প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, IRDAI বীমা কোম্পানিগুলোকে ইন্ডিয়ান অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (Ind AS)-এ দ্রুত স্থানান্তরিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বৈশ্বিক IFRS 17 কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই পদ্ধতিগত পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যগত “প্রিমিয়াম-ভিত্তিক” হিসাবরক্ষণ সরিয়ে “ফেয়ার ভ্যালু” বা প্রকৃত মূল্য ভিত্তিক মডেল চালু করা। এই পদক্ষেপটি 2026-27 অর্থবছরের আগে ভারতীয় বীমাকারীদের আর্থিক অবস্থার বৈশ্বিক তুলনা নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে ডিজাইন করা হয়েছে।
1. সংবিধিবদ্ধ কাঠামো এবং উৎপত্তি
ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI) হলো ভারতের বীমা খাতের তদারকি করার জন্য সর্বোচ্চ সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা: এটি মালহোত্রা কমিটির রিপোর্টের (1994) সুপারিশের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল।
- আইনি মর্যাদা: এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যা IRDAI আইন, 1999-এর অধীনে গঠিত।
- সদর দপ্তর: শুরুতে এটি নতুন দিল্লিতে অবস্থিত ছিল, তবে 2001 সালে সদর দপ্তর হায়দ্রাবাদে স্থানান্তরিত হয়।
- নোডাল মন্ত্রক: এটি অর্থ মন্ত্রকের প্রশাসনিক আওতায় কাজ করে।
2. কর্তৃপক্ষের গঠন
IRDAI আইন, 1999-এর ধারা 4 অনুযায়ী, এই সংস্থাটি ভারত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত দশ সদস্যের একটি দল নিয়ে গঠিত:
- একজন চেয়ারপারসন।
- পাঁচজন পূর্ণকালীন সদস্য।
- চারজন খণ্ডকালীন সদস্য।
3. প্রধান ক্ষমতা এবং কার্যাবলী
IRDAI বীমা শিল্পের সুশৃঙ্খল বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পলিসিধারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে।
- লাইসেন্স প্রদান: এটি বীমা এবং পুনর্বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধকরণ প্রদান, নবায়ন, পরিবর্তন, প্রত্যাহার, স্থগিত বা বাতিল করে।
- স্বার্থ রক্ষা: পলিসিধারীদের স্বার্থ রক্ষায় এটি সার্ভেয়ার, লস অ্যাসেসর এবং মধ্যস্থতাকারীদের জন্য আচরণবিধি নির্ধারণ করে।
- আর্থিক তদারকি: এটি বীমা কোম্পানিগুলোর তহবিল বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সলভেন্সি মার্জিনের (বীমাকারীর নেওয়া ঝুঁকির তুলনায় তার কাছে থাকা মূলধন) একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বজায় রাখে।
- বিরোধ নিষ্পত্তি: এটি বীমাকারী এবং মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে বিবাদ নিষ্পত্তি করে।
4. রূপান্তরমূলক উদ্যোগ (বীমার “ত্রয়ী“)
“2047 সালের মধ্যে সবার জন্য বীমা” লক্ষ্য অর্জনে IRDAI তিনটি স্তম্ভ প্রবর্তন করেছে:
- বিমা সুগম (Bima Sugam): একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যা বীমা সংক্রান্ত সকল প্রয়োজন—পলিসি কেনা, পরিষেবা এবং দাবি মেটানোর (claim settlement) জন্য একটি প্রোটোকল হিসেবে কাজ করবে, যা UPI বা ONDC-এর আদলে তৈরি।
- বিমা বাহক (Bima Vahak): একটি নারী-কেন্দ্রিক মাঠ পর্যায়ের বাহিনী যার লক্ষ্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বীমার প্রসার বৃদ্ধি করা।
- বিমা বিস্তার (Bima Vistaar): একটি সাশ্রয়ী, বান্ডিল বীমা পণ্য যা জীবন, স্বাস্থ্য, সম্পত্তি এবং দুর্ঘটনা কভার করে; এটি বিশেষভাবে গ্রামীণ জনগণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
5. সাম্প্রতিক নিয়ামক আপডেট (2025-2026)
- বয়সের বাধা অপসারণ: IRDAI সম্প্রতি স্বাস্থ্য বীমা কেনার জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা (আগে যা 65 বছর ছিল) বিলুপ্ত করেছে, যা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বীমা সুবিধা সহজলভ্য করেছে।
- Ind AS বাস্তবায়ন: বৈশ্বিক আর্থিক রিপোর্টিং মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা 1 এপ্রিল, 2026 থেকে সমস্ত বীমাকারীর জন্য ইন্ডিয়ান অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (Ind AS) বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।
- পুরানো রোগ (PED) ওয়েটিং পিরিয়ড: স্বাস্থ্য বীমায় আগে থেকে থাকা রোগগুলো কভার করার জন্য ওয়েটিং পিরিয়ড 48 মাস থেকে কমিয়ে 36 মাস করা হয়েছে।
Q: ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI) প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি-I: IRDAI হলো একটি সাংবিধানিক সংস্থা যা ভারতের বীমা এবং পুনর্বীমা শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিবৃতি-II: IRDAI সম্প্রতি বাধ্যতামূলক করেছে যে স্বাস্থ্য বীমা প্রদানকারীরা বয়সের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে বীমা সুবিধা দিতে অস্বীকার করতে পারবে না।
ওপরের বিবৃতিগুলোর ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
(a) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা।
(b) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
(c) বিবৃতি-I ভুল কিন্তু বিবৃতি-II সঠিক।
(d) বিবৃতি-I সঠিক এবং বিবৃতি-II ভুল।
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি-I ভুল: IRDAI একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (পার্লামেন্টের একটি আইন, IRDAI আইন 1999 দ্বারা তৈরি), সাংবিধানিক সংস্থা নয়। সাংবিধানিক সংস্থা হলো সেগুলো যেগুলোর উল্লেখ ভারতের সংবিধানে আছে (যেমন: নির্বাচন কমিশন, UPSC)।
• বিবৃতি-II সঠিক: অন্তর্ভুক্তিকরণ বাড়ানোর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপে, IRDAI সম্প্রতি স্বাস্থ্য বীমা পলিসি কেনার জন্য 65 বছরের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিয়েছে, যাতে প্রবীণ নাগরিকরা যেকোনো বয়সে বীমার আওতায় আসতে পারেন।