ভারতের মৎস্য খাত

প্রেক্ষাপট

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ মাছ চাষীদের আয় বৃদ্ধি এবং সমবায় ও ফিশ ফারমার-প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (FFPOs)-এর মাধ্যমে বাজারের সুযোগ বাড়াতে ৫০০টি জলাশয় এবং অমৃত সরোবরে মৎস্য চাষের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি নীল বিপ্লব (Blue Revolution) এবং বিকশিত ভারত@২০৪৭ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১. ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান এবং উৎপাদনের ধারা

  • র‍্যাঙ্ক: ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ এবং অ্যাকুয়াকালচার বা কৃত্রিম মৎস্য উৎপাদনেও বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
  • প্রবৃদ্ধি: ২০১৩-১৪ সালের পর থেকে জাতীয় মাছ উৎপাদন ১০৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • মোট উৎপাদন: ২০২৪-২৫ সালে মাছের মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ১৯৭.৭৫ লক্ষ টন
  • ক্ষেত্রভিত্তিক অংশ: ভারতের মোট মাছ উৎপাদনের ৭৫% আসে অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষ (মিষ্টি জল, নোনা জল এবং লবণাক্ত জলের উৎস) থেকে।
  • উৎপাদনশীলতা: জলাশয়গুলোতে মাছের উৎপাদনশীলতা ২০০৬ সালের হেক্টর প্রতি ৫০ কেজি থেকে বেড়ে বর্তমানে হেক্টর প্রতি ১০০ কেজি হয়েছে। ICAR-CIFRI-এর মতে, এটি হেক্টর প্রতি ৩০০ কেজি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. ভারতে ভৌগোলিক বন্টন

  • জলাশয়ের সর্বাধিক আয়তন: মধ্যপ্রদেশ (প্রায় ৬ লক্ষ হেক্টর)।
  • জলাশয়ের সর্বাধিক সংখ্যা: তামিলনাড়ু (৮,০০০-এর বেশি)।
  • আঞ্চলিক গুরুত্ব: জলাশয়গুলো মূলত পূর্ব, মধ্য এবং উপদ্বীপীয় অঞ্চলে অবস্থিত, যা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং জলকষ্টে থাকা এলাকাগুলোর জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে।

৩. প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ: খাঁচায় মাছ চাষ

  • পদ্ধতি: সিন্থেটিক নেট বা জাল দিয়ে তৈরি ভাসমান বা স্থির খাঁচা। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে জল চলাচলের সুযোগ দেয়, যার ফলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টির আদান-প্রদান নিশ্চিত হয়।
  • সুবিধা: এর মাধ্যমে মাছকে খাবার দেওয়া, তদারকি করা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়।
  • মাছের প্রজাতি: * ভারতীয় প্রধান কার্প: কাতলা, রুই, মৃগেল (মূল প্রজাতি)।
    • অতিরিক্ত প্রজাতি: তেলাপিয়া, পাঙ্গাসিয়াস।
    • শোভাবর্ধক মাছ: অরুণাচল প্রদেশের অমৃত সরোবরের মতো নির্দিষ্ট প্রকল্পে এই মাছের চাষ হচ্ছে।

মৎস্য খাতে সরকারি উদ্যোগ

  • প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY): এটি একটি ফ্ল্যাগশিপ স্কিম যা খাঁচায় মাছ চাষ এবং উন্নত মানের পোনা মজুতের জন্য বাজেট সহায়তা প্রদান করে।
  • জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড (NFDB): প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এটি একটি ক্লাস্টার-ভিত্তিক কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
  • রিজার্ভার ক্লাস্টার: সেক্টরাল ঘাটতি পূরণ এবং উৎপাদন খরচ কমাতে মধ্যপ্রদেশের হালালি এবং ইন্দ্র সাগর বাঁধে এই ক্লাস্টার ঘোষণা করা হয়েছে।
  • নীল বিপ্লব ২.০: এটি মৎস্য চাষের “সমন্বিত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা”-র ওপর গুরুত্ব দেয়।
  • কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) সম্প্রসারণ: সরকার মৎস্যজীবী ও মাছ চাষীদের জন্য KCC সুবিধা সম্প্রসারিত করেছে।
  • মিশন অমৃত সরোবর: জেলা পর্যায়ের পুকুরগুলোতে ভূ-পৃষ্ঠের এবং ভূ-গর্ভস্থ জল সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়।
    • মানদণ্ড: প্রতিটি সরোবরের ন্যূনতম আয়তন হবে এক একর এবং জল ধারণ ক্ষমতা হবে ১০,০০০ কিউবিক মিটার
Q. জলাশয়ে মৎস্য চাষের সমন্বিত উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন: 

1. ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ এবং অ্যাকুয়াকালচার উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

2. অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষ (মিষ্টি জল, নোনা জল এবং লবণাক্ত জল) ভারতের মোট মাছ উৎপাদনের ৭৫% বহন করে।

3. জলাশয় ইকোসিস্টেমের ক্লাস্টার-ভিত্তিক কৌশল অনুযায়ী, ভারতে তামিলনাড়ুতে জলাশয়ের আয়তন সবচেয়ে বেশি।

উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a)
কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 2 এবং 3
(c) কেবল 1 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3

সঠিক উত্তর: (a)

বিশ্লেষণ:

*বিবৃতি 21সঠিক:* ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ। মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৮% অবদান রাখে। এছাড়া, অ্যাকুয়াকালচার (Aquaculture) বা জলজ চাষের ক্ষেত্রেও চীন-এর পরেই ভারতের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। মৎস্য ক্ষেত্র ভারতের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে।

*বিবৃতি 2 সঠিক* : বর্তমানে ভারতের মোট মাছ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষ (Inland Fisheries) থেকে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৭৫% আসে অভ্যন্তরীণ উৎস (যেমন: নদী, খাল, বিল, মিষ্টি জল ও নোনা জলের জলাশয়) থেকে এবং বাকি ২৫% আসে সামুদ্রিক উৎস থেকে। গত এক দশকে সামুদ্রিক মৎস্য চাষের তুলনায় অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষের প্রবৃদ্ধি অনেক দ্রুত হয়েছে।

*বিবৃতি 3 ভুল* : ভারতে জলাশয়ের (Reservoirs) আয়তন এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে তামিলনাড়ু শীর্ষে নেই। জলাশয়ের মোট আয়তনের দিক থেকে ভারতে মধ্যপ্রদেশ প্রথম স্থানে রয়েছে। এরপরে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলোর অবস্থান। যদিও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে জলাশয় ভিত্তিক মৎস্য চাষের উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে তামিলনাড়ু বৃহত্তম নয়।

Practice Today’s MCQs