প্রেক্ষাপট (Context)
সম্প্রতি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর, NCERT (National Council of Educational Research and Training) তাদের অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই বইটির “আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা” নামক অধ্যায়ে “বিচারবিভাগে দুর্নীতি” সংক্রান্ত একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
আদালতের মতে, বিচারবিভাগে দুর্নীতির এই ধরণের “খণ্ডিত বা খন্ডিত তথ্য” অল্পবয়সী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বিচারব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাংবিধানিক শাসনের ওপর জনগনের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
১. NCERT-এর প্রধান দিকসমূহ
- প্রতিষ্ঠা: NCERT ১৯৬১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে।
- প্রধান উদ্দেশ্য: স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণা করা ও তাকে উৎসাহিত করা; মডেল পাঠ্যপুস্তক, সম্পূরক উপাদান, নিউজলেটার এবং ডিজিটাল শিক্ষামূলক সামগ্রী তৈরি ও প্রকাশ করা।
- ভূমিকা: এটি স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করে এবং ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020) বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
- সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান: স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান কর্মসূচির জন্য NCERT একটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
সাংগঠনিক কাঠামো:
- সদর দপ্তর: শ্রী অরবিন্দ মার্গ, নয়াদিল্লি।
- সভাপতি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদাধিকারবলে (ex-officio) NCERT-এর জেনারেল বডির সভাপতি হন।
- সদস্য: সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষামন্ত্রীরা এর সদস্য থাকেন।
২. শিক্ষা প্রশাসন
- ঐতিহাসিক অবস্থান: মূলত শিক্ষা ‘রাজ্য তালিকা’-ভুক্ত (State List) বিষয় ছিল, যেখানে পাঠ্যক্রম এবং স্কুল-কলেজের ওপর রাজ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।
- পরিবর্তন: ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে শিক্ষাকে ‘যুগ্ম তালিকা’-ভুক্ত (Concurrent List) করা হয়।
- ক্ষমতা: যুগ্ম তালিকার বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ই আইন করতে পারে, তবে কোনও বিরোধ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনই কার্যকর হয়।
৩. সাংবিধানিক ও আইনি মাত্রা
- বিচারবিভাগের স্বাধীনতা: এটি সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (Basic Structure) তত্ত্বের একটি অংশ (কেশবানন্দ ভারতী মামলা, ১৯৭৩)। তাই বিচারবিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষা করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বনাম প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা: সংবিধানের ধারা ১৯(১)(এ) নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার দেয়। তবে এই অধিকার অবাধ নয়। ধারা ১৯(২) অনুযায়ী ‘যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ’ আরোপ করা যায়, যাতে আদালত অবমাননা বা মানহানির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।
- আদালত অবমাননা: ভারতে এটি ‘আদালত অবমাননা আইন, ১৯৭১’ (Contempt of Courts Act, 1971) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি দুই প্রকার— দেওয়ানি (আদালতের আদেশ অমান্য করা) এবং ফৌজদারি (আদালতের কুৎসা রটানো বা বিচারকাজে বাধা দেওয়া)।
- ধারা ১২৯ ও ২১৫: সংবিধানের ধারা ১২৯ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এবং ধারা ২১৫ অনুযায়ী হাইকোর্ট নিজেদের অবমাননার জন্য শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
প্রশ্ন: ভারতের শিক্ষা প্রশাসন সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
I. মূলত শিক্ষা 'রাজ্য তালিকা'-ভুক্ত ছিল, কিন্তু ১৯৭৬ সালের ৪৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে একে 'যুগ্ম তালিকা'-ভুক্ত করা হয়।
II. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদাধিকারবলে NCERT-এর জেনারেল বডির সভাপতি হন।
কোনটি সঠিক?
(a) কেবল I
(b) কেবল II
(c) I এবং II উভয়ই
(d) কোনটিই নয়
উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি I ভুল: যদিও শিক্ষা মূলত 'রাজ্য তালিকা'-ভুক্ত (State List) বিষয় ছিল, তবে ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে একে 'যুগ্ম তালিকা'-ভুক্ত (Concurrent List) করা হয়, ৪৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে নয় ।
• বিবৃতি II সঠিক: ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)-এর নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদাধিকারবলে (ex-officio) NCERT-এর জেনারেল বডির সভাপতি হন ।