এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি ইউপিএসসি মেইন্স মডেল প্রশ্নের সমাধান করতে পারবেন:
“Climate change has transformed floods in Assam from seasonal events into recurrent extreme disasters.” Discuss the causes, impacts and suggest measures to enhance flood resilience. (10 marks, GS3 Environment Ecology and Disaster management)
কেন এটি খবরের শিরোনামে এসেছে
সাম্প্রতিক সময়ে, আসাম সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যা ১৬ লাখেরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছে, হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত করেছে, পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য জুড়ে ভূমিধস ঘটিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই ভয়াবহতার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন–জনিত চরম বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয় পরিবেশগত অবক্ষয়ের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়াকে দায়ী করেছেন।
ভূমিকা
- ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদী ব্যবস্থার কারণে আসামে বন্যা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে, ২০২৬ সালে পরিলক্ষিত বন্যা অভূতপূর্ব, কারণ এতে চরম বৃষ্টিপাত, জলবায়ু পরিবর্তন, ভৌগোলিক স্পর্শকাতরতা এবং ক্রমবর্ধমান মানব–সৃষ্ট পরিবেশগত অবক্ষয়ের যৌথ প্রভাব রয়েছে।
- এই বিপর্যয়টি প্রমাণ করে যে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হাইড্রো–মেটিওরোলজিক্যাল বা জল–আবহাওয়াজাত দুর্যোগকে তীব্রতর করছে, যার ফলে প্রথাগত বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশলগুলি অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ছে।
আসামে বারবার বন্যা হওয়ার পেছনের কারণসমূহ
১. জলবায়ু পরিবর্তন–জনিত চরম বৃষ্টিপাত (প্রাথমিক কারণ)
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে (ক্লসিয়াস-ক্ল্যাপেরন সম্পর্ক অনুসারে প্রতি ১° সেলসিয়াস উষ্ণায়নে প্রায় ৭% বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব)। এর ফলে ঘটে:
- স্বল্পস্থায়ী, উচ্চ–তীব্রতার বৃষ্টিপাত
- মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো ঘটনা
- ঘনঘন চরম বৃষ্টিপাত
ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের বদলে, আসামে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা নদী এবং জলনিষ্কাশন ব্যবস্থার ধারণক্ষমতাকে অতিক্রম করে ফেলছে।
২. দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে তীব্রতর করছে জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে ক্রমশ অনিয়মিত করে তুলেছে। এর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:
- বিলম্বে আগমন
- দীর্ঘ শুষ্ক সময়কাল
- হঠাৎ তীব্র বৃষ্টিপাত
- স্থানভিত্তিক চরম আবহাওয়ার ঘটনা
এই ধরনের বৃষ্টিপাত দ্রুত নদীর জলপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যা ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার দিকে পরিচালিত করে।
৩. আসামের ভৌগোলিক স্পর্শকাতরতা
আসামের প্রাকৃতিক ভূসংস্থান স্বাভাবিকভাবেই এটিকে বন্যাপ্রবণ করে তোলে।
ক) ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্রেইডেড (বিনুনি আকৃতির) নদী। নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ জলপ্রবাহ গ্রহণ করে:
- তিব্বত
- অরুনাচল প্রদেশ
- মেঘালয়
- ভুটান
সম্পূর্ণ অববাহিকা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জলের স্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পায়।
খ) নিচু প্লাবনভূমি
আসামের বেশির ভাগ অংশ ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমির মধ্যে অবস্থিত, যা জনবসতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তোলে।
গ) উচ্চ পলি বহন মাত্রা
ব্রহ্মপুত্র বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহন করে, যার কারণ হলো:
- নবীন হিমালয় ভূতত্ত্ব
- মৃত্তিকা ক্ষয়
- ভূমিধস
পলি সঞ্চয়ের ফলে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায় এবং জল বহন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৪. মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ওগ্রাফিক (শৈলোৎক্ষেপ) বৃষ্টিপাত
আর্দ্রতাপূর্ণ মৌসুমী বায়ু নিম্নে উল্লিখিত পাহাড়গুলিতে বাধা পায়:
- মেঘালয়
- অরুনাচল প্রদেশ
- নাগাল্যান্ড
এর ফলে ঘটে:
- শৈলোৎক্ষেপ উত্তোলন
- মেঘভাঙা বৃষ্টি
- অত্যন্ত তীব্র স্থানভিত্তিক বৃষ্টিপাত
এই অতিরিক্ত প্রবাহ অবশেষে আসামের নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।
৫. সম্পূর্ণ নদী অববাহিকা জুড়ে একই সাথে বৃষ্টিপাত
বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে নিম্নলিখিত স্থানগুলিতে একই সাথে বৃষ্টিপাত হয়েছে:
- আসাম
- অরুনাচল প্রদেশ
- মেঘালয়
- ভুটান
এই একই সাথে হওয়া বৃষ্টিপাতের (Synchronized Rainfall) কারণে সমস্ত উপনদী একসাথে ফুলে-ফেঁপে ওঠে, যা ব্রহ্মপুত্রের জলপ্রবাহকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে।
৬. বন উচ্ছেদ এবং বনের অবক্ষয়
বনভূমি ধ্বংসের ফলে বৃষ্টিপাত শোষণ করার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর পরিণতিগুলির মধ্যে রয়েছে:
- পৃষ্ঠীয় জলপ্রবাহ (Surface Runoff) বৃদ্ধি
- মৃত্তিকা ক্ষয়
- ভূমিধস
- নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া
বনভূমি প্রাকৃতিক স্পঞ্জ হিসেবে কাজ করে বৃষ্টিপাতের প্রবাহকে বিলম্বিত করে।
৭. জলাভূমি এবং প্লাবনভূমি দখল
গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলির অবক্ষয় ঘটেছে মূলত:
- শহরাঞ্চলের প্রসারণ
- অবৈধ বসতি স্থাপন
- পরিকাঠামো উন্নয়ন
জলাভূমি ধ্বংসের ফলে অতিরিক্ত বন্যার জল ধরে রাখার প্রাকৃতিক ক্ষমতা কমে গেছে।
৮. অপরিকল্পিত নগরায়ন
গুয়াহাটির মতো শহরগুলি ভয়াবহ নগর বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যার কারণ:
- দখল হওয়া ড্রেনেজ চ্যানেল
- কংক্রিটকরণ
- অবরুদ্ধ স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেন
- দুর্বল ভূমিরূপ পরিকল্পনা
৯. নদীভাঙন
ব্রহ্মপুত্র নদ প্রতি বছর তীব্র নদীভাঙনের সম্মুখীন হয়। এর প্রভাবসমূহ:
- নদীখাত বিস্তৃত হওয়া
- কৃষিজমি বিনষ্ট হওয়া
- জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত হওয়া
- পলি সঞ্চয় বৃদ্ধি পাওয়া
চরম আবহাওয়ার ঘটনার চ্যালেঞ্জসমূহ
১. ক্রমবর্ধমান পুনরাবৃত্তি এবং তীব্রতা
- প্রবল দাবদাহ
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- মেঘভাঙা বৃষ্টি
- ভূমিধস
- গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOFs) ইত্যাদি ঘটনার পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. পূর্বাভাস দেওয়ার চ্যালেঞ্জ
স্থানভিত্তিক তীব্র বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যমান পূর্বাভাসের মডেলগুলির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
৩. অপর্যাপ্ত নগর পরিকাঠামো
- দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা
- জমি দখল
- দুর্যোগ সহনশীলতাহীন দুর্বল পরিকাঠামো ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
৪. পরিবেশগত অবক্ষয়
- বন উচ্ছেদ
- জলাভূমি ধ্বংস
- নদীর দূষণ
- বালু উত্তোলন ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের সহনশীলতা কমিয়ে দেয়।
৫. ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষতি
- কৃষি
- পরিবহন
- বিদ্যুৎ পরিকাঠামো
- পর্যটন
- জীবিকা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৬. দুর্যোগ প্রস্তুতিতে ঘাটতি
অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে এখনো অভাব রয়েছে:
- আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা
- জনসচেতনতা
- স্থানান্তরের পরিকাঠামো
- দুর্যোগ সহনশীল আবাসন
৭. জলবায়ু অভিযোজন ঘাটতি
উন্নয়ন মূলক পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নকে সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বন্যার প্রভাব
ক) পরিবেশগত প্রভাব
- ব্যাপক মৃত্তিকা ক্ষয়
- নদীভাঙন
- জলাভূমির অবক্ষয়
- জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
- কাজীশৈল ও অন্যান্য সংরক্ষিত অঞ্চলে বাসস্থান ধ্বংস
- ভূমিধস বৃদ্ধি
- জল দূষণ
খ) সামাজিক প্রভাব
- ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি
- মানুষের প্রাণহানি
- খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
- স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা
- জলবাহিত রোগের বিস্তার
- শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া
গ) অর্থনৈতিক প্রভাব
- ফসল ধ্বংস
- গবাদি পশুর ক্ষতি
- রাস্তা ও সেতুর ক্ষতি
- রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়া
- স্থানীয় ব্যবসায় মন্দা
- ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি
ঘ) শাসনতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ (Governance Challenges)
- কঠিন উদ্ধার অভিযান
- দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণ
- বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার পুনর্বাসন
- বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন
সরকারি উদ্যোগসমূহ
১. জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA)
- বন্যা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নির্দেশিকা
- ক্ষমতা বৃদ্ধি
- কমিউনিটি-ভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
২. জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (NDRF)
- অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ
- চিকিৎসা সহায়তা
- ত্রাণ কার্যক্রম
- বন্যার সময় স্থানান্তর বা ইভাকুয়েশন
৩. ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)
- ইম্প্যাক্ট-বেসড ওয়েদার ফোরকাস্টিং (প্রভাব-ভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস)
- ডপলার ওয়েদার রাডার
- ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
- বজ্রপাতের সতর্কতা
৪. কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC)
- বন্যা পূর্বাভাস স্টেশন
- নদীর জলের স্তর পর্যবেক্ষণ
- জলাধার ব্যবস্থাপনা সহায়তা
- রিয়েল-টাইম বন্যা সতর্কতা
৫. বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত এলাকা কর্মসূচি (FMBAP)
- বাঁধ নির্মাণ
- ক্ষয় রোধমূলক ব্যবস্থা
- জলনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
- নদী প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কাজ
৬. জাতীয় হাইড্রোলজি প্রকল্প
- রিয়েল–টাইম হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা
- উন্নত বন্যা পূর্বাভাস
- অববাহিকা–ভিত্তিক জল ব্যবস্থাপনা
৭. জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় কার্য পরিকল্পনা (NAPCC)
প্রাসঙ্গিক মিশনগুলির মধ্যে রয়েছে:
- জাতীয় জল মিশন
- গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন
- টেকসই কৃষি মিশন এগুলি জলবায়ু সহনশীলতা এবং বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করে।
৮. বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০)
ভারত তার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশলকে সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলেছে, যা আলোকপাত করে:
- ঝুঁকি হ্রাস
- প্রস্তুতি
- বিল্ড ব্যাক বেটার (পুনর্নির্মাণ ব্যবস্থা)
- সহনশীলতা
৯. আসাম রাজ্য–স্তরের পদক্ষেপসমূহ
- SDRF মোতায়েন
- স্থানান্তর বা ত্রাণ শিবির তৈরি
- নৌকায় উদ্ধার অভিযান
- ত্রাণ বিতরণ
- আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো
- বাঁধ শক্তিশালীকরণ
ভবিষ্যতের পথ বা করণীয় (Way Forward)
১. বন্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়‘ রূপান্তর
উন্নত তথ্য বিনিময় এবং অববাহিকা পরিকল্পনার জন্য ভারত, ভুটান এবং চীনের মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (IRBM) গ্রহণ করা।
২. প্রকৃতি–ভিত্তিক সমাধান (Nature-Based Solutions)
- প্রাকৃতিক জলের বাফার হিসেবে জলাভূমি এবং প্লাবনভূমি পুনরুজ্জীবিত করা।
- উজান অববাহিকায় বৃহৎ আকারের বৃক্ষরোপণ।
- ভাঙন কমাতে নদীর তীরবর্তী গাছপালা রক্ষা করা।
৩. জলবায়ু–সহনশীল পরিকাঠামো
- উঁচু রাস্তা, সেতু, স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ।
- ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলিতে বন্যা-সহনশীল আবাসন তৈরি করা।
৪. আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা
- ডপলার ওয়েদার রাডার কভারেজ বাড়ানো।
- নদী পর্যবেক্ষণে AI, উপগ্রহ চিত্রবিদ্যা, GIS এবং IoT ব্যবহার করা।
- মোবাইল অ্যালার্ট এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে প্রান্তিক স্তরে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
৫. বৈজ্ঞানিক ভূমিরূপ পরিকল্পনা
- প্লাবনভূমিতে নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করা।
- জোনভিত্তিক নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং জলাভূমি দখল রোধ করা।
৬. নগর বন্যা ব্যবস্থাপনার উন্নতি
- স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন।
- জল প্রবেশযোগ্য সারফেস তৈরি ও বৃষ্টির জল সঞ্চয়ন নিশ্চিত করা।
- শহরের জলাশয়গুলি পুনরুদ্ধার করা।
৭. ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার
- পূর্ব হিমালয়ের বনভূমি সংরক্ষণ।
- অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করা।
- ক্যাচমেন্ট এরিয়া ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা।
৮. সম্প্রদায়–ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (Community-Based Disaster Risk Reduction)
- স্থানান্তর এবং প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- গ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও শক্তিশালী করা।
- বন্যা বিমা এবং বিকল্প জীবিকাকে উৎসাহিত করা।
উপসংহার
- আসামের এই অভূতপূর্ব বন্যা জলবায়ু-সৃষ্ট হাইড্রো-মেটিওরোলজিক্যাল বা জল-আবহাওয়াজাত বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান বাস্তবতাকেই তুলে ধরে, যেখানে পরিবেশগত অবক্ষয় এবং অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের ফলে প্রাকৃতিক স্পর্শকাতরতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রথাগত ত্রাণের মানসিকতা থেকে বের হয়ে পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক, বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক এবং জলবায়ু-সহনশীল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি আমূল পরিবর্তন বা প্যারাডাইম শিফট প্রয়োজন।
- বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস, টেকসই নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, সহনশীল পরিকাঠামো এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে একত্রিত করার মাধ্যমে ভারত তার দুর্যোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমাতে পারে। যা ভারতের জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে—যা ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭‘-এর স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি অন্যতম প্রধান শর্ত।