প্রেক্ষাপট
ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (ASI) আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ু রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে (TNSDA) রাজ্যের আটটি ঐতিহাসিক স্থানে খনন কাজ শুরু করার অনুমতি দিয়েছে। প্রশাসনিক বিলম্বের পর এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তামিলনাড়ুতে খনন কাজের প্রধান সময়সীমা (জানুয়ারি থেকে জুলাই) বর্ষা চক্রের কারণে সীমিত থাকে ।
১. প্রধান খনন কেন্দ্র এবং অবস্থান
| প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান | জেলা | গুরুত্ব / বিশেষ তথ্য |
| কীলাদি (এবং এর গুচ্ছসমূহ) | শিবগঙ্গা | খনন কার্যের ১১তম পর্বে প্রবেশ করছে; ভাইগাই নদীর তীরে একটি নগর সভ্যতার প্রমাণ মিলেছে । |
| পত্তনমরুধুর | তুথুকুডি | উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ গবেষণার সম্ভাবনা । |
| করিবলমবন্থনলুর | তেনকাসি | সঙ্গম যুগের বিস্তৃতির প্রমাণ । |
| মাণিকোল্লাই | কুড্ডালোর | উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত । |
| আদিচানুর | ভিলুপুরম | দ্রষ্টব্য: তুথুকুডির আদিচানাল্লুর-এর সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না । |
| ভেল্লালোর | কোয়েম্বাটোর | ঐতিহাসিক বাণিজ্য কেন্দ্র, যা রোমান মুদ্রার জন্য পরিচিত । |
| তেলুঙ্গানুর-মাঙ্গাদু | সালেম | লৌহ যুগ এবং মেগালিথিক সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা । |
| নাগপট্টিনম | নাগপট্টিনম | সামুদ্রিক ইতিহাস এবং বৌদ্ধ প্রভাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । |
২. কীলাদি সম্পর্কে কিছু তথ্য (About Keeladi)
- অবস্থান: তামিলনাড়ু, ভাইগাই নদীর তীরে অবস্থিত ।
- সময়কাল: কার্বন ডেটিং অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দী পর্যন্ত, যা মূলত সঙ্গম যুগের সাথে মিলে যায় ।
- গুরুত্ব: এটি প্রমাণ করে যে তামিলনাড়ু বা প্রাচীন তামিলকামে আগের ধারণার চেয়েও অনেক আগে উন্নত নগর সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল ।
৩. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন জীবন (Material Culture and Daily Life)
- প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু: মৃৎপাত্র, পুঁতি, লোহার সরঞ্জাম, পাত্রের গায়ে খোদাই করা লিপি (graffiti) এবং পোড়ামাটির মূর্তি ।
- এটি বাণিজ্য, কারুশিল্পে দক্ষতা এবং সাক্ষরতার ইঙ্গিত দেয় ।
- লোহার সরঞ্জামের ব্যবহারের দিক থেকে এটি উত্তর ভারতের লৌহ যুগের বসতিগুলোর (যেমন উজ্জয়িনী, মথুরা) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
- এখানে প্রাপ্ত লিপির সাথে তামিল-ব্রাহ্মী লিপির মিল পাওয়া যায়, যা প্রাচীন ভারতীয় লিপির বিবর্তনের সাথে যুক্ত ।
৪. প্রাচীন ভারতের নগরায়ন (Urbanization in Ancient India)
- প্রথাগতভাবে, নগরায়নকে সিন্ধু সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০–১৩০০)-র সাথে যুক্ত করা হয় ।
- কীলাদি হরপ্পা সভ্যতার পতনের পর দক্ষিণ ভারতে নগর সভ্যতার ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে । এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- উন্নত নগর পরিকল্পনা (ইটের তৈরি কাঠামো, সুপরিকল্পিত রাস্তা) ।
- উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জল ব্যবস্থাপনা ।
৫. বাণিজ্য এবং বৈদেশিক যোগাযোগ (Trade and External Contacts)
- পুঁতি, মৃৎপাত্রের ধরণ এবং মূল্যবান পাথর নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্দেশ করে:
- প্রাচীন তামিলকামের ভেতরে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ।
- সম্ভাব্য সামুদ্রিক বাণিজ্য (যেমন খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দী থেকে রোমের সাথে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক) ।
Q: প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে নিচের কোন বিবৃতিটি কীলাদি সম্পর্কে সঠিক?
(a) এটি ছিল ভারতের প্রথম নগর বসতি।
(b) এটি দেখায় যে হরপ্পা সভ্যতার পতনের পর উত্তর ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতেও নগরায়ন, বাণিজ্য এবং সাক্ষরতা বিদ্যমান ছিল।
(c) এটি প্রমাণ করে যে সিন্ধু সভ্যতা তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
(d) এটি মূলত দক্ষিণ ভারতে একটি রোমান উপনিবেশ ছিল।
উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: আগে বিশ্বাস করা হতো যে দক্ষিণ ভারতে নগরায়ন উত্তর ভারতের গঙ্গা সমভূমির অনেক পরে শুরু হয়েছিল। কিন্তু কীলাদির প্রাপ্ত নিদর্শন (সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী) প্রমাণ করে যে উত্তর ভারতের মহাজনপদ আমলের সমসাময়িক সময়েই ভাইগাই নদী উপত্যকায় এক উন্নত, শিক্ষিত (তামিল-ব্রাহ্মী লিপি) এবং নগর সমাজ বিদ্যমান ছিল ।