প্রেক্ষাপট
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) তাদের দ্বিতীয় ‘অ্যানাউন্সমেন্ট অফ অপরচুনিটি‘ (AO) জারি করেছে । এর মাধ্যমে তারা ভারতের সৌর পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে আদিত্য-L1 (Aditya-L1) মিশনের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য গবেষণার প্রস্তাব আহ্বান করেছে । এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের প্রথম নিবেদিত সৌর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের বৈজ্ঞানিক ব্যবহার বৃদ্ধি করা ।
মূল মিশন (Core Mission)
- প্রধান উদ্দেশ্য: আদিত্য-L1 হলো ভারতের প্রথম নিবেদিত মহাকাশ–ভিত্তিক সৌর অভিযান ।
- কার্যকরী অবস্থান: এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে ১.৫ মিলিয়ন কিমি দূরে অবস্থিত সূর্য–পৃথিবী L1 (ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১) বিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে ।
- পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা: এটি L1 বিন্দুর চারপাশের কক্ষপথ থেকে কোনও বাধা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে ।
- তথ্য নীতি: বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের জন্য এই মিশনের সংগৃহীত তথ্য নিয়মিতভাবে পাবলিক ডোমেনে বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ।
উৎক্ষেপণের বিবরণ:
- রকেট বা লঞ্চ ভেহিকেল: PSLV-C57 ।
- উৎক্ষেপণের তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ।
- উৎক্ষেপণ কেন্দ্র: সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার ।
L1 (ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১)-এর কারিগরি গুরুত্ব
- নিরবচ্ছিন্ন দৃশ্য: L1 পয়েন্টের হ্যালো কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের প্রধান সুবিধা হলো সূর্যগ্রহণ বা অন্য কোনও বাধা ছাড়াই সর্বদা সূর্যকে দেখা যায় ।
- রিয়েল–টাইম মনিটরিং: এই অবস্থান থেকে সৌর কার্যকলাপ এবং মহাকাশের আবহাওয়ার ওপর তাদের প্রভাব সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব ।
পে–লোড বা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি (Instruments)
- VELC: ভিজিবল এমিশন লাইন করোনাগ্রাফ (এটি মূল যন্ত্র) ।
- SUIT: সোলার আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজিং টেলিস্কোপ ।
- ASPEX: সৌর বায়ু কণা নিয়ে গবেষণার যন্ত্র ।
- PAPA: প্লাজমা অ্যানালাইজার ।
- MAG: ম্যাগনেটোমিটার ।
উল্লেখযোগ্য সাফল্য
- ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সফলভাবে L1 পয়েন্টের চারপাশের হ্যালো কক্ষপথে প্রবেশ করেছে ।
- টানা সৌর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ।
বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সৌর অভিযানসমূহ
| মিশন (Mission) | সংস্থা (Agency) | বিবরণ |
| PUNCH | NASA | এটি চারটি ছোট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সূর্যের করোনা এবং সৌর শিখার উৎস বোঝার চেষ্টা করে । |
| Proba-3 | ESA | ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এই মিশনটি দুটি স্যাটেলাইটের সাহায্যে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ তৈরি করে সৌর বায়ু নিয়ে গবেষণা করে । |
| Solar Polar Orbit Observatory | China | ২০২৯ সালের জন্য পরিকল্পিত এই মিশনের লক্ষ্য হলো সূর্যের মেরু অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা । |
| Parker Solar Probe | NASA | ২০১৮ সালে উৎক্ষেপিত এই যানটি সূর্যের বায়ুমণ্ডলের খুব কাছ থেকে তার গঠন বিশ্লেষণ করছে । |
| Solar Orbiter | ESA/NASA | ২০২০ সাল থেকে এটি সূর্যের মেরু অঞ্চলের উচ্চ-মানের ছবি সংগ্রহ করছে । |
নিচের সৌর মিশনগুলির (Solar Missions) সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মেলাও:
| ক্রমিক নং | মিশন (Mission) | সংস্থা (Agency) |
|---|---|---|
| ১ | PUNCH | NASA |
| ২ | Proba-3 | ESA |
| ৩ | Solar Polar Orbit Observatory | China |
| ৪ | Parker Solar Probe | ESA |
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
উত্তর: (A)
| নং | মিশন | সংস্থা | স্থিতি | মূল তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | PUNCH | NASA | সঠিক | এটি পূর্ণরূপ হলো Polarimeter to Unify the Corona and Heliosphere। এটি একটি মহাকাশ মিশন যা সূর্যের করোনা অঞ্চলের চিত্র ধারণ করার জন্য পরিকল্পিত। |
| ২ | Proba-3 | ESA | সঠিক | এটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এর একটি মিশন। এটি বিশ্বের প্রথম precision formation flying mission, যা কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ তৈরি করে সূর্যের করোনা অধ্যয়ন করে। |
| ৩ | Solar Polar Orbit Observatory | China | সঠিক | এটি চীনের প্রস্তাবিত একটি মিশন যা সূর্যের মেরু অঞ্চল প্রদক্ষিণ করে সৌর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং সৌর চক্র অধ্যয়ন করবে। |
| ৪ | Parker Solar Probe | ESA | ভুল | Parker Solar Probe আসলে NASA-এর একটি মিশন (ESA নয়)। এটি সূর্যের করোনা ভেদ করে যাওয়া প্রথম মহাকাশযান। |