প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি, জেনেভায় চলমান প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট–শেয়ারিং (PABS) ব্যবস্থার আলোচনার সময়, ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি জোট “গ্রুপ ফর ইক্যুইটি”-তে যোগ দিয়েছে।
- ভারতের দাবি হলো, এই ব্যবস্থার অধীনে সুবিধা ভাগ করে নেওয়ার একটি আইনত বাধ্যতামূলক পদ্ধতি থাকতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার লক্ষ্য হলো ডব্লিউএইচও মহামারী চুক্তির “রুল বুক” বা পরিশিষ্ট চূড়ান্ত করা, যা ২০২৫ সালের মে মাসে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিল।
মহামারী চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য
মহামারী চুক্তি হলো একটি ঐতিহাসিক এবং আইনত বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি। এটি তৈরি করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
- আইনি ভিত্তি: এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৩ সালের তামাক নিয়ন্ত্রণ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (FCTC) এর পর এটি ডব্লিউএইচও-র ইতিহাসের দ্বিতীয় চুক্তি।
- প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট–শেয়ারিং (PABS) সিস্টেম: এটি এই চুক্তির “প্রাণ”। এতে বলা হয়েছে যে, দেশগুলোকে দ্রুত মহামারীর সম্ভাবনা রয়েছে এমন জীবাণু বা প্যাথোজেন সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করতে হবে। এর বিনিময়ে, এই তথ্য ব্যবহারকারী উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকে তাদের মহামারীর ওষুধের ২০% উৎপাদন (১০% অনুদান হিসেবে এবং ১০% সাশ্রয়ী মূল্যে) ডব্লিউএইচও-কে দিতে হবে যাতে তা সবার মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিতরণ করা যায়।
- “ওয়ান হেলথ” (One Health) পদ্ধতি: এই চুক্তিটি স্বীকার করে যে ৭৫% সংক্রামক রোগ পশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এটি মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করে যাতে রোগের প্রাদুর্ভাব আগেই শনাক্ত করা যায়।
- সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা: গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এটি ডব্লিউএইচও-কে জাতীয় পর্যায়ে লকডাউন, বাধ্যতামূলক টিকা বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা দেয় না। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র তার নিজস্ব জনস্বাস্থ্য নীতির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখবে।
- প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: * গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন অ্যান্ড লজিস্টিকস (GSCL) নেটওয়ার্ক: চিকিৎসা সরঞ্জামের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করার জন্য।
- সমন্বয়কারী আর্থিক ব্যবস্থা: উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ল্যাবরেটরি এবং নজরদারি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য।
ভারতের অবস্থান ও উদ্বেগ
ভারত এই আলোচনায় গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতের মূল লক্ষ্য তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে:
১. দানের বদলে অধিকার (Equity over Charity): ভারত সুবিধা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে “স্বেচ্ছামূলক” পদ্ধতির বিরোধিতা করে। ভারতের দাবি, ওষুধ কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি এবং পণ্য শেয়ার করার জন্য আইনত বাধ্য করতে হবে।
২. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: ভারত হাইলাইট করেছে যে, যদি উন্নয়নশীল দেশগুলো স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল না পায়, তবে শুধু প্যাথোজেন তথ্য শেয়ার করা অর্থহীন।
৩. প্রথাগত চিকিৎসা: ভারত সফলভাবে মহামারী প্রস্তুতির কাঠামোর মধ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতিকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে।
Q: 'ডব্লিউএইচও মহামারী চুক্তি' এবং 'PABS সিস্টেম' এর পরিপ্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. মহামারী চুক্তি হলো ডব্লিউএইচও সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আলোচিত প্রথম আইনত বাধ্যতামূলক দলিল।
2. PABS সিস্টেমের অধীনে, ওষুধ প্রস্তুতকারকদের মহামারীর জরুরি অবস্থার সময় ডব্লিউএইচও-র জন্য তাদের উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ সংরক্ষণ করতে হবে।
3. এই চুক্তিটি ডব্লিউএইচও-কে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) চলাকালীন সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে লকডাউন এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা দেয়।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কয়টি সঠিক?
A) মাত্র একটি
B) মাত্র দুটি
C) তিনটিই সঠিক
D) কোনটিই নয়
সমাধান: সঠিক উত্তর: (A) (মাত্র একটি)
• বিবৃতি 1 ভুল: এটি ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে একটি আইনত বাধ্যতামূলক দলিল হলেও এটি দ্বিতীয় চুক্তি। প্রথমটি ছিল ২০০৩ সালে গৃহীত তামাক নিয়ন্ত্রণ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (FCTC)।
• বিবৃতি 2 সঠিক: PABS সিস্টেমের একটি বিধান রয়েছে যেখানে নির্মাতারা তাদের ভ্যাকসিন এবং ওষুধের ২০% ডব্লিউএইচও-কে দেবে (১০% অনুদান, ১০% সাশ্রয়ী মূল্যে)।
• বিবৃতি 3 ভুল: এই চুক্তি স্পষ্টভাবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে। এতে বলা হয়েছে যে ডব্লিউএইচও-র কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করার বা লকডাউন, টিকা বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক করার কোনও ক্ষমতা নেই।