মেরামত: গ্রিসের বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা ভারত প্রদান করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে, কারণ উভয় দেশের কিছু বিমান প্ল্যাটফর্মে মিল রয়েছে।
  • উদ্ভাবন: MCP-2026 চুক্তিতে “বিশেষ অভিযান” (Special Operations) এবং প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কেন্দ্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৪. কৌশলগত এবং বহুপাক্ষিক সারিবদ্ধতা

  • সামুদ্রিক নিরাপত্তা: উভয় দেশই একটি “মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক” অঞ্চল এবং ভূমধ্যসাগরে নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছে, যা কঠোরভাবে UNCLOS (সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন) মেনে চলে।
  • পারস্পরিক স্বার্থ: গ্রিস ধারাবাহিকভাবে কাশ্মীর ইস্যুতে এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। অন্যদিকে, ভারত সাইপ্রাস ইস্যুতে গ্রিসকে সমর্থন করে।
  • সন্ত্রাসবাদ দমন: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলিকে লক্ষ্য করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

৫. গ্রিস– মানচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

এটি দক্ষিণপূর্ব ইউরোপে, ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত।এটি তিনটি সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত:এজিয়ান সাগর (পূর্বে)আয়নীয় সাগর (পশ্চিমে)ভূমধ্যসাগর (দক্ষিণে)সীমানা:উত্তর – আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়াপূর্ব – তুরস্কগুরুত্বপূর্ণ প্রণালী:দারদানেলস (এজিয়ান সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে যুক্ত করে)বসফরাস (মারমারা সাগরকে কৃষ্ণ সাগরের সাথে যুক্ত করে)(একত্রে এগুলিকে তুর্কি প্রণালী বলা হয় – যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)প্রধান দ্বীপপুঞ্জ:ক্রেট – বৃহত্তম দ্বীপ (সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত)রোডস – তুরস্কের কাছে অবস্থিতসাইক্লেডস এবং ডোডেকানিজ দ্বীপপুঞ্জ (এজিয়ান সাগরে)উপদ্বীপ:পেলোপোনিস – যা করিন্থ খাল দ্বারা বিচ্ছিন্ন।কৌশলগত গুরুত্ব:কৃষ্ণ সাগর এবং ভূমধ্যসাগরের বাণিজ্য পথের প্রবেশদ্বার।ন্যাটো (NATO) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য।  
 প্রশ্ন: ভারত ও গ্রিসের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:

1. ভারতীয় নৌবাহিনী এবং হেলেনিক নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সামুদ্রিক মহড়া ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগরে পরিচালিত হয়েছিল।

2. গ্রিস আন্তর্জাতিক সৌর জোটের (ISA) একজন স্বাক্ষরকারী এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ সমর্থন করে।

3. ‘এক্সারসাইজ ইনিওখোস’ (Exercise INIOCHOS) হলো ভারত ও গ্রিসের বিশেষ বাহিনীর মধ্যে প্রতি বছর পরিচালিত একটি দ্বিপাক্ষিক থলবাহিনী মহড়া।

ওপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
a) কেবল 1 এবং 2
b) কেবল 2 এবং 3
c) কেবল 1 এবং 3
d) 1, 2 এবং 3

সঠিক উত্তর: (a) (1 এবং 2)

ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, ভারতীয় নৌবাহিনী (INS Trikand) এবং হেলেনিক নৌবাহিনী সফলভাবে ভূমধ্যসাগরে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক নৌ মহড়া সম্পন্ন করেছে।
• বিবৃতি 2 সঠিক: গ্রিস আইএসএ (ISA) কাঠামো অনুমোদন করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে ভারতের প্রধান পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলোকে (নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার এবং কাশ্মীর ইস্যু) সমর্থন করে।
• বিবৃতি 3 ভুল: ‘এক্সারসাইজ ইনিওখোস’ গ্রিস দ্বারা আয়োজিত একটি বহুজাতিক বিমান বাহিনী মহড়া, এটি দ্বিপাক্ষিক থলবাহিনী মহড়া নয়। ভারত এতে Su-30 MKI যুদ্ধবিমান নিয়ে অংশ নিয়েছিল।

Practice Today’s MCQs