প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-এর ভারত সফরের প্রেক্ষিতে, ১১৪টি মাল্টি–রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) সংক্রান্ত মেগা-ডিলের জন্য চূড়ান্ত অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি দিতে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বৈঠকে বসতে চলেছে। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল–মেরিন (Rafale-M) জেটের ঐতিহাসিক আন্তঃসরকারি চুক্তির পরবর্তী ধাপ।
১. যুদ্ধবিমান (Fighters)
- সুখোই Su-30MKI:
- ধরন: ৪.৫-প্রজন্মের মাল্টি-রোল এয়ার সুপিরিওরিটি ফাইটার।
- বৈশিষ্ট্য: এটি দুই ইঞ্জিন ও দুই আসন বিশিষ্ট বিমান। এতে রয়েছে থ্রাস্ট ভেক্টরিং কন্ট্রোল (TVC) যা একে আকাশে অত্যন্ত ক্ষিপ্রভাবে চলাফেরা করতে সাহায্য করে (যেমন- পুগাচেভস কোব্রা ম্যানুভার)।
- প্রধান অস্ত্র: ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, অস্ত্র (Astra) BVRAAM এবং R-77 মিসাইল।
- ড্যাসল্ট রাফাল (Dassault Rafale):
- ধরন: ৪.৫-প্রজন্মের “অম্নিরোল” (Omnirole) ফাইটার।
- বৈশিষ্ট্য: এটি AESA রাডার (RBE2), স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং বেশি উচ্চতার এয়ারবেস থেকে দ্রুত উড্ডয়নের জন্য “কোল্ড স্টার্ট” ক্ষমতা সম্পন্ন।
- প্রধান অস্ত্র: মিটিওর (Meteor – দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র), স্কাল্প (SCALP – ক্রুজ মিসাইল) এবং হ্যামার (HAMMER – নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র)।
- HAL তেজস (LCA):
- ধরন: সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা মাল্টি-রোল ফাইটার।
- বৈশিষ্ট্য: এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম হালকা ওজনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান; এতে রয়েছে গ্লাস ককপিট, ফ্লাই–বাই–ওয়্যার (FBW) সিস্টেম এবং এর কাঠামোর ৪৫% তৈরিতে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে।
- সংস্করণ: Mk1 (প্রাথমিক), Mk1A (উন্নত রাডার ও জ্যামার যুক্ত) এবং ট্রেইনার।
- মিরাজ ২০০০ (Mirage 2000):
- ধরন: একক ইঞ্জিন বিশিষ্ট মাল্টি-রোল ফাইটার।
- বৈশিষ্ট্য: এটি ডেল্টা-উইং ডিজাইনের জন্য পরিচিত এবং বোমা বর্ষণে অত্যন্ত নিখুঁত; কার্গিল যুদ্ধ এবং বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
- MiG-29 (UPG):
- ধরন: দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এয়ার সুপিরিওরিটি ফাইটার।
- বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত চটপটে; এর আধুনিক (UPG) সংস্করণে আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, উন্নত রাডার এবং মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা রয়েছে।
২. পরিবহন বিমান (Transport Aircraft)
- C-17 গ্লোবমাস্টার III:
- ভূমিকা: কৌশলগত ভারী মালবাহী বিমান।
- বিস্তারিত: এটি ৭৭ টন ভারী পণ্য বহন করতে পারে; ছোট ও কাঁচা রানওয়েতে (STOL) নামতে সক্ষম এবং এটি T-90 বা অর্জুনের মতো বড় ট্যাঙ্ক পরিবহন করতে পারে।
- C-130J সুপার হারকিউলিস:
- ভূমিকা: বিশেষ অভিযানের জন্য কৌশলগত পরিবহন।
- বিস্তারিত: দৌলত বেগ ওল্ডি (DBO)-এর মতো দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের “অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডস” (ALGs)-এ নামার জন্য এটি আদর্শ।
- C-295:
- ভূমিকা: কৌশলগত এয়ারলিফটার।
- বিস্তারিত: এটি অ্যাভ্রো-৭৪৮-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে; এর ৯ টন পণ্য বহনের ক্ষমতা এবং দ্রুত মাল লোড করার জন্য পিছনের দিকে র্যাম্প রয়েছে। এটি ভারতের প্রথম সামরিক বিমান প্রকল্প যেখানে বেসরকারি খাতের (টাটা-এয়ারবাস) একটি চূড়ান্ত অ্যাসেম্বলি লাইন যুক্ত রয়েছে।
৩. রোটারি উইং (হেলিকপ্টার)
- HAL প্রচণ্ড (LCH):
- ভূমিকা: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার।
- বিস্তারিত: এটি বিশ্বের একমাত্র অ্যাটাক হেলিকপ্টার যা ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় (সিয়াচেন হিমবাহ) ভারী অস্ত্র নিয়ে উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে সক্ষম।
- AH-64E অ্যাপাচি:
- ভূমিকা: মাল্টি-রোল অ্যাটাক হেলিকপ্টার।
- বিস্তারিত: এতে রয়েছে “লংবো” ফায়ার কন্ট্রোল রাডার; এটি হেলফায়ার মিসাইল এবং ৩০ মিমি চেইন গানে সজ্জিত যা পাইলটের হেলমেটের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে।
- CH-47 চিনুক:
- ভূমিকা: ভারী মালবাহী হেলিকপ্টার।
- বিস্তারিত: এটি জোড়া রোটরের (Tandem rotors) জন্য সহজেই চেনা যায়; এটি ভারী কামান (যেমন M777 হাউইটজার) এবং সৈন্যদলকে বেশি উচ্চতার এলাকায় পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. বিশেষ মিশনের বিমান
- নেত্র (Netra) AEW&C:
- বিস্তারিত: ডিআরডিও (DRDO) কর্তৃক এমব্রায়ার-১৪৫ প্ল্যাটফর্মে তৈরি দেশীয় সিস্টেম; এটি আগত শত্রু শনাক্ত করতে ২৪০-ডিগ্রি রাডার কভারেজ প্রদান করে।
- ফ্যালকন (Phalcon) AWACS:
- বিস্তারিত: রুশ IL-76 বিমানের ওপর ইসরায়েলি রাডার বসানো সিস্টেম; এটি ৪০০ কিমি রেঞ্জের মধ্যে আকাশে ৩৬০-ডিগ্রি নজরদারি চালাতে পারে।
- IL-78 MKI:
- ভূমিকা: মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাঙ্কার)।
- বিস্তারিত: এটি উড্ডয়নরত অবস্থায় যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে তাদের অভিযানের পরিসর বা রেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন: ভারতীয় সামরিক বিমান প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
১. C-295 বিমান প্রকল্পটি হলো ভারতের বেসরকারি খাতের কোনও কনসোর্টিয়াম দ্বারা সামরিক বিমান তৈরির প্রথম উদাহরণ।
২. HAL প্রচণ্ড বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একমাত্র অ্যাটাক হেলিকপ্টার যা ৫,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবতরণ করতে সক্ষম।
৩. নেত্র (Netra) এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম রোটাডোম অ্যান্টেনা ব্যবহার করে ৩৬০-ডিগ্রি রাডার কভারেজ প্রদান করে।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র ১ এবং ২
(b) শুধুমাত্র ২ এবং ৩
(c) শুধুমাত্র ১ এবং ৩
(d) ১, ২ এবং ৩
সঠিক উত্তর: (a) শুধুমাত্র ১ এবং ২
ব্যাখ্যা:
বিবৃতি ১ সঠিক: C-295 এয়ারবাস এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের অংশীদারিত্বে তৈরি হচ্ছে, যা ভারতের প্রথম বেসরকারি খাতের সামরিক বিমান তৈরির লাইন।
বিবৃতি ২ সঠিক: HAL প্রচণ্ড (LCH) বিশেষভাবে বেশি উচ্চতায় অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা একে সিয়াচেন হিমবাহের উচ্চতায় কাজ করতে সক্ষম একমাত্র অ্যাটাক হেলিকপ্টারে পরিণত করেছে।
বিবৃতি ৩ ভুল: নেত্র সিস্টেমটি বিমানের ফিউজেলেজে বসানো AESA রাডার ব্যবহার করে ২৪০-ডিগ্রি কভারেজ দেয়। ৩৬০-ডিগ্রি কভারেজ প্রদান করে ফ্যালকন (Phalcon AWACS)।