কাশ্মীরি কার্পেট শিল্প: ঐতিহ্য এবং বর্তমান সংকট

প্রেক্ষাপট (Context)

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল ব্লকের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববিখ্যাত কাশ্মীরি কার্পেট রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ডেনমার্ক, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) নির্ধারিত তিনটি বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় এই শিল্পের সাথে যুক্ত প্রায় ৮০,০০০ স্থানীয় কারিগরের জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে ।

১. শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব

  • কর্মসংস্থান: কাশ্মীরের কার্পেট উৎপাদন খাতের সাথে প্রায় ৮০,০০০ স্থানীয় কারিগর সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ।
  • রপ্তানি হ্রাস: গত কয়েক বছরে এই খাতে রপ্তানি ক্রমাগত কমছে। ২০২২-২৩ সালে রপ্তানি ছিল ৩৫৭ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে কমে ২৬০.৭০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে ।
  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯০-৯১ সালে এই শিল্পে রপ্তানি ছিল মাত্র ৮৪.৫৫ কোটি টাকা, যা ২০১৬-১৭ সালে সর্বোচ্চ ৮২১.৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল ।

২. ২০২৬ সালের বাতিল হওয়া বৈশ্বিক প্রদর্শনীসমূহ

  • ডেনমার্ক: কোপেনহেগেন লাইফস্টাইল এক্সপো (এপ্রিল ২২-২৬) ।
  • চীন: কিংহাই আন্তর্জাতিক কার্পেট প্রদর্শনী (জুন ১০-১৪) ।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): শারজাহ প্রদর্শনী (এপ্রিল ১২-১৪) ।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

  • কার্পেট এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (CEPC):
    • এটি কার্পেট বিক্রেতাদের বিশ্ববাজারের সুযোগ এবং প্রদর্শনী সম্পর্কে তথ্য প্রদান ও সহায়তা করে ।
    • এই কাউন্সিলটি ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের (Ministry of Textiles) অধীনে পরিচালিত হয় ।

৪. ইতিহাস এবং শিল্পকলা (Art and Culture)

  • উৎস: ১৫শ শতাব্দীতে সুলতান জৈন-উল-আবিদিন পারস্য এবং মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষ কারিগরদের কাশ্মীরে আসার আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এই শিল্পের সূচনা হয় ।
  • বিবর্তন: শুরুতে কারিগররা সূক্ষ্ম পশমিনা শাল তৈরিতে মনোনিবেশ করেছিলেন, কিন্তু ইউরোপে যান্ত্রিক লুমের (Jacquard looms) প্রসারের ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় তাঁরা কার্পেট বুননে নিজেদের দক্ষতা স্থানান্তরিত করেন ।
  • তালিম (Talim): এটি কার্পেট বুননের এক বিশেষ ‘গোপন ব্লু-প্রিন্ট’ বা নকশা নির্দেশিকা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রাচীন কৌশলগুলো টিকিয়ে রেখেছে ।
পশমিনা (Pashmina): এটি লাদাখের গৃহপালিত ছাগল থেকে পাওয়া এক প্রকার বৈধ এবং টেকসই উল । শাহতুশ (Shahtoosh): এটি বিপন্ন তিব্বতি অ্যান্টিলোপ বা ‘চিরু’ (Chiru) থেকে পাওয়া তন্তু। এর উৎপাদন অত্যন্ত অমানবিক এবং বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
নিশ্চয়তা (Assertion - A): সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরি কার্পেট শিল্পের রপ্তানিতে মন্দা দেখা দিয়েছে।

কারণ (Reason - R): পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বাণিজ্যের সুযোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

(a) A এবং R উভয়ই সঠিক এবং R হলো A-এর সঠিক ব্যাখ্যা।
(b) A এবং R উভয়ই সঠিক কিন্তু R, A-এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
(c) A সঠিক কিন্তু R ভুল।
(d) A ভুল কিন্তু R সঠিক।

সঠিক উত্তর: (a) ---

ব্যাখ্যা:
• নিশ্চয়তা (A) সঠিক: সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাশ্মীরি কার্পেট শিল্পে গত কয়েক বছর ধরে রপ্তানি ক্রমাগত কমছে । ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ২৬০.৭০ কোটি টাকায়, যা ২০২২-২৩ সালের ৩৫৭ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম । ২০১৬-১৭ সালের ৮২১.৫০ কোটি টাকার সর্বোচ্চ রপ্তানির তুলনায় এটি একটি স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে ।

• কারণ (R) সঠিক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (বিশেষ করে আমেরিকা-ইসরায়েল ব্লক এবং ইরানের মধ্যে) এই রপ্তানির ওপর কালো ছায়া ফেলেছে । এর সরাসরি প্রভাবে ডেনমার্কের (কোপেনহেগেন লাইফস্টাইল এক্সপো), চীনের (কিংহাই আন্তর্জাতিক কার্পেট প্রদর্শনী) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (শারজাহ প্রদর্শনী) মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীগুলো বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে ।

• R হলো A-এর সঠিক ব্যাখ্যা: এই বৈশ্বিক প্রদর্শনীগুলো বাতিল হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কাশ্মীরি কার্পেট ব্যবসায়ীরা রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন । যেহেতু এই শিল্পটি তার উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচার এবং বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই বাণিজ্যের এই সুযোগগুলো নষ্ট হওয়া সাম্প্রতিক রপ্তানি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ ।

Practice Today’s MCQs