প্রেক্ষাপট
উত্তরাখণ্ডের পবিত্র চারধাম যাত্রা সম্প্রতি ২০২৬ সালের ১৯শে এপ্রিল থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা হিন্দুধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রার সূচনা নির্দেশ করে। উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত এই যাত্রাটি অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত এবং ঐতিহ্যগতভাবে এটি একটি নির্দিষ্ট ঘড়ির কাঁটার দিকে (দক্ষিণাবর্তে) সম্পন্ন করা হয়।
১. চারধাম সম্পর্কে
‘চারধাম’ বলতে হিন্দুধর্মের দুটি ভিন্ন তীর্থযাত্রার সমষ্টিকে বোঝায়:
- বড় চারধাম (দেশব্যাপী): জাতীয় ঐক্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই তালিকায় রয়েছে বদরিনাথ (উত্তর), পুরী (পূর্ব), রামেশ্বরম (দক্ষিণ) এবং দ্বারকা (পশ্চিম)।
- ছোট চারধাম (হিমালয়): এটি উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত এবং যমুনাদ্রি, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদরিনাথ নিয়ে গঠিত। সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন হয়।
২. চারটি পবিত্র স্থান
- যমুনোত্রী (Yamunotri): এটি দেবী যমুনার প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং যাত্রার প্রথম বিরতি ও যমুনা নদীর উৎস। তীর্থযাত্রীরা এখানকার সূর্য কুণ্ডের (গরম জলের প্রস্রবণ) গরম জলে চাল ফুটিয়ে প্রসাদ তৈরি করেন।
- গঙ্গোত্রী (Gangotri): এটি দেবী গঙ্গার প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত। বিশ্বাস করা হয়, এখান থেকেই গঙ্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
- কেদারনাথ (Kedarnath): এটি ভগবান শিবের প্রতি উৎসর্গীকৃত ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় মন্দাকিনী নদীর তীরে ৩৫৮৪ মিটার উচ্চতায় এটি অবস্থিত।
- বদ্রীনাথ (Badrinath): অলকানন্দা নদীর তীরে ৩৪১৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ধামটি ভগবান বিষ্ণুর (বদ্রী রূপ) প্রতি উৎসর্গীকৃত। নবম শতাব্দীতে আদি শংকরাচার্য এটি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
৩. শীতকালীন চারধাম সার্কিট
শীতকালে (সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল/মে) অত্যধিক তুষারপাতের কারণে বিগ্রহগুলোকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়:
- কেদারনাথ: উখিমঠের ওঁকারেশ্বর মন্দিরে স্থানান্তরিত করা হয়।
- বদরিনাথ: পাণ্ডুকেশ্বর বা যোশীমঠের যোগধ্যান বদ্রী মন্দিরে আনা হয়।
- গঙ্গোত্রী: মুখবা গ্রামে পূজিত হন।
- যমুনাদ্রি: খুশিমঠ (খাড়সালি) গ্রামে স্থানান্তরিত হন।
৪. পঞ্চপ্রয়াগ (Panch Prayag)

হিমালয় থেকে নেমে আসা বিভিন্ন নদী যেখানে অলকানন্দা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে, সেই পাঁচটি পবিত্র সংগমস্থলকে পঞ্চপ্রয়াগ বলা হয়:
- বিষ্ণুপ্রয়াগ: অলকানন্দা ও ধৌলীগঙ্গার সংগমস্থল।
- নন্দপ্রয়াগ: অলকানন্দা ও নন্দাকিনী নদীর মিলনস্থল।
- কর্ণপ্রয়াগ: অলকানন্দা ও পিণ্ডার নদীর সংগম; এটি কর্ণের তপস্যার সাথে যুক্ত।
- রুদ্রপ্রয়াগ: অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর মিলনস্থল।
- দেবপ্রয়াগ: অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সংগম; এখান থেকেই নদীটি গঙ্গা নামে পরিচিত হয়।
প্রশ্ন: পঞ্চপ্রয়াগ প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
১. পাঁচটি সঙ্গমস্থলের প্রতিটিতেই অলকানন্দা নদী জড়িত।
২. রুদ্রপ্রয়াগ হলো মন্দাকিনী ও ভাগীরথী নদীর মিলনস্থল।
৩. কর্ণপ্রয়াগ মহাভারতের কর্ণের সাথে সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর কোনটি?
(a) মাত্র ১ এবং ৩
(b) মাত্র ২ এবং ৩
(c) মাত্র ১
(d) ১, ২ এবং ৩
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি ১ সঠিক: অলকানন্দা নদী পাঁচটি প্রয়াগেই সাধারণ যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে।
• বিবৃতি ২ ভুল: রুদ্রপ্রয়াগ হলো অলকানন্দা ও মন্দাকিনীর মিলনস্থল। ভাগীরথী ও অলকানন্দার মিলনস্থল হলো দেবপ্রয়াগ।
• বিবৃতি ৩ সঠিক: জনশ্রুতি অনুযায়ী, কর্ণ এখানেই সূর্য দেবতার তপস্যা করেছিলেন।