প্রেক্ষাপট
ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬ প্যামফ্লেট’ (আর্মি পোশাক নির্দেশিকা-২০২৬) প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে পোশাকের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের দেশের সামরিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলা, ব্রিটিশ আমলের পুরনো ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলো বাদ দেওয়া এবং তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) মধ্যে মিল বাড়াতে একটি সাধারণ নম্বর ব্যবস্থা চালু করা।
১. ঔপনিবেশিক আমলের চিহ্ন বর্জন
- আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাদ দেওয়া: বিশেষ কিছু মেস ড্রেস (আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের পোশাক)-এ ব্যবহার করা ‘পাউচ বেল্ট’-এর মতো পুরনো ব্রিটিশ আমলের জিনিসপত্র চিরতরে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- প্যারেডে পরিবর্তন: আনুষ্ঠানিক প্যারেডের সময় তদারকি কর্মকর্তা বা ‘রিভিউইং অফিসার’-এর জন্য তলোয়ার বা তরবারি বহন করা এখন আর বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করা হয়েছে।
- ভাষার আধুনিকীকরণ: ১৯৪৭ সালের আগের ব্রিটিশ সামরিক পরিভাষা এবং পোশাকের পুরনো বিবরণগুলো বদলে ফেলা হয়েছে। এখন স্বাধীন ভারতের জাতীয় পরিচয়ের সাথে মিল রেখে আধুনিক শব্দ ব্যবহার করা হবে।
২. তিন বাহিনীর সমন্বয় (যৌথতা)
- সাধারণ নম্বর ব্যবস্থা (Common Numbering Scheme): সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী—এই তিন বাহিনীর পোশাকের জন্য এখন একটি একই রকম নম্বর ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।
- কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা: সব বাহিনীতে পোশাকের বিভাগগুলো একই রকম হওয়ার ফলে, এক বাহিনী থেকে অন্য বাহিনীতে বদলি বা যৌথ কমান্ডের অধীনে কাজ করার সময় পোশাক সংক্রান্ত যোগাযোগের বিভ্রান্তি দূর হবে।
৩. দেশীয়করণ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়
- দেশীয় পোশাকের অন্তর্ভুক্তি: কর্মকর্তাদের জন্য ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্ডি জ্যাকেট’-কে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত সিভিল-ফরমাল (সামাজিক আনুষ্ঠানিক) পোশাক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ (Intellectual Property Protection): সাধারণ বাজারে যাতে অননুমোদিতভাবে এই পোশাক বিক্রি হতে না পারে এবং দেশের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য নিফট (NIFT)-এর ডিজাইনে তৈরি সেনাবাহিনীর কমব্যাট ডিজিটাল-প্রিন্ট ইউনিফর্মটি (যুদ্ধকালীন পোশাক) আইনগতভাবে রেজিস্টার্ড বা নিবন্ধিত করা হয়েছে।
৪. পদমর্যাদা অনুযায়ী ইউনিফর্মের নিয়ম
- ব্রিগেডিয়ার এবং তার ওপরের পদ (ফ্ল্যাগ র্যাংক): এই পদের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোরভাবে একই রকম পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একই রকম র্যাংক ব্যাজ, বেল্ট বাকল, টুপি (বেরে ক্যাপ) এবং জুতো পরবেন। তাদের নিজস্ব রেজিমেন্টের রশি (ল্যানইয়ার্ড), ফ্ল্যাশ এবং বোতাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কোনো নির্দিষ্ট রেজিমেন্টের পক্ষপাত না করে একটি একত্রিত ও নিরপেক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় তুলে ধরতে পারেন।
- কর্নেল এবং তার নিচের পদ: মাঠপর্যায়ের দলের মনোবল এবং ইউনিটের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এই কর্মকর্তাদের রেজিমেন্টের রঙ, আলাদা প্রতীক এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র আগের মতোই পুরোপুরি বজায় রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন. ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিমার্জিত ইউনিফর্ম নীতি সম্পর্কে নিচের বক্তব্যগুলো বিবেচনা করুন:
বক্তব্য I: যৌথ সামরিক অভিযানের সময় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীতে একটি সাধারণ ইউনিফর্ম নম্বর ব্যবস্থা (Uniform Numbering Scheme) চালু করা হয়েছে।
বক্তব্য II: প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিচয় দৃঢ় করতে লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে জেনারেল পদমর্যাদার সমস্ত কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য রেজিমেন্টের সমস্ত আনুষঙ্গিক পোশাক এবং বিশেষ শোল্ডার ফ্ল্যাশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
ওপরের বক্তব্যগুলোর প্রেক্ষিতে নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) বক্তব্য I এবং বক্তব্য II উভয়ই সঠিক এবং বক্তব্য II হলো বক্তব্য I-এর সঠিক ব্যাখ্যা
(খ) বক্তব্য I এবং বক্তব্য II উভয়ই সঠিক কিন্তু বক্তব্য II হলো বক্তব্য I-এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়
(গ) বক্তব্য I সঠিক কিন্তু বক্তব্য II ভুল
(ঘ) বক্তব্য I ভুল কিন্তু বক্তব্য II সঠিক
সমাধান
সঠিক উত্তর: (গ) বক্তব্য I সঠিক কিন্তু বক্তব্য II ভুল
• বক্তব্য I সঠিক: যৌথ কমান্ডের অধীনে কাজের সমন্বয় বাড়াতে এবং পোশাকের ধরনগুলোকে একই নিয়মে আনতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে একটি সাধারণ ইউনিফর্ম নম্বর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা একটি সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক সংস্কার।
• বক্তব্য II ভুল: নির্দিষ্ট রেজিমেন্টের পোশাক বা প্রতীক বাদ দেওয়ার নিয়মটি কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের (ব্রিগেডিয়ার এবং তার ওপরের পদ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইউনিটের ঐতিহ্য ও মনোবল বজায় রাখার জন্য কর্নেল এবং তার নিচের পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে রেজিমেন্টের ঐতিহ্য, বিশেষ ব্যাজ এবং ল্যানইয়ার্ড পুরোপুরি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।