প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি, পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় অর্থনীতির জিডিপি (GDP) গণনার ভিত্তি বছর (base year) ২০১১-১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২-২৩ করেছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো, বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতি, গিগ ওয়ার্ক (অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কাজ) এবং মানুষের পরিবর্তিত ব্যয় করার ধরনকে সঠিকভাবে তুলে ধরা।
- ভিত্তি বছর পরিবর্তনের পাশাপাশি, জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (NSO) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমান প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার আনুমানিক ৭.৪% থেকে ৭.৬% হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের নতুন জিডিপি তথ্যের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
১. ভিত্তি বছরের সংশোধন (২০২২-২৩)
- মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) এবং শিল্প উৎপাদন সূচকের (IIP) ভিত্তি বছর এক দশক পুরনো ২০১১-১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২-২৩ করা হয়েছে।
- উপভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI) ভিত্তি বছরও ২০২৩-২৪-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে যাতে ভারতীয় পরিবারগুলোর বর্তমান সময়ের কেনাকাটার ধরন সঠিকভাবে বোঝা যায়।
- ভিত্তি বছর পরিবর্তন একটি আদর্শ পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি যা জাতিসংঘের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস সিস্টেম (SNA) দ্বারা সুপারিশ করা হয়, যাতে অর্থনৈতিক তথ্য বর্তমান বাজারের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
২. পদ্ধতিতে আধুনিকায়ন
- ডাবল ডিফ্লেশন (Double Deflation): অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ‘ডাবল ডিফ্লেশন’ পদ্ধতির ব্যবহার। এখানে প্রকৃত গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA) আরও নির্ভুলভাবে গণনা করার জন্য আউটপুট (উৎপাদন) এবং ইন্টারমিডিয়েট ইনপুট (মধ্যবর্তী কাঁচামাল)-কে আলাদাভাবে হিসাব করা হয়।
- তথ্যের নতুন উৎস: এনএসও (NSO) এখন জিএসটি নেটওয়ার্ক (GSTN), ডিজিটাল পেমেন্ট পোর্টাল এবং যানবাহন নিবন্ধনের জন্য বাহন (Vahan) ড্যাশবোর্ড থেকে প্রাপ্ত ‘বিগ ডেটা’ ব্যবহার করছে।
- MCA-21 ডেটাবেস: কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের ডিজিটাল ফাইলিং (MCA-21) আরও বেশি করে ব্যবহারের ফলে সংগঠিত কর্পোরেট সেক্টর সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক ভালো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
৩. সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস (অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬)
- প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি: অর্থনীতিতে প্রকৃত অর্থে ৭.৪% থেকে ৭.৬% বৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির মর্যাদা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
- নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধি: এটি প্রায় ৮.০% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে আসায় প্রকৃত এবং নমিনাল বৃদ্ধির মধ্যকার ব্যবধান কমে আসছে।
- খাতভিত্তিক ফলাফল:
- পরিষেবা খাত: আর্থিক এবং পেশাদার পরিষেবাগুলোর ওপর ভিত্তি করে এটি ৯.১% হারে শক্তিশালী বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
- ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাত: গত কয়েক বছরের তুলনায় ঘুরে দাঁড়িয়ে এটি ৭.০% বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
- কৃষি খাত: এই খাতে ৩.১% হারে মাঝারি বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
৪. রাজকোষীয় সূচকের ওপর প্রভাব
- ডিনোমিনেটর ইফেক্ট (Denominator Effect): ভিত্তি বছর পরিবর্তনের কারণে জিডিপির মোট আকার বেড়ে গেলে, শতাংশের হিসাবে রাজকোষীয় ঘাটতি (Fiscal Deficit) এবং ঋণ-জিডিপি অনুপাত (Debt-to-GDP ratio) গাণিতিকভাবে কমে যায়, যদিও ঋণের পরিমাণ একই থাকে।
- বিনিয়োগের হার: জিডিপির ভিত্তি অনেক বড় হয়ে গেলে মোট স্থায়ী মূলধন গঠন (GFCF)-এর মতো সূচকগুলো জিডিপির শতাংশ হিসেবে কিছুটা কম মনে হতে পারে।
Q: ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) সিরিজের সাম্প্রতিক সংশোধনের প্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) জিডিপির ভিত্তি বছর ২০১১-১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২-২৩ করেছে।
2. "ডাবল ডিফ্লেশন" পদ্ধতি গ্রহণের অর্থ হলো উৎপাদন এবং মধ্যবর্তী উপকরণের মূল্যকে একই মূল্য সূচক ব্যবহার করে হিসাব করা।
3. সংশোধিত জিডিপির মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সাধারণত দেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত গাণিতিকভাবে হ্রাস পায়।
ওপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কয়টি সঠিক?
(a) কেবল একটি
(b) কেবল দুটি
(c) তিনটিই সঠিক
(d) কোনোটিই নয়
সমাধান: (b) কেবল দুটি
• বিবৃতি 1 সঠিক: MoSPI বর্তমান অর্থনীতির কাঠামো প্রতিফলিত করতে ভিত্তি বছর ২০২২-২৩ করেছে।
• বিবৃতি 2 ভুল: ডাবল ডিফ্লেশন পদ্ধতিতে উৎপাদন এবং মধ্যবর্তী উপকরণের মূল্যকে আলাদা আলাদা মূল্য সূচক ব্যবহার করে হিসাব করা হয় যাতে প্রকৃত GVA নির্ভুলভাবে পাওয়া যায়।
• বিবৃতি 3 সঠিক: যেহেতু ঋণ-জিডিপি অনুপাত একটি ভগ্নাংশ, তাই লব (ঋণ) স্থির রেখে হর (জিডিপি) বাড়লে সামগ্রিক অনুপাত কমে যায়।