বিশ্বব্যাংক

প্রেক্ষাপট (Context)

বিশ্বব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের (FY27) জন্য ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস .% থেকে কমিয়ে .% নির্ধারণ করেছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) সংঘাতের ফলে বিশ্বজ্বালানি বাজার এবং অভ্যন্তরীণ খরচের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তার কারণেই এই সংশোধন করা হয়েছে।

. প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করার প্রধান কারণসমূহ

. ক্ষেত্রভিত্তিক প্রবণতা (Sectoral Trends)

  • শিল্পক্ষেত্রে মন্থরতা: শিল্প প্রবৃদ্ধি .%-এ নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • স্থিতিশীল খাত: ম্যানুফ্যাকচারিং—বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল—শিল্প প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
  • প্রভাবিত পরিষেবা: ইনপুট খরচ (বিশেষ করে LPG) বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে ব্যবসায়িক পরিষেবা, খাদ্য এবং আবাসন পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

. বাহ্যিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা (External Risks)

  • জ্বালানির দাম: মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • রেমিট্যান্স (Remittances): ভারতের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩৮% আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। ওই অঞ্চলের শ্রমবাজারে অস্থিরতা রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বাড়িয়ে দেবে।
  • রপ্তানি চাহিদা: উপসাগরীয় অঞ্চলে চাহিদা কমে যাওয়া ভারতের সামগ্রিক শিল্প প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

. অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ (Domestic Challenges)

  • মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য শেষ পর্যন্ত ভারতের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে কমিয়ে দেবে।
  • রাজস্ব সুসংহতকরণ (Fiscal Consolidation): উচ্চ জ্বালানি মূল্যের হাত থেকে গ্রাহকদের বাঁচাতে সরকার যদি ভর্তুকি বাড়ায় বা আবগারি শুল্ক কমায়, তবে সরকারি কোষাগারের ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টা ব্যহত হতে পারে।

. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৌশলগত সুপারিশ

  • বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার জন্য বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • কর্মসংস্থান: তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
  • নীতিগত সুরক্ষা (Policy Buffers): জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মজবুত নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা বাহ্যিক ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

. বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে (About World Bank)

বিশ্বব্যাংক একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সরকারকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য ঋণ ও অনুদান প্রদান করে।

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে (IMF-এর সাথে)।
  • সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
  • বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ৫টি সংস্থা: IBRD, IDA, IFC, MIGA এবং ICSID।

বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টসমূহ (Important Reports by World Bank)

  • ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট (WDR)
  • গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস (GEP)
  • লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্স (LPI)
Q: বিশ্বব্যাংকের ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস (Growth Outlook) সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:

1. ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের নিম্নমুখী সংশোধন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সাথে যুক্ত।
2. শিল্প প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স।
3. ভারতের রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাহে উপসাগরীয় দেশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উপরের কোন বিবৃতিগুলো সঠিক?
(a)
1 এবং 3 মাত্র
(b) 2 এবং 3 মাত্র
(c) 1 মাত্র
(d) 1, 2 এবং 3

উত্তর: (a) 1 এবং 3 মাত্র

ব্যাখ্যা:
বিবৃতি 1 সঠিক: বিশ্বব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের (FY27) জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.২% থেকে কমিয়ে ৬.৬% করেছে। এই সংশোধনের মূল কারণ হলো পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) সংঘাত, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে (তেল ও গ্যাস) ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

বিবৃতি 2 ভুল: যদিও শিল্প প্রবৃদ্ধি কমে ৭.৫% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, রিপোর্টে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত—বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল—অত্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে এবং এটি শিল্প প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। প্রবৃদ্ধির মন্থরতা মূলত উপকরণের উচ্চমূল্য এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদার হ্রাসের সাথে যুক্ত।

বিবৃতি 3 সঠিক: ভারতের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৩৮% আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, ওই অঞ্চলের শ্রমবাজারে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা ভারতের রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বাড়িয়ে দিতে পারে।

Practice Today’s MCQs