প্রেক্ষাপট
প্রজেক্ট চিতা (Project Cheetah)-র জন্য একটি বড়সড় ধাক্কা হিসেবে, মধ্যপ্রদেশের শিউপুর জেলায় এক মাস বয়সী চারটি চিতা শাবককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই শাবকগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল কারণ ২০২২ সালে পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে এগুলিই ছিল বিশেষ এনক্লোজার বা ঘেরাটোপের বাইরে উন্মুক্ত বনে জন্ম নেওয়া প্রথম শাবক। বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ সম্ভবত চিতাবাঘের (Leopard) আক্রমণ, যা বন্য পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে।
১. প্রজেক্ট চিতা: উন্মুক্ত বনে সাফল্যের চ্যালেঞ্জ
- অবস্থান: কুনো জাতীয় উদ্যান, মধ্যপ্রদেশ (শিউপুর টেরিটোরিয়াল ডিভিশন)।
- শাবকগুলোর অবস্থা: এই শাবকগুলো ১১ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিল এবং ঘেরাটোপহীন উন্মুক্ত বন পরিবেশে প্রথম সফল জন্মের অংশ ছিল।
- মৃত্যুর কারণ: চিতাবাঘের দ্বারা শিকারের সম্ভাবনা; ডেন বা গুহার কাছে দেহাংশগুলো আংশিক খাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।
২. বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার তাৎপর্য
- আন্তঃ-প্রজাতি প্রতিযোগিতা (Inter-species Competition): এই ঘটনাটি চিতাবাঘের মতো সহ-শিকারিদের (Co-predators) থেকে তৈরি হওয়া হুমকির ওপর গুরুত্ব দেয়, যারা চিতার সাথে একই আবাসস্থল ভাগ করে নেয়।
- অভিযোজনগত বাধা (Acclimatization Hurdles): প্রজেক্ট চিতার সাফল্য পরিমাপ করা হয় অরক্ষিত উন্মুক্ত বনে এই প্রজাতির বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির ক্ষমতার ওপর; এই ক্ষতি একটি স্বনির্ভর বন্য জনসংখ্যা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।
৩. কুনো জাতীয় উদ্যান (KNP) সম্পর্কে
- অবস্থান: মধ্যপ্রদেশের শিউপুর এবং মোরেনা জেলায় বিন্ধ্য পাহাড়ে (Vindhyan Hills) অবস্থিত।
- উদ্ভিদ: মূলত শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য (Dry deciduous forests) এবং উন্মুক্ত তৃণভূমি (সাভানা-ধরণের) নিয়ে গঠিত, যা চিতার মতো দ্রুতগামী শিকারিদের জন্য আদর্শ।
- নদী: কুনো নদী, যা চম্বল নদীর একটি প্রধান উপনদী, এই পার্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ইতিহাস: এটি মূলত এশিয়াটিক লায়ন রিইনট্রোডাকশন প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি বিশ্বের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় বৃহৎ বন্য মাংসাশী প্রাণীর স্থানান্তর প্রকল্পের (প্রজেক্ট চিতা) প্রাথমিক স্থান হয়ে ওঠে।
৪. চিতা প্রজাতি সম্পর্কে
I. উপ-প্রজাতি এবং সংরক্ষণের অবস্থা
- আফ্রিকান চিতা (Acinonyx jubatus jubatus):
- IUCN স্ট্যাটাস: Vulnerable (আশঙ্কাজনক)।
- আবাসস্থল: মূলত আফ্রিকায় (নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা) পাওয়া যায়। বর্তমানে ভারতে এই চিতাগুলোই আনা হচ্ছে।
- এশিয়াটিক চিতা (Acinonyx jubatus venaticus):
- IUCN স্ট্যাটাস: Critically Endangered (অতি বিপন্ন)।
- আবাসস্থল: বর্তমানে শুধুমাত্র ইরানে টিকে আছে।
- ভারতে বিলুপ্তি: অতিরিক্ত শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ১৯৫২ সালে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে এদের বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
II. জৈবিক বৈশিষ্ট্য
- গতি: স্থলভাগের দ্রুততম প্রাণী, যা ঘণ্টায় ১১০ কিমি পর্যন্ত গতিতে দৌড়াতে সক্ষম।
- দিবাচর প্রকৃতি (Diurnal Nature): সিংহ, বাঘ বা চিতাবাঘের মতো নিশাচর প্রাণীদের বিপরীতে, চিতারা মূলত দিনের বেলা শিকার করে যাতে বড় শিকারিদের সাথে প্রতিযোগিতা এড়ানো যায়।
- সামাজিক কাঠামো: স্ত্রী চিতারা একা থাকে (শাবক পালন ছাড়া), অন্যদিকে পুরুষরা প্রায়ই ছোট দল গঠন করে থাকে যাকে কোয়ালিশন (Coalitions) বলা হয়।
Q. কুনো জাতীয় উদ্যান এবং প্রজেক্ট চিতা সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. কুনো জাতীয় উদ্যান প্রাথমিকভাবে এশিয়াটিক লায়ন রিইনট্রোডাকশন প্রজেক্টের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল।
2. এশিয়াটিক চিতা বর্তমানে ভারতে পাওয়া যায় এবং IUCN দ্বারা এটি Vulnerable হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ।
3. চিতারা মূলত দিবাচর প্রাণী এবং সাধারণত দিনের বেলায় শিকার করে।
ওপরের বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) 1 এবং 2 শুধুমাত্র
(b) 1 এবং 3 শুধুমাত্র
(c) 2 এবং 3 শুধুমাত্র
(d) 1, 2 এবং 3
উত্তর: (b) 1 এবং 3 শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: কুনো জাতীয় উদ্যান মূলত এশিয়াটিক লায়ন রিইনট্রোডাকশন প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।
• বিবৃতি 2 ভুল: এশিয়াটিক চিতা শুধুমাত্র ইরানে পাওয়া যায় এবং IUCN অনুযায়ী এটি Critically Endangered।
• বিবৃতি 3 সঠিক: অন্যান্য বড় বিড়াল প্রজাতির মতো নয়, চিতারা মূলত দিনের শিকারি।