প্রেক্ষাপট
- মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার (ওঙ্কারেশ্বর) একটি সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সিকল সেল-সম্পর্কিত রোগগুলো নির্মূল করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, সব রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।
মূল বিষয়সমূহ
- রোগ নির্মূলের লক্ষ্য বছর: ২০৪৭ সাল হলো ভারত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল করার অফিশিয়াল লক্ষ্য বছর।
- জাতীয় মিশন চালু: ২০২৩ সালে জাতীয় সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশন (National Sickle Cell Anaemia Elimination Mission) চালু করা হয়েছিল।
- অর্জিত প্রধান মাইলফলক: নির্ধারিত সময়ের আগেই, এই মিশনের আওতায় ০ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করা হয়েছে।
- ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় উপজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সিকল সেল অ্যানিমিয়ার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সিকল সেল অ্যানিমিয়া কী?
- রোগের প্রকৃতি: এটি একটি বংশগত/জেনেটিক রক্তজনিত ব্যাধি (যা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়)।
- কাজের প্রক্রিয়া: এটি রক্তের লোহিত রক্তকণিকার (RBCs) আকৃতিকে প্রভাবিত করে, যা শরীরের সমস্ত অংশে অক্সিজেন বহন করে। লোহিত রক্তকণিকাগুলো গোল এবং নমনীয় হওয়ার পরিবর্তে শক্ত, আঠালো এবং সিকল বা কাস্তের মতো অথবা অর্ধচন্দ্রাকৃতির হয়ে যায়।
- এটি কোনো ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়।
- অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, রক্তক্ষরণ এবং বংশগত ব্যাধি যেমন সিকল সেল অ্যানিমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া।
- প্রভাব: এই অস্বাভাবিক আকৃতির কোষগুলো ছোট ছোট রক্তনালীতে আটকে যেতে পারে, যা রক্ত প্রবাহ এবং অক্সিজেন সরবরাহকে ধীর বা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে তীব্র ব্যথা, শরীরের কলার (tissue) ক্ষতি এবং রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
উপসর্গসমূহ
- দীর্ঘস্থায়ী রক্তাল্পতা (Chronic anaemia)
- তীব্র ব্যথার এপিসোড বা আক্রমণ (vaso-occlusive crises)
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- হাত ও পা ফুলে যাওয়া
- ঘন ঘন সংক্রমণ বা ইনফেকশন হওয়া
- শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বা বাড়ন্ত ব্যাহত হওয়া
- স্ট্রোক, কিডনির ক্ষতি, ফুসফুসের জটিলতা (গুরুতর ক্ষেত্রে)
চিকিৎসা
- ব্যথা নিয়ন্ত্রণ বা উপশম (Pain management)
- রক্ত সঞ্চালন (Blood transfusion)
- হাইড্রোক্সিউরিয়া থেরাপি (Hydroxyurea therapy)
- ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক গ্রহণ
- বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা (স্টেম সেল) প্রতিস্থাপন (নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য)
- জিন থেরাপি (উন্নত ও উদীয়মান চিকিৎসা ব্যবস্থা)
রক্তাল্পতার বিরুদ্ধে সরকারি উদ্যোগসমূহ
১. অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত (AMB)
- ২০১৮ সালে চালু করা হয়।
- এটি পোষণ অভিযানের (POSHAN Abhiyaan) একটি অংশ।
- এটি মূলত যাদের মধ্যে রক্তাল্পতা কমানোর ওপর জোর দেয়:
- শিশু
- কিশোর-কিশোরী
- সন্তান ধারণে সক্ষম নারী
- গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মা
২. সাপ্তাহিক আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিড সম্পূরক কর্মসূচি
৩. পোষণ অভিযান
৪. ন্যাশনাল আয়রন প্লাস ইনিশিয়েটিভ
প্রশ্ন: জাতীয় সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশনের প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. এটি ২০২৩ সালে চালু করা হয়েছিল।
2. এর লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে সিকল সেল রোগ নির্মূল করা।
3. এটি মূলত ০ থেকে ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
ওপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 2 এবং 3
(c) কেবল 1 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
সঠিক উত্তর: (d) 1, 2 এবং 3
ব্যাখ্যা:
ওপরের তিনটি বিবৃতিই সঠিক।
• বিবৃতি 1 সঠিক: ভারত সরকার ১ জুলাই ২০২৩-এ জাতীয় সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশন (NMSCA) চালু করেছিল।
• বিবৃতি 2 সঠিক: ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষের সাথে মিল রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে সিকল সেল রোগ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে এই মিশন কাজ করছে।
• বিবৃতি 3 সঠিক: এই মিশনের লক্ষ্য মূলত উপজাতি-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ০–৪০ বছর বয়সী প্রায় ৭ কোটি মানুষের স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।