প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ বালি খনন থেকে জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্যকে রক্ষা করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত নদী ব্যবস্থায় অবৈধ খনন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চম্বল নদী অববাহিকায় অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলন বেশ কিছু বিপন্ন জলজ এবং নদীর তীরের প্রজাতির বাসস্থানের ক্ষতি করছে।
১. জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্য সম্পর্কে (About National Chambal Sanctuary)
- অবস্থান: এই অভয়ারণ্যটি চম্বল নদীর তীরে অবস্থিত এবং তিনটি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত:
- মধ্যপ্রদেশ
- রাজস্থান
- উত্তরপ্রদেশ
- ধরণ: এটি একটি নদীমাতৃক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (Riverine Wildlife Sanctuary)।
- সংরক্ষিত প্রধান প্রজাতি: অভয়ারণ্যটি নিচের প্রাণীগুলোকে রক্ষার জন্য বিখ্যাত:
- ঘড়িয়াল (Gharial)
- গাঙ্গেয় ডলফিন (Gangetic Dolphin)
- ইন্ডিয়ান স্কিমার (Indian Skimmer)
- মুগার কুমির (Mugger Crocodile)
- বেশ কিছু পরিযায়ী পাখি এবং কচ্ছপ।
২. বালি খনন: আইনি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো
- শ্রেণীবিভাগ: খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act)-এর অধীনে বালিকে “গৌণ খনিজ” (Minor Mineral) হিসেবে গণ্য করা হয়।
- নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ: গৌণ খনিজের জন্য নিয়ম তৈরির সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা রাজ্য সরকারগুলোর (State Governments) হাতে ন্যস্ত থাকে (কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নয়)। রাজ্য সরকারগুলো খনি লিজ দেওয়া এবং অবৈধ খনন প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে।
- জাতীয় নির্দেশিকা: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEFCC) কর্তৃক জারি করা ‘সাসটেইনেবল স্যান্ড মাইনিং ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনস (২০১৬)’ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং গাইডলাইনস (২০২০)’-এ অবৈধ খনন শনাক্ত করতে ড্রোন এবং নাইট-ভিশন নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩. অত্যধিক বালি উত্তোলনের পরিবেশগত এবং জলজ প্রভাব (Ecological and Hydrological Impacts)
- নদীর গঠন পরিবর্তন: অতিরিক্ত খননের ফলে রিভারবেড ইনসিশন (Riverbed Incision) বা নদীগর্ভ গভীর হয়ে যায়, যা প্লাবনভূমির জলস্তর (Water Table) নামিয়ে দিতে পারে।
- ভূগর্ভস্থ জল হ্রাস: বালি একটি ‘স্পঞ্জের’ মতো কাজ করে যা ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণে সাহায্য করে। বালি সরিয়ে ফেললে জল চুঁইয়ে ভেতরে যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
- উপকূলীয় ক্ষয়: মোহনা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বালি খনন সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষা নষ্ট করে এবং নোনা জলের অনুপ্রবেশ ঘটায়।
- জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: এটি ঘড়িয়ালের মতো সংবেদনশীল প্রজাতির প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করে।
৪. প্রাকৃতিক বালির বিকল্প
- এম-স্যান্ড বা কৃত্রিম বালি (M-Sand – Manufactured Sand): শক্ত গ্রানাইট পাথর গুঁড়ো করে এটি তৈরি করা হয়। নদীগর্ভের ওপর চাপ কমায় বলে এটি পরিবেশগতভাবে অনেক বেশি উন্নত।
- শিল্পজাত উপজাত দ্রব্য (Industrial By-products): নির্মাণ কাজে বালির আংশিক বিকল্প হিসেবে ফ্লাই অ্যাশ (তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত) এবং কপার স্ল্যাগ (তামা নিষ্কাশনের অবশিষ্টাংশ) ব্যবহার করা হয়।
Q. জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্য সম্পর্কে নিচের বক্তব্যগুলো বিবেচনা করুন:
1. এটি তিনটি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত।
2. এটি মূলত ঘড়িয়াল সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
3. এটি যমুনা নদীর ওপর অবস্থিত।
উপরের কোন বক্তব্যটি/বক্তব্যগুলো সঠিক?
(a) কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 2
(c) কেবল 1 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্যের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্যগুলোর মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো:
• 1 নম্বর বক্তব্যটি সঠিক: জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্য (যা জাতীয় চম্বল ঘড়িয়াল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নামেও পরিচিত) একটি ত্রি-রাজ্য সংরক্ষিত এলাকা। এটি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
• 2 নম্বর বক্তব্যটি সঠিক: এটি ১৯৭৯ সালে মূলত ঘড়িয়াল (Gavialis gangeticus) রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ঘড়িয়াল আইইউসিএন (IUCN) রেড লিস্টে 'অতি বিপন্ন' (Critically Endangered) হিসেবে তালিকাভুক্ত। এছাড়াও এটি 'লাল-মুকুটধারী কচ্ছপ' (Red-crowned roof turtle) এবং বিপন্ন 'গাঙ্গেয় ডলফিন' রক্ষা করে।
• 3 নম্বর বক্তব্যটি ভুল: অভয়ারণ্যটি চম্বল নদীর ওপর অবস্থিত, যমুনা নদীর ওপর নয়। যদিও চম্বল নদী যমুনার একটি প্রধান উপনদী, তবে অভয়ারণ্যটি চম্বল নদীর আদি ও অকৃত্রিম প্রবাহ বরাবর অবস্থিত।