প্রেক্ষাপট (Context):
- আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) আনুষ্ঠানিকভাবে রাখিগড়ি (Rakhigarhi) থেকে খনন করা মানুষের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (AnSI)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে। এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য হল সিন্ধু সভ্যতার (Indus Valley Civilization) বংশোদ্ভূত, পরিবেশ এবং জীবনধারা বোঝার জন্য উন্নত ডিএনএ (DNA) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা।
অবস্থান এবং মর্যাদা (Location and Status):
- ভৌগলিক অবস্থান: হরিয়ানার (Haryana) হিসার (Hisar) জেলায়, শুষ্ক ঘগ্গর–হাকরা (সরস্বতী) নদীর সমভূমিতে অবস্থিত।
- বৃহত্তম বসতি: ৫৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, এটি মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা এবং ধোলাভিরাকে ছাড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হরপ্পা সভ্যতার বৃহত্তম পরিচিত বসতি হিসাবে স্বীকৃত।
- কালানুক্রম: এই স্থানটি তিনটি পর্যায়ে একটানা বসবাসের প্রমাণ দেয়: প্রাথমিক, পরিণত (২৬০০–১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), এবং পরবর্তী হরপ্পা যুগ।
ডিএনএ (DNA) ফাইন্ডিংস এবং বংশপরিচয়:
- মাউন্ড ৭ (Mound 7) আবিষ্কার: এই নির্দিষ্ট কবরস্থানের খননে ৫৬টি কঙ্কাল পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ৪,৬০০ বছরের পুরানো মহিলা কঙ্কাল রয়েছে।
- স্বদেশী উৎপত্তি: এই অবশিষ্টাংশগুলির জিনোমিক বিশ্লেষণে “স্টেপ পশুপালক” (Steppe pastoral) (ইন্দো–আর্য) জিন এবং প্রাচীন ইরানি কৃষকদের বংশোদ্ভূতদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি পূর্ববর্তী মাইগ্রেশন বা পরিযান তত্ত্বকে খণ্ডন করে এবং হরপ্পান জনগণের জন্য একটি স্বতন্ত্র, স্বদেশী উৎপত্তির (Indigenous Origin) দিকে নির্দেশ করে।
শহুরে স্থাপত্য এবং অর্থনীতি (Urban Architecture and Economy):
- নগর পরিকল্পনা: এই বসতিটিতে কাদা এবং পোড়া ইটের ঘর রয়েছে যার সাথে অত্যন্ত কার্যকর নিকাশী এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা ছিল।
- শ্রেণী বিভাগ: মাউন্ড ৩ (Mound 3)-এর খননে উল্লেখযোগ্য পোড়া ইটের কাঠামোর সাথে একটি অভিজাত বসতির সন্ধান মিলেছে।
- শস্যাগার: সাতটি আয়তক্ষেত্রাকার কক্ষ এবং পচে যাওয়া শস্যের চিহ্ন সহ একটি বিশিষ্ট কাদা-ইটের শস্যাগার (Granary) আবিষ্কৃত হয়েছে।
- বাণিজ্য এবং ল্যাপিডারি: স্টিয়াটাইট পুঁতি, প্রমিত ওজনের বাটখারা, মাছ ধরার বড়শি এবং একটি সমৃদ্ধ “খেলনা সংস্কৃতি” (Toy culture) আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক অর্থনীতির প্রমাণ মেলে।
রীতিনীতি এবং প্রত্নবস্তু (Rituals and Artefacts):
- আনুষ্ঠানিক অনুশীলন: জটিল রীতিনীতির প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ত্রিভুজাকার অগ্নিবেদি এবং পশুবলির নির্দেশক নির্দিষ্ট এলাকার আবিষ্কার।
- অনন্য সীলমোহর: একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল একটি সীলমোহর যেখানে পাঁচটি হরপ্পান অক্ষরের সাথে একটি কুমিরের (alligator) প্রতীক চিত্রিত করা হয়েছে।
ঐতিহ্য উন্নয়ন (Heritage Development):
- গ্লোবাল মিউজিয়াম: ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (MoU) পরে, রাখিগড়িকে একচেটিয়াভাবে হরপ্পা সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর হোস্ট করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে।
- বিপন্ন অবস্থা: ২০১২ সালে, গ্লোবাল হেরিটেজ ফান্ড রাখিগড়িকে এশিয়ার দশটি সবচেয়ে বিপন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির মধ্যে একটি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
রাখিগড়ির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সম্পর্কে, নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
I. এটি সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম পরিচিত বসতি, যা ঘগ্গর-হাকরা নদীর সমভূমিতে অবস্থিত। II. এই স্থানের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশের সাম্প্রতিক ডিএনএ বিশ্লেষণে হরপ্পান মানুষের মধ্যে স্টেপ পশুপালক জিনের (steppe pastoral gene) উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপরে দেওয়া বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি সঠিক? (a) শুধুমাত্র I (b) শুধুমাত্র II (c) I এবং II উভয়ই (d) I বা II কোনটিই নয়
Answer: (a)
ব্যাখ্যা (Explanation): বিবৃতি I সঠিক: রাখিগড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম পরিচিত বসতি হিসাবে স্বীকৃত, মোট আয়তনে এটি মহেঞ্জোদারোকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ভৌগোলিকভাবে এটি হরিয়ানার ঘগ্গর-হাকরা নদীর সমভূমিতে অবস্থিত।
বিবৃতি II ভুল: রাখিগড়ি থেকে খনন করা কঙ্কালের অবশিষ্টাংশের জিনোমিক গবেষণা এবং ডিএনএ বিশ্লেষণে আসলে স্টেপ পশুপালকদের বংশোদ্ভূতদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলাফলগুলি চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে হরপ্পার জনসংখ্যা মূলত স্বদেশী উৎপত্তির ছিল এবং সেই যুগে স্টেপ অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য জিনগত প্রবাহ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কৃষি পদ্ধতির বিকাশ করেছিল।