প্রেক্ষাপট
আমেরিকা/ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । এর ফলে প্রায় ৩০০টি কফি কন্টেইনার (৬,০০০ টন) আটকে পড়েছে, যার ফলে পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপীয় বাজারের ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বিশাল খরচ বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক বিলম্বের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ।
১. লজিস্টিক এবং বাণিজ্য বিপর্যয়
- ভাড়া বৃদ্ধি: প্রতিটি কন্টেইনারের ডেলিভারি খরচ সাধারণ ভাড়ার ($৮০০–$১,০০০) তুলনায় $৫,০০০ থেকে $৬,০০০ পর্যন্ত বেড়েছে ।
- যুদ্ধ সারচার্জ: রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত “ওয়ার সারচার্জ“ এবং বীমা খরচ বহন করতে হচ্ছে ।
- আটকে পড়া চালান: গন্তব্যস্থল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত নিরাপদ বন্দরগুলোতে মালামাল খালাস করা হচ্ছে, যেমন:
- খোর ফাক্কান (সংযুক্ত আরব আমিরাত)
- সোহার বা সালালাহ (ওমান)
- জেদ্দা (সৌদি আরব)
২. ভৌগোলিক গুরুত্ব: হরমুজ প্রণালী
- অবস্থান: এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে যুক্ত করে ।
- চোকপয়েন্ট: এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত চোকপয়েন্ট ।
- প্রভাব: এখানে যে কোনও বাধা ভারতের কফি বিতরণের প্রধান কেন্দ্র দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের সাথে বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ।
৩. কফি শিল্পের ওপর প্রভাব
- বাজারের অংশীদারিত্ব: ইউরোপ (ইতালি, জার্মানি, বেলজিয়াম) হলো ভারতীয় কফির বৃহত্তম আমদানিকারক, যার অংশীদারিত্ব প্রায় ৬০% ।
- প্রতিযোগীদের সুবিধা: ভারত সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় উগান্ডা, কোস্টারিকা, ইথিওপিয়া এবং ব্রাজিলের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে ।
- কর্ণাটকের ভূমিকা: ভারতের মোট কফির ৭০%-এর বেশি উৎপাদিত হয় কর্ণাটকে (বিশেষ করে চিকমাগালুর জেলার চাষিরা) ।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক অংশীজন
- AICAEA: কফি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া ।
- কফি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া: এটি বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এর সদর দপ্তর বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ।
৫. বৈশ্বিক দৃশ্যপট
- উৎপত্তি: কফির জন্ম ইথিওপিয়ার মালভূমির প্রাচীন কফি বনে ।
- আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব: দক্ষিণ আমেরিকা বৃহত্তম উৎপাদক (~৪১%), এরপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (~২৭%) এবং আফ্রিকা (~১৭%) ।
- দেশ অনুযায়ী ক্রম: ব্রাজিল > ভিয়েতনাম > কলম্বিয়া > ইন্দোনেশিয়া ।
- ভারতের অবস্থান: ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদক এবং সপ্তম বৃহত্তম উৎপাদক (২০২৫-২৬) হিসেবে বিশ্ব উৎপাদনের ৩.৫ শতাংশ অবদান রাখে ।
- রপ্তানি: কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত বর্তমানে পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানিকারক ।
৬. ভারতীয় দৃশ্যপট
- ইতিহাস: জনশ্রুতি আছে যে, ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সূফী সাধক বাবা বুদান ইয়েমেনের মোখা বন্দর থেকে সাতটি কফি বীজ এনে কর্ণাটকের চিকমাগালুর জেলার বাবা বুদান গিরি পাহাড়ে রোপণের মাধ্যমে ভারতের কফি যাত্রার সূচনা করেন ।
- প্রধান রাজ্য: ভারতের কফি শিল্প মূলত কর্ণাটক, কেরালা এবং তামিলনাড়ু—এই তিনটি রাজ্যে কেন্দ্রীভূত, যারা দেশের মোট কফি উৎপাদনের প্রায় ৯৬ শতাংশ যোগান দেয় ।
- উৎপাদনে সেরা: এর মধ্যে কর্ণাটক ২,৮০,২৭৫ মেট্রিক টন উৎপাদন করে শীর্ষে রয়েছে (২০২৫-২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী), এরপর কেরালা ও তামিলনাড়ুর অবস্থান ।
- আঞ্চলিক বিন্যাস: ভারতের কফি চাষ ১৩টি কৃষি–জলবায়ু অঞ্চলে বিস্তৃত, যা তিনটি ভাগে বিভক্ত:
- ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল: কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু ।
- অ–ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল: অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ।
- উত্তর–পূর্বাঞ্চল: আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ।
৭. প্রধান প্রয়োজনীয় শর্তাবলি
| বিষয় | প্রয়োজনীয় বিবরণ | মূল পয়েন্ট |
| জলবায়ু | ক্রান্তীয় ও আর্দ্র | গরম ও ভেজা জলবায়ু প্রয়োজন; চরম আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় । |
| তাপমাত্রা | ১৫°C থেকে ২৮°C | দিনের উচ্চ তাপমাত্রা (৩০°C-এর বেশি) এবং তুষারপাত ক্ষতিকর । |
| বৃষ্টিপাত | ১৫০ সেমি থেকে ২৫০ সেমি | সুষম বণ্টন প্রয়োজন। মার্চ-এপ্রিলে “ব্লসম শাওয়ার“ জরুরি । |
| মাটির ধরন | গভীর, জল নিকাশিযুক্ত দোআঁশ মাটি | হিউমাস ও জৈব সমৃদ্ধ; সামান্য অম্লীয় (pH ৫.০–৬.৫) । |
| ভূ–প্রকৃতি | পাহাড়ি ঢাল (৬০০মি – ১৬০০মি) | মূল পচা রোধে জল নিকাশের জন্য ঢালু জমি প্রয়োজন । |
| সূর্যালোক | আংশিক ছায়া | সরাসরি রোদ এড়াতে ছায়াদানকারী গাছ (যেমন সিলভার ওক) দরকার । |
| শ্রম | অত্যন্ত শ্রমসাধ্য | কফি সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাই হাতে করা হয়; নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি । |
Q. নিচের কোন রাজ্যগুলি ভারতের ঐতিহ্যবাহী কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের অন্তর্গত?
1. কর্ণাটক
2. কেরালা
3. তামিলনাড়ু
4. ওড়িশা
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
A. কেবল 1, 2 এবং 3
B. কেবল 1 এবং 2
C. কেবল 2, 3 এবং 4
D. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: A
ব্যাখ্যা:
ভারতের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
1. ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল: দক্ষিণ ভারতের মূল অংশ যেখানে কয়েক শতাব্দী ধরে কফি চাষ হচ্ছে, মূলত পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বরাবর। কর্ণাটক (৭০%-এর বেশি উৎপাদন), কেরালা এবং তামিলনাড়ু এর অন্তর্ভুক্ত ।
2. অ-ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল: উপজাতীয় সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্বাহের জন্য পরে এই অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের আরাকু উপত্যকা এবং ওড়িশার কোরাপুট ।
3. উত্তর-পূর্বাঞ্চল: উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য এর অন্তর্ভুক্ত ।