ভারতের ২০৩৫ সালের হালনাগাদ NDC: বিদ্যুৎ সক্ষমতা থেকে প্রকৃত কার্যকারিতার পথে উত্তরণ

India’s Updated Nationally Determined Contributions (NDC) 2035: Beyond Capacity to Capability

এই নিবন্ধটি পাঠ করার পর আপনি নিচের UPSC Mains মডেল প্রশ্নটি সমাধান করতে পারবেন:

“India’s updated Nationally Determined Contributions (NDCs) for 2035 highlight a gap between installed renewable capacity and actual energy generation.” Examine the reasons for this gap and suggest measures to address it.  (১৫ নম্বর – GS-3, অর্থনীতি)।

ভূমিকা

  • ভারত সম্প্রতি প্যারিস চুক্তির অধীনে ২০৩১-২০৩৫ সময়ের জন্য তার হালনাগাদ Nationally Determined Contributions (NDCs) জমা দিয়েছে। এটি ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের ‘নিট-জিরো’ (Net-Zero) লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতির একটি পরিমাপিত বর্ধন।
  • যদিও এই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাগুলি অ-জীবাশ্ম (non-fossil) জ্বালানি সক্ষমতা, নির্গমন তীব্রতা হ্রাস এবং কার্বন সিঙ্ক (carbon sink) তৈরির প্রতিশ্রুতিকে শক্তিশালী করেছে, তবুও একটি বড় উদ্বেগ রয়ে গেছে। সেটি হলো—স্থাপিত ক্ষমতা এবং প্রকৃত পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান। এর প্রধান কারণ হলো অপর্যাপ্ত ব্যাটারি স্টোরেজ এবং গ্রিড অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা

বৈশ্বিক জলবায়ু কাঠামো এবং ভারতের অবস্থান

প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement): ২০১৫ সালে COP21-এ গৃহীত এবং ২০১৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প স্তরের তুলনায় ২°C-এর নিচে রাখা এবং সেটিকে ১.৫°C-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

  • NDCs পদ্ধতি: এটি একটি ‘বটম-আপ’ পদ্ধতি অনুসরণ করে, যেখানে দেশগুলো তাদের নিজস্ব জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর লক্ষ্যমাত্রাগুলি আপডেট করতে হয় এবং প্রতিটি আপডেটে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্যের মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি (Progressive enhancement) করা বাধ্যতামূলক।
  • ভারতের অবস্থান: এই প্রেক্ষাপটে, অধিকাংশ দেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের ২০৩৫ সালের NDCs জমা দিলেও ভারত এবং আর্জেন্টিনা G-20 দেশগুলোর মধ্যে শেষ দিকে ছিল। ভারত ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত COP30-তে বছরান্তের মধ্যে এটি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভারতের জলবায়ু প্রতিশ্রুতির বিবর্তন

ভারতের জলবায়ু প্রতিশ্রুতিগুলো CBDR-RC (Common But Differentiated Responsibilities and Respective Capabilities) নীতি মেনে ধাপে ধাপে আরও শক্তিশালী হয়েছে:

  • প্রথম NDC (২০১৫): লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে GDP-র নির্গমন তীব্রতা (emission intensity) ২০০৫ সালের তুলনায় ৩৩-৩৫% কমানো এবং মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৪০% অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে অর্জন করা।
  • হালনাগাদ NDC (২০২২): লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫% নির্গমন তীব্রতা হ্রাস এবং ৫০% অ-জীবাশ্ম সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি LiFE (Lifestyle for Environment) উদ্যোগটি যুক্ত করা হয়।
  • বর্তমান সাফল্য: ভারত ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রাগুলো সময়ের আগেই অতিক্রম করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভারতের অ-জীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতা ৫২.৫৭% (~২৭২ গিগাওয়াট) পৌঁছেছে এবং নির্গমন তীব্রতা ২০০৫-২০২০ সালের মধ্যে ৩৬% হ্রাস পেয়েছে।

হালনাগাদ NDC-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (২০৩৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা)

সংশোধিত NDCs তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি সুপরিকল্পিত বর্ধন প্রতিফলিত করে:

  • অ-জীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতা: ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৬০% অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে (যা ২০৩০ সালের ৫০% লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি)।
  • GDP-র নির্গমন তীব্রতা (Emission Intensity): ২০০৫ সালের স্তরের তুলনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে নির্গমন তীব্রতা ৪৭% হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে (যা ২০৩০ সালের ৪৫% লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি)।
  • কার্বন সিঙ্ক (Carbon Sink) তৈরি: বনায়নের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩.৫–৪.০ বিলিয়ন টন $CO_2$ সমতুল্য অতিরিক্ত কার্বন শোষণের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (২০২১ সাল পর্যন্ত ইতিমধ্যে ২.২৯ বিলিয়ন টন অর্জিত হয়েছে)।

এই পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রাগুলোর পাশাপাশি LiFE (পরিবেশের জন্য জীবনধারা) উদ্যোগ, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, এবং জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো গুণগত পদক্ষেপগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারত নির্গমনের ‘পরম হ্রাস’ (Absolute cuts)-এর পরিবর্তে নির্গমন তীব্রতা হ্রাস এবং অ-জীবাশ্ম সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়।

ভারতের জ্বালানি স্থানান্তরের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

১. প্রযুক্তিগত বাধা (Technical Barriers)

৬০% অ-জীবাশ্ম সক্ষমতায় পৌঁছাতে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমূল পুনর্গঠন প্রয়োজন:

  • গ্রিড ইন্টারমিটেন্সি (Grid Intermittency): সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় (দুপুর) এবং বিদ্যুতের চাহিদার সময় (সন্ধ্যা) এক নয়। এই অসামঞ্জস্য গ্রিডের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং অনেক সময় সবুজ শক্তি অপচয় বা কার্টেলমেন্ট (Curtailment) করতে হয়।
  • ট্রান্সমিশন বাধার সৃষ্টি: রাজস্থানের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো শিল্প হাব থেকে অনেক দূরে। গ্রিন এনার্জি করিডোর নির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগ এবং আইনি জটিলতা (Right of Way) বিদ্যমান।
  • ভূমি অধিগ্রহণ: সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রচুর জমির প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় স্পর্শকাতর ইকোসিস্টেম (যেমন: গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ডের আবাসস্থল) বা উর্বর কৃষিজমির সাথে সংঘাত তৈরি করে।

২. অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা (Economic Hurdles)

জ্বালানি সঞ্চয় বা স্টোরেজ ব্যবস্থার উচ্চ খরচ এই রূপান্তরের আর্থিক টেকসইতাকে বাধাগ্রস্ত করছে:

  • BESS-এর উচ্চ মূলধন ব্যয় (CAPEX): সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমলেও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (BESS) খরচ এখনো অনেক বেশি। ফলে রাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা কয়লার তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
  • গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নির্ভরতা: ভারত লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং নিকেলের জন্য আমদানির ওপর (প্রধানত চীন) নির্ভরশীল। এটি তেলের নির্ভরতাকে একটি নতুন খনিজ নির্ভরতায় রূপান্তর করছে, যা বিশ্ববাজারের অস্থিরতার শিকার।
  • ডিসকম (DISCOM) আর্থিক সংকট: ঋণে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো সময়মতো অর্থ প্রদান করতে পারে না, যা সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বেসরকারি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

৩. সামাজিক মাত্রা (Social Dimensions)

কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রক্রিয়া যেন ভারতের ‘কয়লা বলয়’ (Coal Belt)-এর ১৩ মিলিয়ন মানুষকে পিছিয়ে না দেয়:

  • জীবিকা বিচ্যুতি: ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশার মতো রাজ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া কয়লা খনি বন্ধ হলে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
  • পুনঃদক্ষতা বৃদ্ধিতে ঘাটতি (Re-skilling Gap): কয়লা খনির শ্রমিকদের দক্ষতা সরাসরি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উপযোগী নয়। এর জন্য ব্যাপক পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
  • রাজস্ব ক্ষতি: পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো কয়লার রয়্যালটির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কয়লার ব্যবহার কমলে রাজ্যের আয় হ্রাসের ক্ষতিপূরণের জন্য নতুন আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন।

৪. কৌশলগত ঝুঁকি (Strategic Risks)

বৈশ্বিক অস্থিরতা একটি স্বনির্ভর জ্বালানি ইকোসিস্টেমের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে:

  • জ্বালানির অস্ত্রায়ন (Weaponization of Energy): বৈশ্বিক সংঘাতের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ আমদানিতে চলে যায়, যা সবুজ অবকাঠামো নির্মাণে বাধা দেয়।
  • সরবরাহ চেইন একচেটিয়া আধিপত্য: সোলার সেল এবং ব্যাটারি সরবরাহ চেইন গুটিকতক দেশের হাতে থাকায় ভারত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্য বাধার প্রতি সংবেদনশীল।
  • অর্থায়নের ব্যবধান: উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানান্তরের আর্থিক বোঝা ভারতের করদাতাদের ওপর পড়ছে।

স্থাপিত ক্ষমতা বনাম প্রকৃত উৎপাদন: মূল সমস্যা

ভারত ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত ৫০% অ-জীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা সময়ের পাঁচ বছর আগেই অর্জন করে এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তবে, এর গভীরে একটি কাঠামোগত অসামঞ্জস্য (Structural Mismatch) রয়ে গেছে। বর্তমানে ভারতের মোট স্থাপিত ক্ষমতার (Installed Capacity) ৫২% অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে আসলেও, প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের (Actual Generation) ক্ষেত্রে এর অবদান মাত্র ২৫%

এই ব্যবধানের প্রধান কারণগুলো হলো:

  • সৌর ও বায়ু শক্তির অনিরবচ্ছিন্নতার অভাব (Intermittency): আবহাওয়া ও সময়ের ওপর নির্ভরশীলতা।
  • অপর্যাপ্ত ব্যাটারি স্টোরেজ: উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য শক্তি সঞ্চয় করার ব্যবস্থা না থাকায় তা নষ্ট বা কার্টেলমেন্ট (Curtailment) করতে হয়।
  • গ্রিড অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা: নবায়নযোগ্য শক্তিকে নির্বিঘ্নে গ্রিডে যুক্ত করার ক্ষমতার অভাব।

এর ফলে, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে (Peak demand) বা রোদ না থাকলে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। এই ব্যবধান দূর না করলে, সরকারের নতুন লক্ষ্যমাত্রাগুলো কেবল ‘তেপান্তরের প্রতিশ্রুতি’ (Tepid Promises) হিসেবেই গণ্য হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

কৌশলগত গুরুত্ব: ব্যাটারি স্টোরেজ ও গ্রিড আধুনিকীকরণ

স্থাপিত ক্ষমতা ও উৎপাদনের মধ্যকার এই ব্যবধান দূর করতে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) এবং পাম্পড হাইড্রো স্টোরেজ (PSP) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলার সৌরশক্তিকে সন্ধ্যার চাহিদার সময় ব্যবহার করার জন্য ‘লং-ডিউরেশন স্টোরেজ’ অপরিহার্য।

  • প্রয়োজনীয়তা: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (CEA)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে ভারতের মোট ৪১১.৪ GWh স্টোরেজ প্রয়োজন (২৩৬.২ GWh BESS এবং ১৭৫.২ GWh PSP)।
  • আধুনিকীকরণ: গ্রিন এনার্জি করিডোর, উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো সম্ভব।

নবায়নযোগ্য শক্তি ও স্টোরেজ বৃদ্ধিতে প্রধান সরকারি উদ্যোগসমূহ

ভারত সরকার এই উৎপাদন ব্যবধান মেটাতে এবং স্টোরেজ ব্যবস্থার প্রসারে একটি বিস্তৃত নীতিগত কাঠামো তৈরি করেছে:

১. BESS-এর জন্য ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF)

  • ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
  • বাজেট: ১৩.২ GWh-এর জন্য ৩,৭৬০ কোটি টাকা এবং অতিরিক্ত ৩০ GWh-এর জন্য ৫,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
  • ভর্তুকি: পাওয়ার সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে ৪০% পর্যন্ত মূলধন ভর্তুকি

২. উন্নত ব্যাটারি কোষের (ACC) জন্য PLI স্কিম

  • দেশে ৫০ GWh ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য।
  • ব্যাটারি সাপ্লাই চেইনে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং আমদানির (প্রধানত চীন) ওপর নির্ভরতা কমানো।

৩. এনার্জি স্টোরেজ অবলিগেশন (ESO)

  • বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে (DISCOMs) মোট বিদ্যুতের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্টোরেজ থেকে কেনা বাধ্যতামূলক করা।
  • এটি স্টোরেজ বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে।

৪. কো-লোকেশন অ্যাডভাইজরি (RE + Storage)

  • নতুন নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের সাথে ন্যূনতম ২-ঘণ্টার স্টোরেজ ব্যবস্থা যুক্ত করার পরামর্শ।
  • এটি গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং রাউন্ড-দ্য-ক্লক (RTC) বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

৫. গ্রিন এনার্জি করিডোর (GEC)

  • নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য ডেডিকেটেড ট্রান্সমিশন অবকাঠামো।
  • রাজস্থান ও গুজরাটের মতো শক্তি-সমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে বিদ্যুৎ চাহিদা কেন্দ্রে পৌঁছানো সহজ করবে।
  • এতে আন্তঃরাজ্য ট্রান্সমিশন চার্জ মকুবের সুবিধা রয়েছে।

৬. ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন

  • হাইড্রোজেনকে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে প্রচার।
  • ইস্পাত ও সারের মতো ভারি শিল্পগুলোকে কার্বনমুক্ত করতে সাহায্য করবে।

৭. PM-KUSUM ও বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য শক্তি

  • সৌর পাম্প এবং ছোট ছোট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহ প্রদান।
  • এটি গ্রিডের ওপর চাপ এবং ট্রান্সমিশন লস কমাবে।

৮. ন্যাশনাল সোলার মিশন

  • সৌরশক্তি উৎপাদন বাড়ানোর ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম।
  • বড় বড় সোলার পার্ক এবং রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের অ-জীবাশ্ম সক্ষমতার মেরুদণ্ড তৈরি করা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকৃত কার্যকারিতার পথে

হালনাগাদ NDC লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তব জলবায়ু ও জ্বালানি ফলাফলে রূপান্তর করতে ভারতকে একটি বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করতে হবে। স্থাপিত ক্ষমতা (Installed Capacity) এবং প্রকৃত উৎপাদনের (Actual Generation) মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করতে নিচের বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি:

  • ব্যাটারি স্টোরেজ বৃদ্ধি: ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’ (VGF) দ্রুত কার্যকর করা এবং সৌর ও বায়ু শক্তির অনিশ্চয়তা কাটাতে বড় আকারের হাইব্রিড স্টোরেজ প্রকল্পে উৎসাহ দেওয়া।
  • ২৪ ঘণ্টা (RTC) সবুজ বিদ্যুৎ: ভবিষ্যতের সব সরকারি টেন্ডারে সৌর বা বায়ু শক্তির সঙ্গে ব্যাটারি বা পাম্পড হাইড্রো স্টোরেজ বাধ্যতামূলক করা।
  • স্মার্ট গ্রিড নির্মাণ: নবায়নযোগ্য শক্তিকে গ্রিডে নির্বিঘ্নে যুক্ত করতে এআই (AI) ভিত্তিক পূর্বাভাস এবং আধুনিক গ্রিড অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানো।
  • অর্থায়ন ও খনিজ নিরাপত্তা: সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ এবং ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ (লিথিয়াম, কোবাল্ট) আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় রিসাইক্লিং ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ জোরদার করা।
  • বিকল্প সঞ্চয় ব্যবস্থা: দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পাম্পড স্টোরেজ (PSP) এবং গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের দ্রুত বাস্তবায়ন।
  • বিচক্ষণ রূপান্তর (Just Transition): কয়লা খনি শ্রমিকদের পুনঃদক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর (DISCOMs) আর্থিক সংকট কাটাতে ‘টাইম-অফ-ডে’ (ToD) ট্যারিফ ব্যবস্থা চালু করা।

উপসংহার

২০৩৫ সালের জন্য ভারতের হালনাগাদ NDCs জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তবসম্মত প্রতিফলন। তবে এর সাফল্য কেবল ‘স্থাপিত ক্ষমতার’ ওপর নয়, বরং প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে। ব্যাটারি স্টোরেজের প্রসার ও গ্রিড আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করা না গেলে এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। পরিশেষে, ভারতের জলবায়ু নেতৃত্বের সার্থকতা নির্ভর করবে স্থাপিত সম্ভাবনাকে নির্ভরযোগ্য ও বিতরণযোগ্য (Dispatchable) পরিচ্ছন্ন শক্তিতে রূপান্তরিত করার সক্ষমতার ওপর।

Latest Articles