এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি ইউপিএসসি (UPSC) মেইনসের এই মডেল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন:
“অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এই প্রেক্ষাপটে, ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্ট’-এর উদ্দেশ্যগুলো বিশ্লেষণ করুন। ভারত কীভাবে উদ্ভাবনের সাথে নৈতিক ও নিয়ন্ত্রক সুরক্ষা কবচের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে?” (১৫ নম্বর, GS-3 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)
প্রেক্ষাপট
ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত) ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এখানে ভারত নিজেকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর এআই (AI) শাসনের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের পটভূমি
দিল্লি সামিটটি ছিল বিশ্বজুড়ে চলা ধারাবাহিক আলোচনার একটি অংশ, যার বিবর্তন নিচে দেওয়া হলো:
- ব্লেচলে পার্ক, ইউকে (২০২৩): মূলত এআই সুরক্ষা (AI Safety) এবং এর অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
- সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া (২০২৪): এআই সুরক্ষা এবং উদ্ভাবনের (Innovation) মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- প্যারিস, ফ্রান্স (২০২৫): ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- নয়াদিল্লি, ভারত (২০২৬): এই সম্মেলনে মূল ফোকাস ছিল বাস্তবায়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষা।
মূল আকর্ষণ: “সাতটি চক্র” বা স্তম্ভ
নয়াদিল্লি ঘোষণাটি সাতটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বিশ্বের জন্য এআই-এর রোডম্যাপ নির্ধারণ করে:
- এআই সম্পদের গণতন্ত্রীকরণ: সমস্ত দেশের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে কম্পিউট (Compute), ডেটা এবং মডেল নিশ্চিত করা।
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ: উৎপাদনশীলতা এবং সামাজিক কল্যাণে এআই-এর ব্যবহার।
- সুরক্ষিত ও বিশ্বস্ত এআই: নৈতিক সুরক্ষা কবচ এবং স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করা।
- বিজ্ঞানের জন্য এআই: স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং জলবায়ু গবেষণায় এআই-এর গতি বৃদ্ধি।
- সামাজিক ক্ষমতায়ন: সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় ভাষাভাষীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজাইন।
- মানব সম্পদ উন্নয়ন: ব্যাপক হারে দক্ষতা বৃদ্ধি (Skilling), পুনঃদক্ষতা (Reskilling) এবং এআই সাক্ষরতার ওপর জোর দেওয়া।
- সহনশীল ও দক্ষ এআই: পরিবেশবান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী এআই সিস্টেমের প্রচার।
নয়াদিল্লি ঘোষণা ও এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের প্রধান ফলাফল
১. নয়াদিল্লি ঘোষণা ও বৈশ্বিক কাঠামো
সামিটের প্রধান ফলাফল ছিল এই অ-বাধ্যতামূলক কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা, যা “সাতটি চক্র” (Seven Chakras) বা স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- এআই-এর গণতান্ত্রিক প্রসারের চার্টার (Charter for the Democratic Diffusion of AI): গুটিকয়েক দেশের হাতে প্রযুক্তি কুক্ষিগত হওয়া রোধ করতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে কম্পিউট, ডেটাসেট ও অ্যালগরিদম সবার কাছে পৌঁছে দিতে একটি স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো।
- গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট কমন্স (Global AI Impact Commons): স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষির মতো খাতে এআই-এর সফল ব্যবহারগুলো আন্তঃসীমান্তে ভাগ করে নেওয়ার এবং বাস্তবায়নের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
- ট্রাস্টেড এআই কমন্স (Trusted AI Commons): দায়িত্বশীল এআই বিকাশের লক্ষ্যে মানদণ্ড (benchmarks), সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং নৈতিক নির্দেশাবলীর একটি সম্মিলিত ভাণ্ডার।
২. ভূ-রাজনৈতিক এবং কৌশলগত পরিবর্তন (Geopolitical and Strategic Shifts)
- প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগ (Pax Silica Initiative): সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইন, উন্নত কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার এবং খনিজ সম্পদ সুরক্ষিত করতে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোটে যোগ দিয়েছে।
- বিশ্ব বন্ধু (Vishwa Bandhu) ভূমিকা: উন্নত বিশ্বের (Global North) প্রযুক্তিগত মান এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের (Global South) সামাজিক-অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি সেতু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ভারত।
- GPAI-এর বিস্তার: সামিটে গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন এআই (GPAI)-এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সৌদি আরব এবং মাল্টাকে নতুন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে।
৩. অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো প্রতিশ্রুতি
- বিশাল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি: পরিকাঠামো উন্নয়নে (ডেটা সেন্টার, ফ্যাব প্ল্যান্ট) ২৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ডিপ-টেক ভেঞ্চার ফান্ডিংয়ের জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- কম্পিউট পাওয়ার (GPU) বৃদ্ধি: IndiaAI Mission 2.0-এর অধীনে ২০২৬ সালের মধ্যে ১,০০,০০০ জিপিইউ (GPU) স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যাতে স্টার্টআপ ও গবেষকরা সস্তায় কম্পিউট সুবিধা পায়।
- MSME এআই স্ট্যাক: ইউপিআই (UPI)-এর সাফল্যের আদলে ছোট ব্যবসার জন্য একটি “AI Playbook” চালুর পরিকল্পনা, যাতে সাধারণ ব্যবসায়ীরাও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
৪. দেশীয় প্রযুক্তিগত সাফল্য
- সার্বভৌম এলএলএম (Sovereign LLMs): ভারতে প্রশিক্ষিত মডেল যেমন Sarvam AI (Sarvam-30B ও 105B) এবং ১৭টি ভারতীয় ভাষার BharatGen (১৭ বিলিয়ন প্যারামিটার) মডেলের উদ্বোধন।
- হার্ডওয়্যার উদ্ভাবন: ভারতে তৈরি এআই স্মার্ট গ্লাস ‘Sarvam Kaze’-এর উন্মোচন।
- মানব (MANAV) ভিশন: প্রধানমন্ত্রী মোদী এআই-এর জন্য MANAV কাঠামো (Moral, Accountable, National Sovereignty, Accessible, Valid) উন্মোচন করেছেন, যা ভারতের নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
৫. মানব সম্পদ ও সামাজিক প্রভাব
- এআই ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট প্লেবুক: এআই-চালিত অর্থনীতির জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি (skilling) ও পুনঃদক্ষতা (reskilling) নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের জন্য নির্দেশিকা।
- ফ্ল্যাগশিপ চ্যালেঞ্জ: উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি দিতে AI for ALL (অন্তর্ভুক্তি), AI by HER (নারী নেতৃত্বাধীন) এবং YUVAi (তরুণ নেতৃত্বাধীন) পুরস্কার প্রদান।
- বিচার বিভাগীয় সততা: বিচারকদের জন্য “AI Essentials for Judges” চালু করা হয়েছে, যাতে “ব্ল্যাক-বক্স জাস্টিস” (অস্বচ্ছ বিচার) রোধ করা যায় এবং এআই যেন মানুষের বিচারবুদ্ধির ওপর প্রাধান্য না পায়।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিট নিয়ে উদ্বেগ
১. বাধ্যতামূলক প্রয়োগের অভাব
- আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবায়ন: সমালোচকরা বলছেন যে ‘গণতান্ত্রিক প্রসারের‘ (Democratic Diffusion) নীতিগুলো দেশগুলো আদেও মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা যাচাইকরণ ব্যবস্থা নেই।
- স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) এআই অ্যাক্টের মতো এখানে কোনো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেই। ফলে এটি কোনো প্রকৃত দায়বদ্ধতা ছাড়াই কেবল একটি ‘প্রদর্শনীতে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
২. “অদৃশ্য” শ্রম সংকট
- কর্মসংস্থান হারানো: দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া সত্ত্বেও ভারতের ৫৮ লক্ষ তথ্য প্রযুক্তি (IT) কর্মীর জন্য এটি একটি বড় হুমকি।
- ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা: জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (GenAI)-এর কারণে এন্ট্রি-লেভেল কোডিং, ডেটা এন্ট্রি এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক বেকারত্বের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
৩. মানবাধিকার এবং সীমারেখা
- নিষেধাজ্ঞার অনুপস্থিতি: প্রেডিক্টিভ পুলিশিং (Predictive Policing) বা বায়োমেট্রিক নজরদারির (Biometric Surveillance) মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই, যা প্রায়ই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- সুরক্ষা কবচের অভাব: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International) টেক জায়ান্টদের “ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ” বন্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকায় এই সম্মেলনের সমালোচনা করেছে।
৪. ভূ-রাজনীতি এবং ‘ডেটা উপনিবেশবাদ‘
- ডেটা কলোনি ঝুঁকি: ভয় করা হচ্ছে যে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো কেবল কাঁচা ডেটা এবং প্রতিভা সরবরাহ করবে, অথচ উচ্চ-মূল্যের মডেলগুলোর মালিকানা থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) এবং চীনের সংস্থাগুলোর হাতে।
- ভূ-রাজনৈতিক বর্জন: বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর হাব হওয়া সত্ত্বেও কূটনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে তাইওয়ানকে (Taiwan) বাদ রাখা হয়েছে, যাকে হার্ডওয়্যার ও পরিকাঠামো বিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বড় ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫. পরিবেশ এবং স্থায়িত্ব সংক্রান্ত সমস্যা
- সম্পদের তীব্র ব্যবহার: বড় আকারের এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণের ফলে শক্তির ব্যবহার বা বিদ্যুৎ খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলের সংকট: ডেটা সেন্টারগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১১ লক্ষ লিটার জল প্রয়োজন। এটি জল-সংকটে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৬. বাস্তবায়ন এবং লজিস্টিক সমস্যা
- ‘প্রদর্শনী‘ হিসেবে সমালোচনা: কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, অনুষ্ঠানটি শাসনের (Governance) আলোচনার চেয়ে বিনিয়োগ চুক্তির ‘ট্রেড এক্সপো‘ বা বাণিজ্য মেলার মতো বেশি মনে হয়েছে।
- দেশীয় নির্ভরযোগ্যতা: বিদেশি প্রযুক্তিকে (যেমন: চীনের রোবট ডগ) দেশীয় উদ্ভাবন হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি দেশীয় এআই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিকাশের জন্য পদক্ষেপসমূহ
১. ডিপিআই-এর মাধ্যমে সুযোগের গণতন্ত্রীকরণ
- এআই-ডিপিআই মেলবন্ধন (AI-DPI Convergence): এআই-কে একটি জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য “ইন্ডিয়া স্ট্যাক” (UPI/Aadhaar) মডেলকে ব্যবহার করা। “সাধারণ ডিজিটাল রেল” (Common digital rails) তৈরির ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো (MSMEs) বড় টেক কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভর না করেই উন্নত মানের ডেটা এবং মডেল ব্যবহার করতে পারবে।
- ভাষিণী ও ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি: BHASHINI প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্থানীয় উপভাষায় ভয়েস-ভিত্তিক পরিষেবা প্রদান করা, যাতে নিরক্ষর মানুষও ব্যাংকিং এবং সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে।
২. সার্বভৌম এআই এবং পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ
- ইন্ডিয়া-এআই মিশন ২.০ (IndiaAI Mission 2.0): জাতীয় কম্পিউট ক্ষমতা বাড়িয়ে ১,০০,০০০ জিপিইউ (GPU) করা এবং এর খরচ ভর্তুকি দিয়ে কমানো (প্রায় ৬৫ টাকা/ঘণ্টা), যাতে কেবল ধনী কর্পোরেশন নয়, বরং সবাই উদ্ভাবন করতে পারে।
- দেশীয় এলএলএম (BharatGen): দেশের নিজস্ব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘ফাউন্ডেশনাল মডেল‘ তৈরি করা, যাতে ভারতের সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং ভাষাগত গুরুত্ব বজায় থাকে।
৩. প্রান্তিক মানুষের জন্য ক্ষেত্র-ভিত্তিক পদক্ষেপ
- কৃষি (কিষাণ ই-মিত্র): ব্যক্তিগত শস্য পরামর্শ, মোবাইলের ছবির মাধ্যমে পোকা শনাক্তকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল চাষাবাদের জন্য এআই মোতায়েন করা।
- স্বাস্থ্যসেবা (সুমন সখী): গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ট্র্যাকিংয়ের জন্য ASHA কর্মীদের এআই চ্যাটবট এবং রোগ নির্ণয়কারী সরঞ্জামের মাধ্যমে সহায়তা করা।
- শিক্ষা (দীক্ষা এআই): আঞ্চলিক ভাষায় ব্যক্তিগত শিক্ষার বিষয়বস্তু তৈরি এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করা।
৪. কর্মীবাহিনীর সুরক্ষা
- ডিজিটাল শ্রমসেতু (Digital ShramSetu): দেশের ৪৯ কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য একটি এআই প্ল্যাটফর্ম, যা দক্ষতার সাথে কাজের মিল ঘটায় এবং কাজের ফাঁকেই শিখতে সহায়তা করার জন্য ‘মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল’ প্রদান করে।
- এআই ওয়ার্কফোর্স প্লেবুক: কর্মীদের ডেটা এন্ট্রি থেকে ‘এআই-অগমেন্টেড‘ (এআই-চালিত উন্নত কাজ) ভূমিকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য “ব্যাপক পুনঃদক্ষতা” (Mass reskilling)-এর বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা।
৫. নৈতিক এবং নিরাপদ শাসন
- মানব (MANAV) কাঠামো: এআই যেন নৈতিক (Moral), দায়বদ্ধ (Accountable), জাতীয় সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা (National), সহজলভ্য (Accessible) এবং বৈধ (Valid) হয় তা নিশ্চিত করা।
- “গ্লাস বক্স” স্বচ্ছতা: জনকল্যাণে ব্যবহৃত এআই-এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কোনো নাগরিক যদি এআই অ্যালগরিদমের কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, তবে কেন হলেন তা জানার জন্য তার “ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার” (Right to Explanation) থাকবে।
উপসংহার
নয়াদিল্লি ঘোষণা মূলত সার্বভৌম এআই (Sovereign AI) এবং প্রযুক্তির গণতান্ত্রিক প্রসারের (Democratic Diffusion) দিকে একটি বড় পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। এআই-কে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI)-এর সাথে যুক্ত করে ভারত এমন একটি মানবিক মডেলের নেতৃত্ব দিচ্ছে যা নিশ্চিত করে যে আধুনিক প্রযুক্তি যেন বিশ্বব্যাপী ব্যবধান কমিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং সাম্যবাদী ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে.