অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী লোকসভায় অনুদানের জন্য দ্বিতীয় দফার অতিরিক্ত চাহিদার অংশ হিসেবে ১ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল (ESF) গঠনের ঘোষণা করেছেন। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিকূল পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটছে, তা মোকাবিলা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই তহবিলটি ভারত সরকারকে একটি প্রয়োজনীয় আর্থিক সুরক্ষা কবচ (fiscal headroom) প্রদান করবে, যাতে বাইরের দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়া যায়। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি-র .% আর্থিক ঘাটতির (fiscal deficit) যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে কোনও আপস করতে হবে না।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিলের মূল ধারণা

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল হলো একটি বিশেষ আর্থিক রিজার্ভ বা সঞ্চয়, যা কোনও দেশের সরকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে বাইরের ধাক্কা এবং রাজস্বের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করে। উন্নয়নমূলক তহবিলের মতো এটি দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য নয়, বরং এর প্রধান লক্ষ্য হলো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

  • বাফার মেকানিজম (Buffer Mechanism): এটি একটি “বিপদের দিনের বন্ধু” বা সঞ্চয় হিসেবে কাজ করে। যখন দেশের প্রবৃদ্ধি বেশি থাকে বা জিনিসের দাম স্থিতিশীল থাকে, তখন এতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমা করা হয় এবং অর্থনৈতিক মন্দা বা দাম বাড়ার সময় সেই অর্থ ব্যবহার করা হয়।
  • কাউন্টারসাইক্লিক্যাল ফিসকাল পলিসি: এই সুরক্ষা কবচ থাকার ফলে, বিশ্বজুড়ে কোনও সংকট দেখা দিলে বা সরকারের আয় কমে গেলে সামাজিক খাতে খরচ বা মূলধনী ব্যয় হঠাত্ করে কমিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
  • অস্থিরতা মোকাবিলা: ভারতের প্রেক্ষাপটে, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম (যা সম্প্রতি ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে) নিয়ন্ত্রণ করা এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখা।

মূল বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব

  • আর্থিক সুরক্ষা (Fiscal Headroom): এই তহবিল সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাহিদা (যেমন জ্বালানি বা সারের ভর্তুকি) মেটাতে সাহায্য করবে, যার ফলে আর্থিক উত্তরদায়িত্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনা (FRBM) আইনের লক্ষ্যমাত্রা লঙ্ঘিত হবে না।
  • বাহ্যিক ধাক্কা সামলানো: এটি মূলত “ব্ল্যাক সোয়ান” বা অভাবনীয় ঘটনার প্রভাব মোকাবিলা করে। উদাহরণস্বরূপ, হরমোজ প্রণালীতে কোনও সমস্যা হলে ভারতের এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানিতে যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটবে, তা সামলাতে এই তহবিল কাজ করবে।
  • মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও এই তহবিল সেই বাড়তি খরচের বোঝা নিজে বহন করে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ পড়ে না এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
  • সার্বভৌম স্থিতিস্থাপকতা (Sovereign Resilience): এটি অনেকটা ‘সোভেরেন ওয়েলথ ফান্ড’-এর মতো কাজ করে, তবে এর মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

তুলনা: ESF বনাম NIIF

বৈশিষ্ট্যঅর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল (ESF)ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (NIIF)
প্রধান লক্ষ্যসামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধাক্কা সামলানো।অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে গতি আনা।
ধরণএটি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।এটি প্রবৃদ্ধি-নির্ভর এবং উন্নয়নমূলক।
ব্যবহারসংকটের সময় ব্যবহার করা হয় (যেমন তেলের দাম বাড়লে)।নতুন এবং চলমান (greenfield & brownfield) প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।
অর্থায়নবাজেট বরাদ্দ বা অতিরিক্ত অনুদান থেকে আসে।সরকার (৪৯%) এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত।
Q. সম্প্রতি ঘোষিত 'অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল' (ESF) সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:

1. এই তহবিলের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো 'ডিপ-টেক' খাতের স্টার্ট-আপগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূলধন সরবরাহ করা।

2. এই তহবিলটি বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার মতো বাইরের ধাক্কাগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

3. এই তহবিলের জন্য বরাদ্দ অনুদানের অতিরিক্ত চাহিদার (Supplementary Demands for Grants) মাধ্যমে করা হয়েছিল।

উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কয়টি সঠিক?
A)
মাত্র একটি
B) মাত্র দুটি
C) তিনটিই সঠিক
D) কোনটিই নয়

সমাধান:

সঠিক উত্তর: (B) (মাত্র দুটি)

• বিবৃতি 1 ভুল: ESF-এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধাক্কা সামলানো। স্টার্ট-আপগুলোতে মূলধন দেওয়া এর কাজ নয় (এটি RDI ফান্ড বা NIIF-এর মতো অন্যান্য বিশেষ তহবিলের কাজ)।
• বিবৃতি 2 সঠিক: অর্থ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই তহবিলটি বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের জন্য একটি সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
• বিবৃতি 3 সঠিক: ২০২৬ সালের মার্চ মাসে লোকসভায় অনুদানের জন্য দ্বিতীয় দফার অতিরিক্ত চাহিদার মাধ্যমে এই ১ লক্ষ কোটি টাকার বরাদ্দের অনুরোধ করা হয়েছিল।

Practice Today’s MCQs