প্রসঙ্গ
- সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার লোকসভায় সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬ উপস্থাপন করেছে। এর উদ্দেশ্য প্রধান বিচারপতিকে (CJI) বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ থেকে ৩৮-এ বৃদ্ধি করা, যাতে মুলতুবি মামলার জট কমানো এবং বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।
সাংবিধানিক বিধান
- অনুচ্ছেদ ১২৪ (Article 124)
- সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ও গঠন সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।
- বিচারপতিদের নিয়োগ
- ভারতের রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন।
- নিয়োগ কলেজিয়াম পদ্ধতি (Collegium System) অনুযায়ী হয়, যা বিচারিক রায়ের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- অবসরের বয়স
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- অপসারণ
- প্রমাণিত অসদাচরণ (proved misbehaviour) বা অক্ষমতার (incapacity) ভিত্তিতে, সংসদের উভয় কক্ষের বিশেষ প্রস্তাব (address)-এর পর রাষ্ট্রপতি একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণ করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিবর্তন
| বছর | সংশোধনী আইন | অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা | বিন্যাস |
| ১৯৫০ | মূল সাংবিধানিক বিধান [অনুচ্ছেদ ১২৪(১)] | ৮ জন | ১ জন প্রধান বিচারপতি (CJI) + ৭ জন অন্যান্য বিচারপতি (Puisne Judges) |
| ১৯৫৬ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) আইন, ১৯৫৬ | ১১ জন | ১ জন CJI + ১০ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ১৯৬০ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী আইন, ১৯৬০ | ১৪ জন | ১ জন CJI + ১৩ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ১৯৭৭/৭৮ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী আইন, ১৯৭৭ (১৯৭৮ সালে কার্যকর) | ১৮ জন | ১ জন CJI + ১৭ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ১৯৮৬ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী আইন, ১৯৮৬ | ২৬ জন | ১ জন CJI + ২৫ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ২০০৮/০৯ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী আইন, ২০০৮ (২০০৯ সালে কার্যকর) | ৩১ জন | ১ জন CJI + ৩০ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ২০১৯ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী আইন, ২০১৯ | ৩৪ জন | ১ জন CJI + ৩৩ জন অন্যান্য বিচারপতি |
| ২০২৬ | সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (বর্তমান) | ৩৮ জন | ১ জন CJI + ৩৭ জন অন্যান্য বিচারপতি |
বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
- ক্রমবর্ধমান মামলার জট: বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ৯২,০০০-এরও বেশি মামলা মুলতুবি রয়েছে।
- মামলার চাপ বৃদ্ধি: প্রতি বছর নতুন দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যাকে অতিক্রম করছে।
- জটিল সাংবিধানিক মামলা: গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য বৃহত্তর সংবিধান বেঞ্চ (Constitution Bench) গঠন করতে হয়, যা বিচারপতিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
- সময়মতো বিচার নিশ্চিতকরণ: বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব কমাতে এবং ন্যায়বিচারে সহজ ও দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
প্রশ্ন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
I. ভারতের সংবিধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
II. সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারে।
III. সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা গণনার সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উপরের কোন বিবৃতিটি/বিবৃতিগুলি সঠিক?
(A) শুধুমাত্র II
(B) শুধুমাত্র I এবং II
(C) শুধুমাত্র II এবং III
(D) I, II এবং III
উত্তর: (A) শুধুমাত্র II
বিবৃতি I ভুল: সংবিধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সংখ্যা নির্ধারণ করে না। অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করে।
বিবৃতি II সঠিক: সংসদ সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) আইন এবং এর সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারে।
বিবৃতি III ভুল: সাধারণভাবে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা প্রধান বিচারপতি (CJI)-কে বাদ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত ২০২৬ সংশোধনী অনুযায়ী ৩৭ জন অন্যান্য বিচারপতি + ১ জন CJI = মোট ৩৮ জন বিচারপতি।