এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি UPSC মেইনস-এর এই মডেল প্রশ্নটি সমাধান করতে পারবেন:
ক্রিটিক্যাল মিনারেলস বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হলো একবিংশ শতাব্দীর নতুন তেল। শক্তি রূপান্তর (Energy Transition), শিল্প নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারতের বিবর্তনীয় ক্রিটিক্যাল মিনারেলস কৌশলটি পরীক্ষা করুন। (২৫০ শব্দ, ১৫ নম্বর, GS-3, অর্থনীতি)
প্রেক্ষাপট
- ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট একটি নিষ্পত্তিমূলক আমূল পরিবর্তনের (Paradigm Shift) সাক্ষ্য দেয়: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ক্রিটিক্যাল মিনারেলস এখন ভারতের শিল্প ব্যবস্থা, শক্তি রূপান্তর, প্রতিরক্ষা এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের একটি মূল স্তম্ভ (Core Pillar) হিসেবে স্থান পেয়েছে।
- মাত্র তিন বছর আগে, ২০২৩ সালে ভারতের G20 প্রেসিডেন্সি চলাকালীনও নীতিগত আলোচনায় এই খনিজগুলো ছিল প্রান্তিক পর্যায়ে। তখন লিথিয়ামের মতো খনিজগুলো ‘পারমাণবিক খনিজ’ (Atomic Minerals) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ ছিল, যা বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করে রেখেছিল।
- এই বছরের বাজেট বক্তৃতার গুরুত্ব ইঙ্গিত দেয় যে ভারত এখন “নীতি থাকা উচিত কি না” সেই পর্যায় থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে “কীভাবে এটি বড় আকারে, দ্রুত এবং নিবিড়ভাবে কার্যকর করা যায়” সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পদক্ষেপ আত্মনির্ভর ভারত, বিকশিত ভারত @২০৪৭ এবং নেট জিরো ২০৭০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) সম্পর্কে ধারণা
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বলতে এমন কিছু জ্বালানি-বহির্ভূত এবং লৌহ-বিহীন ধাতু ও তাদের যৌগকে বোঝায়, যা পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তর (Clean Energy Transition), উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। এই খনিজগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), ব্যাটারি, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি।
- ভারতের সরকারি তালিকা (৩০টি খনিজ): ‘খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) [MMDR] সংশোধনী আইন, ২০২৩’-এর অধীনে এই তালিকাটি সূচিত হয়েছে। এই আইনটি খনির নিলাম এবং বেসরকারি অংশগ্রহণকে আরও সহজতর করেছে। এই তালিকায় লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, গ্রাফাইট, রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (REEs) (নিওডিয়ামিয়াম এবং ডিসপ্রোসিয়াম-এর মতো ১৭টি উপাদানের একটি গ্রুপ), বেরিলিয়াম, ট্যানটালাম, নিওবিয়াম, টাংস্টেন, ফসফরাস এবং অন্যান্য খনিজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উত্তোলন এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার ৬০-৯০% চীনের নিয়ন্ত্রণে। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে, যা ২০২৫ সালের রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাটারি সংকটের সময় পরিলক্ষিত হয়েছে।
- প্রধান ঝুঁকি: ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের নিট-জিরো (Net-Zero) অঙ্গীকার এবং বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রার মাঝে—খনিজের অত্যধিক মূল্য অস্থিরতা, প্রভাবশালী দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণ ভারতের জন্য একটি কৌশলগত অনিবার্যতা। এটি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে।
১. অর্থনৈতিক নিরাপত্তা:
- লিথিয়াম (অস্ট্রেলিয়া/চিলি), নিকেল এবং কোবাল্ট (কঙ্গো/ইন্দোনেশিয়া)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারি ধাতুর ক্ষেত্রে ১০০% আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
- এটি উৎপাদন ভিত্তিক প্রণোদনা (PLI) প্রকল্পগুলোতে গতি আনবে; যার মধ্যে উন্নত রসায়ন সেলের (Advanced Chemistry Cells) জন্য ১৮,১০০ কোটি টাকা এবং সোলার পিভি মডিউলের জন্য ২৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
২. শক্তি রূপান্তর (Energy Transition):
- প্যারিস চুক্তির অধীনে ভারতের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট জীবাশ্ম-বিহীন জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে।
- এটি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর (১ কোটি পরিবারের জন্য ছাদে সোলার) এবং FAME-III (২০৩০ সালের মধ্যে যানবাহন বিক্রিতে ৩০% ইভি লক্ষ্যমাত্রা)-এর মতো ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগগুলোকে শক্তি যোগাবে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব:
- প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে চীনের ৬০-৯০% একচেটিয়া আধিপত্য মোকাবিলায় এটি সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য কোয়াড (QUAD) ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ইনিশিয়েটিভ-কে শক্তিশালী করবে।
- এটি আইপিইএফ (IPEF) সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (IMEC)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে খনিজ সংগ্রহের উৎসগুলোকে বহুমুখী ও নিরাপদ করবে।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Mineral) নীতির বিবর্তন
ভারতের খনিজ নীতি নিয়ন্ত্রিত সীমাবদ্ধতা থেকে বর্তমানে একটি সক্রিয় কৌশলের দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে।
- ২০২৩-পূর্ববর্তী সময়: নীতিগত গুরুত্ব ছিল সীমিত। লিথিয়ামের মতো খনিজগুলো পারমাণবিক খনিজ পরিদপ্তরের (AMD) অধীনে কঠোর নিয়ন্ত্রিত ছিল, যা বেসরকারি খাতের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।
- ২০২৩-এর মাইলফলক: MMDR সংশোধনী আইন-এর মাধ্যমে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চিহ্নিত করা হয় এবং প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হয়।
- ২০২৪-২৫: রয়্যালটি হার যুক্তিসঙ্গত করা হয় এবং ক্ষুদ্র খনি সংস্থাগুলোর (Junior Miners) জন্য বিনিয়োগ সহজতর করা হয়।
- জানুয়ারি ২০২৫: প্রায় ১৬,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন (NCMM) চালু করা হয়।
- ২০২৬-এর পরিবর্তন: কেন্দ্রীয় বাজেট এখন কেবল নীতি নির্ধারণ নয়, বরং তা দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের (Implementation) ওপর জোর দিচ্ছে।
ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন (NCMM)
২০২৫ সালে চালু হওয়া এই মিশনটির লক্ষ্য ভারতকে খনিজ সম্পদে স্বনির্ভর করে তোলা।
- আর্থিক বরাদ্দ: উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং গবেষণার (R&D) জন্য ১৬,৩০০ কোটি টাকা।
- মূল লক্ষ্য: ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে ১,২০০টি অনুসন্ধান প্রকল্প সম্পন্ন করা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্গম খনিজগুলোর সন্ধান চালানো।
- প্রধান ক্ষেত্র: খনিজ ব্লকের নিলাম, খনিজ সমৃদ্ধকরণ (Beneficiation) এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Recycling) প্রযুক্তিতে অর্থায়ন।
খনিজ উত্তোলনের মূল প্রতিষ্ঠানসমূহ
| প্রতিষ্ঠান | পূর্ণরূপ ও ভূমিকা |
| GSI | জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া — জাতীয় মানচিত্রায়ন এবং প্রাথমিক খনিজ অনুসন্ধানের প্রধান সংস্থা। |
| NMET | ন্যাশনাল মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্ট — আঞ্চলিক ও বিস্তারিত খনিজ অনুসন্ধানে অর্থায়ন করে। |
| KABIL | খনিজ বিদেশ ইন্ডিয়া লিমিটেড — (NALCO, HCL, MECL-এর যৌথ উদ্যোগ) বিদেশে খনিজ সম্পদ আহরণ নিশ্চিত করে। |
| Mission Anveshan | ন্যাশনাল জিওসায়েন্স ডেটা রিপোজিটরি (NGDR)-এর মাধ্যমে খনিজ অনুসন্ধানে AI ও আধুনিক ডেটা ব্যবহার করে। |
প্রধান অন্তরায়: ভারত কেন ঝুঁকির মুখে?
ভারত এই খনিজগুলো সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন:
১. চরম আমদানি নির্ভরতা: ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মধ্যে লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং নিকেলসহ ১০টি খনিজের ক্ষেত্রে ভারত ১০০% আমদানি নির্ভর।
২. চীনের প্রক্রিয়াকরণ একচেটিয়া: খনি উত্তোলন বড় সমস্যা নয়, আসল সমস্যা প্রক্রিয়াকরণে। চীন বিশ্বব্যাপী ৫৮% লিথিয়াম, ৬৫% কোবাল্ট এবং ৮৭% রেয়ার আর্থ প্রক্রিয়াকরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা: ভারতে এখনও ব্যাটারি বা ইভি (EV) উৎপাদনের গতি ততোটা বৃদ্ধি পায়নি যা উৎপাদিত খনিজগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা বড় প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনে দ্বিধাগ্রস্ত।
৪. প্রযুক্তিগত ঘাটতি: গভীর খনিজ অনুসন্ধান অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উন্নত ভূ-স্থানিক (Geospatial) টুল ব্যবহারে ভারত এখনও পিছিয়ে।
খনিজ নিরাপত্তার জন্য ভারতের মাস্টার প্ল্যান: সমন্বিত কৌশল ও সমাধান
খনিজ সম্পদ সুরক্ষিত করতে ভারত এখন নিছক নীতি ঘোষণা থেকে সরে এসে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে:
ক. স্মার্ট অনুসন্ধান (The NCMM)
- কৌশল: ভারত সরকার ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন (NCMM) চালু করেছে। এর অধীনে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১,২০০টি লক্ষ্যভিত্তিক অনুসন্ধান প্রকল্প পরিচালনা করবে।
- উপকারিতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উন্নত ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত দ্রুত স্থানীয় খনিজ ভাণ্ডার খুঁজে পাবে, যা সরাসরি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনবে।
খ. প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধনে গুরুত্বারোপ
- কৌশল: ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট অনুযায়ী, খনিজ উত্তোলনের চেয়ে উচ্চ-মানের প্রক্রিয়াকরণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাসায়নিক ও ওষুধ শিল্পের বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারি এবং প্রতিরক্ষা-গ্রেডের উপাদান তৈরি করা হচ্ছে।
- উপকারিতা: এটি সরাসরি চীনের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং ভারতকে দেশীয়ভাবে নিজস্ব ব্যাটারি-গ্রেড উপাদান পরিশোধনে সক্ষম করে তুলবে।
গ. রেয়ার আর্থ ইকোসিস্টেম তৈরি (করিডোর এবং ম্যাগনেট)
- কৌশল: ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু—এই উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে ‘ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর’ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬,০০০ টন স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnets) তৈরির জন্য ৭,২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
- উপকারিতা: কাঁচা বালি রপ্তানি করার পরিবর্তে এই করিডোরগুলো উত্তোলন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করবে।
ঘ. নিশ্চিত অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি
- কৌশল: ইভি (EV), ব্যাটারি স্টোরেজ এবং উইন্ড প্রজেক্টের দেশব্যাপী সম্প্রসারণকে দ্রুততর করতে হবে।
- উপকারিতা: এটি প্রক্রিয়াজাত খনিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজার তৈরি করবে, যা বিনিয়োগকারীদের খনিজ শোধনাগার তৈরির ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
ঙ. বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব স্থাপন
- কৌশল: একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত সম্পদ-সমৃদ্ধ দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করছে:
- রাশিয়া: তেল ও অস্ত্রের বাইরে এখন লিথিয়াম এবং রেয়ার আর্থ নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। এছাড়া চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক করিডোরের মাধ্যমে লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে।
- ব্রাজিল: অনুসন্ধান থেকে রিসাইক্লিং—সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইনের জন্য দুই দেশ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
- বৈশ্বিক সম্পদ: রাষ্ট্রীয় সংস্থা KABIL আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ায় লিথিয়াম ব্লক সুরক্ষিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
চ. খনিজ অনুসন্ধানে ‘এআই-ফার্স্ট’ (AI-First) পদ্ধতি
আবিষ্কারের গতি বাড়াতে এবং দশকের পর দশক সময় নষ্ট রোধ করতে ভারতকে অবশ্যই খনিজ অনুসন্ধানে বাধ্যতামূলক এআই-ফার্স্ট কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
- সমন্বয়:
- ইন্ডিয়া-এআই মিশন: ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণের জন্য এআই কম্পিউট এবং মেধা ব্যবহার।
- জাতীয় ভূ-স্থানিক নীতি (২০২২): ভূখণ্ড মানচিত্রায়নের জন্য উচ্চ-মানের স্যাটেলাইট এবং ড্রোন ডেটা ব্যবহার।
- মিশন অন্বেষণ: হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে ব্যবহৃত এআই-চালিত সিসমিক টুলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধানেও ব্যবহার করা হবে।
উপসংহার
ভারত সফলভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোকে তার অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার কৌশলগত কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পেরেছে। তবে কেবল খনি খনন করলেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বৃহৎ আকারের প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন, দ্রুত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদা বৃদ্ধি, অনুসন্ধানে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ এবং শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ওপর।