প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকার শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছে। ২০২৬-২৭ সালের রাজ্য বাজেট পেশ করার সময় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল আসক্তি কমানো এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা। একইভাবে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকার ৯০ দিনের মধ্যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করার কাজ করছে এবং ১৩-১৬ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
1. রাজ্য–নির্দিষ্ট বিধান
- কর্ণাটক: ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছে। “অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম”, “চোখের ক্লান্তি” এবং “শিক্ষাগত অবনতি”-র বিষয়টিকে মাথায় রেখে এটি ১৬ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
- অন্ধ্রপ্রদেশ: রাজ্যটি ৯০ দিনের মধ্যে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। নারা লোকেশের নেতৃত্বে একটি মন্ত্রীগোষ্ঠী (GoM) বর্তমানে এর কারিগরি সম্ভাব্যতা এবং আন্তর্জাতিক মডেলগুলো নিয়ে গবেষণা করছে।
2. প্রধান উদ্দেশ্য
- মানসিক স্বাস্থ্য: কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনমন্যতা সমস্যা মোকাবিলা করা।
- নিরাপত্তা: নাবালকদের সাইবার বুলিং (অনলাইনে হয়রানি), অনলাইন গ্রুমিং এবং বয়সের অনুপযোগী বিষয়বস্তু থেকে রক্ষা করা।
- ডিজিটাল সাক্ষরতা: কর্ণাটকের ‘মোবাইল বিডি, পুস্তকা হিডি‘ (মোবাইল ছাড়ো, বই ধরো) এর মতো প্রচারণার মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম এবং বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহিত করা।
3. বৈশ্বিক প্রবণতা ভারতীয় রাজ্যগুলোর এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান “এজ-গেট” (Age-Gate) বা বয়স নির্ধারণী আন্দোলনের সাথে সংগতিপূর্ণ:
- অস্ট্রেলিয়া: ২০২৫ সালের শেষের দিকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে একটি ঐতিহাসিক আইন পাস করেছে।
- ফ্রান্স: ১৫ বছর বয়সকে “ডিজিটাল সাবালকত্ব” হিসেবে প্রবর্তন করেছে, যেখানে এর নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।
- স্পেন: ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালকদের জন্য বয়স যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করেছে।
4. আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ
- এখতিয়ারের সমস্যা: ভারতীয় সংবিধানের সপ্তম তফসিল অনুযায়ী, “যোগাযোগ” এবং “তথ্য প্রযুক্তি” (মধ্যস্থতাকারী) কেন্দ্রীয় তালিকার অন্তর্ভুক্ত। সমালোচকদের মতে, প্ল্যাটফর্ম স্তরে কোনও কিছু ব্লক করার আইনি ক্ষমতা রাজ্যের নাও থাকতে পারে।
- মৌলিক অধিকার: এই নিষেধাজ্ঞাটি সংবিধানের ধারা ১৯(১)(ক) (বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এর অধীনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ নাবালকদেরও “যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ” সাপেক্ষে তথ্য পাওয়ার নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।
- ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা (DPDP) আইন, ২০২৩: এই কেন্দ্রীয় আইনে ইতিমধ্যে “শিশু” বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তাদের ডেটা ব্যবহারের আগে যাচাইযোগ্য অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- বাস্তবায়ন বাধা: গোপনীয়তার অধিকার (কে.এস. পুট্টাস্বামী রায়) লঙ্ঘন না করে “বয়স যাচাই” করা বেশ কঠিন কাজ।
Q: ভারতে নাবালকদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. কর্ণাটক ভারতের প্রথম রাজ্য যারা তাদের সরকারি বাজেটে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছে।
2. ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা (DPDP) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, শিশু বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার ১৬ বছর বয়স পূর্ণ হয়নি।
3. সপ্তম তফসিলের অধীনে "তথ্য প্রযুক্তি এবং মধ্যস্থতাকারী" নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে রাজ্য সরকারগুলোর হাতে রয়েছে।
উপরে দেওয়া বিবৃতিগুলোর মধ্যে কতটি সঠিক?
(a) মাত্র একটি
(b) মাত্র দুটি
(c) তিনটিই
(d) কোনটিই নয়
সমাধান: (a) (মাত্র একটি)
• 1 নম্বর বিবৃতিটি সঠিক: কর্ণাটক প্রথম রাজ্য হিসেবে তাদের ২০২৬-২৭ সালের রাজ্য বাজেটে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
• 2 নম্বর বিবৃতিটি ভুল: ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, "শিশু" বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, ১৬ বছর নয়।
• 3 নম্বর বিবৃতিটি ভুল: ডিজিটাল মধ্যস্থতাকারী এবং তথ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় তালিকার (এন্ট্রি ৩১ - পোস্ট ও টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, ওয়্যারলেস, ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম) অন্তর্ভুক্ত, যা কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রাথমিক ক্ষমতা দেয়।