এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি UPSC Mains-এর এই মডেল প্রশ্নটি সমাধান করতে পারবেন:
India’s fertilizer crisis is not merely a supply issue, but a structural challenge linked to cropping patterns, subsidy distortions, and declining soil health. Examine. ১৫ নম্বর, GS-3, অর্থনীতি
ভূমিকা
- পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি ও সারের ক্রমবর্ধমান দাম সার উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের (Imported Inputs) ওপর ভারতের নির্ভরশীলতাকে উন্মোচিত করেছে। ভারত তার ইউরিয়া চাহিদার প্রায় ৮০% অভ্যন্তরীণভাবে মেটালেও, এই খাতটি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, দেশে পর্যাপ্ত রক ফসফেট (Rock Phosphate) ভাণ্ডার না থাকায় ফসফ্যাটিক সার মূলত আমদানি করা হয়।
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে জলের ইলেকট্রোলাইসিসের মাধ্যমে উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া (Green Ammonia) সারের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে, তবে জলকষ্টপ্রবণ অঞ্চলে এর স্থায়িত্ব সীমিত।
- একই সাথে, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সার ভারতের খাদ্য নিরাপত্তার (Food Security) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্ষিক প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা সার ভর্তুকিতে ব্যয় করা সত্ত্বেও, ভর্তুকির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ কার্যকর কৃষি উৎপাদনের পরিবর্তে অদক্ষতা এবং দূষণের (Inefficiency and Pollution) মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যায়।
রাসায়নিক সার সম্পর্কে ধারণা
রাসায়নিক সার হলো শিল্পজাত পদার্থ যা উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির উচ্চ ঘনত্ব ধারণ করে। এটি মূলত হেবার-বশ প্রক্রিয়ার (Haber-Bosch Process) মাধ্যমে উৎপাদিত হয়।
- তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদান: NPK
- নাইট্রোজেন (N): পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রূপ হলো ইউরিয়া (Urea)।
- ফসফরাস (P): শিকড়ের বিকাশ এবং বীজ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান রূপ হলো DAP (Di-ammonium Phosphate), যা ভারত প্রায় সম্পূর্ণ আমদানি করে।
- পটাশিয়াম (K): উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা সাধারণত MOP (Muriate of Potash) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আদর্শ অনুপাত ৪:২:১ হলেও ভারতের কিছু অঞ্চলে NPK অনুপাত বর্তমানে ৩৪:১০:১-এ পৌঁছেছে, যা মৃত্তিকার পুষ্টির চরম ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করে।
কৃষি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সারের গুরুত্ব
A. কৃষি উৎপাদনশীলতা:
- উচ্চ ফলনশীল (HYV) বীজ তাদের জেনেটিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণভাবে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীল।
- সীমিত আবাদি জমিতে রবি, খরিফ এবং জায়েদ মরসুমে দ্রুত পুষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে বহুমুখী শস্য পর্যায় (Multiple Cropping) নিশ্চিত করে।
- খাদ্যশস্যের পাশাপাশি তৈলবীজ, ডাল এবং গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
B. সামষ্টিক অর্থনৈতিক তাৎপর্য:
- কৃষি ভারতের ৪২% কর্মসংস্থান এবং ১৭-১৮% GDP-তে অবদান রাখে।
- সার উদ্বৃত্ত উৎপাদন বজায় রাখে, যা Public Distribution System (PDS) বা জনবন্টন ব্যবস্থার ভিত্তি।
- স্থিতিশীল কৃষি উৎপাদন খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি (Food Inflation) নিয়ন্ত্রণে এবং Consumer Price Index (CPI) স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ফসফ্যাটিক এবং পটাশিয়াম সারের জন্য ৪১,৫৩৪ কোটি টাকা ভর্তুকি অনুমোদন করেছে।
রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
- আমদানি নির্ভরতা: রক ফসফেট, পটাশ এবং সালফারের অভাব ভারতকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে বিশ্বের ৩০% সার বাণিজ্য হয়, যা ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনাপ্রবণ।
- ভর্তুকির বোঝা এবং নীতিগত বিকৃতি: ভারত বার্ষিক প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। ইউরিয়া পুষ্টি ভিত্তিক ভর্তুকি (NBS Framework)-এর বাইরে থাকায় এটি সস্তা এবং এর অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
- অল্প দক্ষতা: ইউরিয়ার নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা (NUE) অত্যন্ত কম; মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শস্য দ্বারা শোষিত হয়, বাকিটা উদ্বায়ীভবন বা চুইয়ে পড়ার মাধ্যমে নষ্ট হয়।
- মৃত্তিকার অবক্ষয় ও ফার্টিলাইজার ট্র্যাপ: অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মৃত্তিকার জৈব পদার্থ কমে যায়। এটি ফার্টিলাইজার ট্র্যাপ (Fertilizer Trap) তৈরি করে, যেখানে ফলন ধরে রাখতে কৃষকরা আরও বেশি সার দিতে বাধ্য হন।
সরকারি উদ্যোগসমূহ
- PM-PRANAM প্রকল্প: রাজ্যগুলোকে সারের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার প্রচার করে।
- ন্যানো ইউরিয়া এবং ন্যানো DAP: পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা (NUE) বাড়াতে এবং আমদানি খরচ কমাতে তরল ন্যানো সার ব্যবহার।
- নিশিক্ত ইউরিয়া (Neem Coated Urea): নাইট্রোজেন নির্গমনের গতি ধীর করতে প্রবর্তিত।
- Soil Health Card (SHC) প্রকল্প: মৃত্তিকা পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ সার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
- দলহন আত্মনির্ভরতা মিশন (২০২৫): অড়হর, বিউলি এবং মসুর ডালের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য। তবে এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ডাল চাষের এলাকা মাত্র ১.২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এর দুর্বল বাস্তবায়ন নির্দেশ করে।
ভারতে সারের ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির ভবিষ্যতের পথ
- সার সরবরাহ বৃদ্ধি থেকে পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতার দিকে মনোযোগ স্থানান্তর: ভারতকে কেবল ভর্তুকি-চালিত সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সারের ব্যবহারের দক্ষতা বা Fertilizer Use Efficiency বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কম সার প্রয়োগ করে অধিক ফলন নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত। কৃষি, সার, জল, খাদ্য এবং পরিবেশ দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে Interministerial National Nitrogen Steering Committee-কে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।
- শস্যের ধরণ এবং সংগ্রহ নীতি (Procurement Policies) সংস্কার: সরকারি সংগ্রহ প্রক্রিয়া কেবল ধান ও গমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ডাল, তৈলবীজ এবং মিলেটকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের প্রবণতা কমাবে এবং শস্য বৈচিত্র্যকরণে (Crop Diversification) উৎসাহ দেবে। শিম্বগোত্রীয় শস্যের (Legumes) চাষ বাড়ানো প্রয়োজন, কারণ এগুলো প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন ধরে রাখে। ধান চাষের ২০% এলাকা যদি ডাল চাষের অধীনে আনা যায়, তবে তা সার সাশ্রয় করার পাশাপাশি জলের অপচয় রোধ করবে।
- জৈব ও জৈবিক পুষ্টির উৎসের প্রসার: মৃত্তিকার জৈব কার্বন (Soil Organic Carbon) পুনরুদ্ধার করতে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে গোবর সার, কম্পোস্ট, Biochar এবং জৈব সার (Biofertilizers)-এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। সারের সুপারিশের ক্ষেত্রে প্রথমে জৈব সারকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং রাসায়নিক সার কেবল অভাব পূরণে ব্যবহার করতে হবে। ৪০% জৈব, ৩০% জৈবিক এবং ৩০% রাসায়নিক সারের একটি সুষম মিশ্রণ দীর্ঘমেয়াদী সুস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে।
- প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) এবং দক্ষ পুষ্টি সরবরাহ: নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক মৃত্তিকা পরীক্ষা, Drip Fertigation এবং ড্রোনের মাধ্যমে পাতায় স্প্রে করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুষ্টির অপচয় রোধ করতে হবে। এই প্রযুক্তিগুলো সঠিক পরিমাণে সার সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং দূষণ কমায়।
- গবেষণা এবং জলবায়ু সহনশীল শস্যের জাত শক্তিশালীকরণ: উচ্চ পুষ্টি দক্ষতা সম্পন্ন এবং কম সার প্রয়োজন এমন শস্যের জাত উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ভারতীয় গবেষণা অনুযায়ী, উন্নত ধানের জাত ফলন না কমিয়েই নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সক্ষম।
- সারের কাঠামোগত নীতি সংস্কার: মূল্যের বিকৃতি সংশোধন এবং নাইট্রোজেনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে ইউরিয়াকে পুষ্টি ভিত্তিক ভর্তুকি (NBS Framework)-এর আওতায় আনা প্রয়োজন। Direct Benefit Transfer (DBT)-এর পরিধি বাড়ানো এবং iFMS ব্যবস্থা শক্তিশালী করলে ভর্তুকি সঠিক জায়গায় পৌঁছাবে এবং সারের অপব্যবহার রোধ হবে।
উপসংহার
- ভারতের সার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মূলত নীতিগত বিকৃতি, সংগ্রহ প্রক্রিয়ার ভারসাম্যহীনতা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবজনিত একটি সিস্টেমিক ব্যর্থতা (Systemic Failure)। এর সমাধানের জন্য বিচ্ছিন্ন হস্তক্ষেপের বদলে পুরো চাষ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
- শস্য সংগ্রহে সাহসী সংস্কার, ডাল ও শিম্বগোত্রীয় শস্য চাষে প্রকৃত উৎসাহ প্রদান, মৃত্তিকার স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং সারের দামের কাঠামোগত সংশোধনের মাধ্যমেই ভারত ‘ফার্টিলাইজার ট্র্যাপ’ থেকে মুক্তি পেতে পারে। এটি একইসাথে খাদ্য নিরাপত্তা, আর্থিক সুস্থিতি এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করবে।