নীলগিরি তহর

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, তামিলনাড়ু বন বিভাগ, কেরালা বন বিভাগের সহযোগিতায় ‘প্রথম সমন্বিত নীলগিরি তহর সমীক্ষা ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, গত দুই বছরে এই প্রজাতির সংখ্যা ২১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

১. জৈবিক এবং আচরণগত প্রোফাইল

  • আঞ্চলিকতা (Endemicity): এটি ভারতের পশ্চিমঘাটে পাওয়া যাওয়া একমাত্র পাহাড়ি খুরাযুক্ত প্রাণী (এটি শুধুমাত্র তামিলনাড়ু এবং কেরালায় পাওয়া যায়)।
  • স্যাডলব্যাকস (Saddlebacks): পূর্ণবয়স্ক পুরুষ নীলগিরি তহরদের পিঠে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হালকা ধূসর বা সাদা রঙের একটি ছোপ তৈরি হয়, যার ফলে এদের ডাকনাম “স্যাডলব্যাকস”
  • শারীরিক বৈশিষ্ট্য: এরা দিবাচর (দিনের বেলা সক্রিয় থাকে)। এগুলো বেশ শক্তপোক্ত গড়নের বুনো ছাগল যাদের শিং বাঁকানো থাকে। এদের খুরগুলো এমনভাবে তৈরি যার মাঝখানে রবারের মতো নরম অংশ থাকে, যা এদের খাড়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে।
  • রাষ্ট্রীয় প্রতীক: এটি তামিলনাড়ুর রাষ্ট্রীয় পশু

২. আবাসস্থল এবং বাস্তুসংস্থান

  • শোলা-তৃণভূমি মোজাইক: এরা উচ্চ-উচ্চতার পার্বত্য তৃণভূমিতে (১,২০০ মিটার থেকে ২,৬০০ মিটার) বাস করে। এই তৃণভূমিগুলো ‘শোলা’ নামে পরিচিত চিরহরিৎ বনের সাথে মিশে থাকে।
  • পছন্দসই ভূখণ্ড: এরা খাড়া পাহাড় এবং পাথুরে জায়গায় থাকতে খুব পছন্দ করে। বাঘ, চিতাবাঘ এবং বুনো কুকুরের মতো শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই দুর্গম পাহাড়গুলোই তাদের প্রধান পালানোর পথ।
  • প্রধান বসতি:
    • ইরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক (কেরালা): এখানে বিশ্বব্যাপী নীলগিরি তহরের সবচেয়ে বড় এবং ঘন বসতি রয়েছে।
    • মুকুরথি ন্যাশনাল পার্ক (তামিলনাড়ু): এটি বিশেষভাবে নীলগিরি তহরের সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
    • আনামালাই টাইগার রিজার্ভ (গ্রাস হিলস): এটিও তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী ঘাঁটি।

৩. সংরক্ষণ অবস্থা এবং হুমকি

  • IUCN রেড লিস্ট: বিপন্ন (Endangered)।
  • বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২: তফসিল ১ (Schedule I) (ভারতে আইনি সুরক্ষার সর্বোচ্চ স্তর)।
  • প্রধান হুমকি:
    • আবাসস্থল বিচ্ছিন্নতা: আক্রমণকারী উদ্ভিদ (ওয়াটল, ইউক্যালিপটাস), জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মনোকালচার চাষের কারণে তাদের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
    • জলবায়ু পরিবর্তন: বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৩০-এর দশকের মধ্যে এদের উপযোগী আবাসস্থলের প্রায় ৬০% হারিয়ে যেতে পারে।
    • সংক্রামক রোগ: গৃহপালিত পশুপাখি থেকে সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৪. প্রজেক্ট নীলগিরি তহর (২০২২–২০২৭)

  • শুরু: তামিলনাড়ু সরকার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প চালু করেছে।
  • উদ্দেশ্য: রেডিও-টেলিমেট্রি স্টাডি করা, তাদের পুরনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং তৃণভূমি থেকে আক্রমণকারী বা আগাছা জাতীয় উদ্ভিদ পরিষ্কার করা।
Q. "নীলগিরি তহর" সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন: 

1. এটি ভারতে পাওয়া একমাত্র পাহাড়ি খুরাযুক্ত প্রাণীর প্রজাতি যা পশ্চিমঘাটের একটি বিশেষ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ (Endemic)।

2. বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২-এর অধীনে এটিকে তফসিল ২-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে সীমিত আকারে শিকারের অনুমতি দেওয়া যায়।

3. কেরালার ইরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক হলো বন্য পরিবেশে এই প্রজাতির বৃহত্তম জনসংখ্যার আবাসস্থল।

উপরের কয়টি বিবৃতি সঠিক?

A) মাত্র একটি
B) মাত্র দুটি
C) তিনটিই
D) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: B (মাত্র দুটি)

ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: ভারতে অন্যান্য পাহাড়ি খুরাযুক্ত প্রাণী (যেমন হিমালয় তহর) থাকলেও, নীলগিরি তহরই একমাত্র প্রজাতি যা শুধুমাত্র পশ্চিমঘাট বা দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায়।
• বিবৃতি 2 ভুল: নীলগিরি তহর ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইনের তফসিল ১-এর অন্তর্ভুক্ত, যা একে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান করে। এদের শিকার করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
• বিবৃতি 3 সঠিক: ইরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ককে এদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে বিশ্বের মোট নীলগিরি তহরের প্রায় অর্ধেক বসবাস করে।

Practice Today’s MCQs