ভারতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

Discuss the recent measures initiated in disaster management by the Government of India departing from the earlier reactive approach. ১৫ নম্বর (GS-3, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা)

ভূমিকা

ভারত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি প্রতিক্রিয়াশীল (ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া) মডেল থেকে সরে এসে একটি প্রো-অ্যাক্টিভ বা অগ্রিম সতর্কতামূলক এবং প্রশমন-কেন্দ্রিক মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৫ এবং সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক (Sendai Framework) দ্বারা পরিচালিত এই ব্যবস্থাটি ক্রমবর্ধমান ভূ-তাত্ত্বিক এবং জলবায়ুগত বিপদ মোকাবিলায় একটি জলবায়ু-সহনশীল জাতি গঠনের জন্য প্রযুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণকে একত্রিত করে।

প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি কাঠামো

১. সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫

  • আদেশ: এটি “দুর্যোগ”-এর সংজ্ঞা দেয় এবং জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরে বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের পথ প্রশস্ত করে।
  • পরিবর্তন: এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে ত্রাণ-কেন্দ্রিক (দুর্যোগ পরবর্তী) পদ্ধতি থেকে একটি অগ্রিম প্রশমন (দুর্যোগ পূর্ববর্তী) পদ্ধতিতে নিয়ে গেছে।

২. ত্রি-স্তরীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

স্তরকর্তৃপক্ষপ্রধান/চেয়ারপারসনমূল দায়িত্ব
জাতীয়NDMAপ্রধানমন্ত্রীজাতীয় নীতি, পরিকল্পনা এবং নির্দেশিকা তৈরি করা।
রাজ্যSDMAমুখ্যমন্ত্রীরাজ্য-স্তরের বাস্তবায়ন এবং তহবিলের সমন্বয় করা।
জেলাDDMAজেলা শাসক (DM)/কালেক্টরভিত্তি পর্যায়ের বাস্তবায়ন; জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা।

৩. নির্বাহী ও কার্যকরী শাখা

  • NEC (National Executive Committee): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে এটি গঠিত; এটি নীতি বাস্তবায়নে NDMA-কে সহায়তা করে।
  • NDRF (National Disaster Response Force): একটি বিশেষায়িত বহুমুখী বাহিনী যা জরুরি অবস্থায় অগ্রিম মোতায়েনের জন্য কাজ করে।
  • NIDM (National Institute of Disaster Management): এটি সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রধান সংস্থা।

৪. আর্থিক কাঠামো (১৬তম অর্থ কমিশনের আপডেট)

  • ঝুঁকি অর্থায়ন:NDRM (National Disaster Risk Management Fund) গঠন করা হয়েছে, যা দুই ভাগে বিভক্ত:
    • সাড়া দান তহবিল (Response Fund – NDRF/SDRF): তাৎক্ষণিক ত্রাণের জন্য।
    • প্রশমন তহবিল (Mitigation Fund – NDMF/SDMF): দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি হ্রাসের জন্য (যেমন- বাঁধ নির্মাণ)।
  • ১৬তম অর্থ কমিশনের (16th FC) পরিবর্তন: তহবিল এখন শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ব্যয়ের পরিবর্তে দুর্যোগ ঝুঁকি সূচক (Disaster Risk Index – DRI)-এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

৫. নির্দিষ্ট দুর্যোগের জন্য নোডাল বা প্রধান মন্ত্রণালয়

  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MHA)।
  • খরা: কৃষি মন্ত্রণালয়।
  • রাসায়নিক/শিল্প: পরিবেশ মন্ত্রণালয় (MoEFCC)।
  • জৈবিক: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (MoHFW)।
  • রেল দুর্ঘটনা: রেল মন্ত্রণালয়।

১৬তম অর্থ কমিশন (২০২৬-৩১) এবং ঝুঁকি অর্থায়ন

১. ঝুঁকি-ভিত্তিক বরাদ্দে রূপান্তর

  • দুর্যোগ ঝুঁকি সূচক (DRI): প্রথমবারের মতো, শুধুমাত্র অতীতের ব্যয়ের পরিবর্তে একটি রাজ্যের নির্দিষ্ট ঝুঁকি প্রোফাইলের ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • সূত্র (Formula): বরাদ্দ এখন বিপদ (তীব্রতা), এক্সপোজার (বিপদে থাকা জনসংখ্যা/সম্পদ) এবং ভেদ্যতা বা দুর্বলতা (সামাজিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতা)-কে বিবেচনা করে।
  • উদ্দেশ্য: ওড়িশা বা হিমাচল প্রদেশের মতো উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিসম্পন্ন রাজ্যগুলো যেন বৃহৎ কিন্তু কম ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্যের তুলনায় আনুপাতিক সহায়তা পায়।

২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলের কাঠামো

১৫তম অর্থ কমিশনের উদাহরণ অনুসরণ করে, ১৬তম অর্থ কমিশনও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল (NDRMF) এবং রাজ্য দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল (SDRMF)-কে দুটি ভাগে ভাগ করেছে:

  1. সাড়া দান তহবিল (Response Fund – ৮০%):
    • সাড়া দান ও ত্রাণ (৭০%): দুর্যোগ পরবর্তী তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য।
    • পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন (৩০%): দুর্যোগের পরে পুনরায় গড়ে তোলার জন্য।
  2. প্রশমন তহবিল (Mitigation Fund – ২০%): এটি কঠোরভাবে দুর্যোগ-পূর্ববর্তী অবকাঠামোগত ব্যবস্থার (যেমন- সমুদ্রের বাঁধ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা) জন্য সংরক্ষিত।

প্রধান দুর্যোগের ধরন এবং প্রশমন কৌশল

ক. জলজ দুর্যোগ: বন্যা এবং শহুরে বন্যা

  • দুর্বলতা: ভারতের ১২% ভূখণ্ড বন্যাপ্রবণ।
  • ২০২৬ প্রেক্ষাপট: কলকাতায় সাম্প্রতিক মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যা (আগস্ট ২০২৫) “যৌগিক দুর্যোগের” ক্রমবর্ধমান প্রকোপকে তুলে ধরে।
  • প্রশমন:
    • স্পঞ্জ সিটি কনসেপ্ট (Sponge City): বৃষ্টির জল শোষণের জন্য প্রবেশযোগ্য মাটির উপরিভাগ বাড়ানো।
    • ভুভান পোর্টাল (Bhuvan Portal): রিয়েল-টাইম বন্যার মানচিত্র তৈরির জন্য ইসরো (ISRO)-র স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার।

খ. ভূ-তাত্ত্বিক দুর্যোগ: ভূমিকম্প এবং ভূমিধস

  • দুর্বলতা: ৫৯% এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ (জোন ৫ – হিমালয় অঞ্চল)।
  • প্রশমন:
    • সিসমিক মাইক্রো-জোন্যাশন: শহুরে এলাকার (যেমন দিল্লি, গুয়াহাটি) বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি।
    • কোটি বানাল স্থাপত্য (Koti Banal): হিমালয়ে ঐতিহ্যবাহী ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ কৌশলের পুনরুজ্জীবন।

গ. জলবায়ুগত দুর্যোগ: তাপপ্রবাহ এবং বজ্রপাত

  • চ্যালেঞ্জ: বজ্রপাত এখন ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর প্রধান কারণ (৩৬% মৃত্যু)।
  • প্রশমন:
    • সচেত পোর্টাল (Sachet Portal): নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় এসএমএস সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য একটি সাধারণ প্রোটোকল।
    • হিট অ্যাকশন প্ল্যান (HAPs): শহরের ‘হিট আইল্যান্ড’ মোকাবিলায় “কুল রুফ” নীতি এবং “গ্রিন করিডোর” বাস্তবায়ন।

বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্ক: সেনদাই থেকে CDRI

১. দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) বৈশ্বিক দুর্যোগ নীতির প্রধান ভিত্তি হলো সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক। এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে দুর্যোগের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

  • ৪টি প্রধান অগ্রাধিকার:
    • দুর্যোগের ঝুঁকি সঠিকভাবে বোঝা।
    • দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
    • দুর্যোগ সহনশীলতা বাড়াতে বিনিয়োগ করা (কাঠামোগত এবং অ-কাঠামোগত)।
    • কার্যকর সাড়াদানের জন্য প্রস্তুতি বাড়ানো এবং পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে “Build Back Better” (আগের চেয়ে ভালো করে গড়ে তোলা) নীতি অনুসরণ করা।
  • ৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুহার, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা।

২. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) সমন্বয় ২০৩০ সালের উন্নয়ন কর্মসূচির সাথে দুর্যোগ সহনশীলতা গভীরভাবে যুক্ত:

  • SDG ১ এবং ১১: দরিদ্র মানুষকে জলবায়ুজনিত চরম বিপদ থেকে রক্ষা করা এবং শহরগুলোকে সহনশীল করে গড়ে তোলা।
  • SDG ১৩: জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া।

৩. প্যারিস চুক্তি (COP21) এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে যুক্ত ক্ষতি ও লোকসান” (Loss and Damage)-কে স্বীকৃতি দেয়। ভারতের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAPCC) বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং অভিযোজন লক্ষ্যের সাথে দুর্যোগ প্রশমনকে একীভূত করে।

৪. CDRI (দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামোর জন্য জোট) ২০১৯ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু পদক্ষেপ সম্মেলনে ভারতের নেতৃত্বে এটি চালু হয়। এটি সরকার এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব।

  • মূল লক্ষ্য: বিদ্যুৎ, টেলিকম, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যের মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগুলো যেন জলবায়ুর চরম ধাক্কা সহ্য করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
  • প্রধান উদ্যোগ: IRIS (Infrastructure for Resilient Island States), যা মূলত ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর (SIDS) বিশেষ ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করে।

ভারতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জসমূহ

১. প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়হীনতা

  • শেষ মাইলের” ঘাটতি (Last Mile Deficit): যদিও NDMA এবং SDMA-গুলোতে যথেষ্ট ফান্ড থাকে, কিন্তু জেলা পর্যায়ের DDMA-গুলোতে অনেক সময় দক্ষ কর্মী এবং জটিল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারিগরি জ্ঞানের অভাব দেখা যায়।
  • তথ্য আদান-প্রদানে বাধা (Data Silos): কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর (IMD, CWC, ISRO) মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য শেয়ারিং-এর অভাবে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের কাছে সঠিক সময়ে খবর পৌঁছাতে দেরি হয়।

২. আর্থিক চ্যালেঞ্জ (১৬তম অর্থ কমিশন পরবর্তী)

  • তহবিলের অসঙ্গতি: ১৬তম অর্থ কমিশন ঝুঁকির পরিমাপ হিসেবে মোট জনসংখ্যা”-কে গুরুত্ব দিয়েছে। এতে ওড়িশার মতো রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে কিন্তু ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।
  • প্রশমন তহবিলের অপব্যবহার: রাজ্যগুলো প্রায়ই দুর্যোগ মোকাবিলা বা ত্রাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয় এবং ২০% প্রশমন তহবিলের (Mitigation Fund) সঠিক ব্যবহার করে না। তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বিনিয়োগের পরিবর্তে কেবল জরুরি খরচ হিসেবে দেখে।

৩. নতুন জলবায়ু বিপদসমূহ

  • নীরব ঘাতক”: বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে তাপপ্রবাহ এবং বজ্রপাতে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তা সত্ত্বেও জাতীয়ভাবে এগুলোর শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।
  • শহুরে বন্যা: অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক জলধারা বা জলাভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

৪. পরিকাঠামো ও কারিগরি ঘাটতি

  • মানদণ্ডের অভাব: ভবন নির্মাণের সঠিক নিয়মাবলী এবং BIS সিসমিক কোড (ভূমিকম্প সহনশীল নিয়ম) কঠোরভাবে মেনে না চলায় শহুরে পরিকাঠামো ভূমিকম্পের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
  • রক্ষণাবেক্ষণ: পুরনো বাঁধ এবং নদীবাঁধগুলো (যেমন- মুল্লাপেরিয়ার বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ) যে কোনো সময় ভেঙে গিয়ে বিশাল বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে।

৫. সামাজিক-অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা

  • দরিদ্রদের ঝুঁকি: দুর্যোগের প্রভাব বস্তি বা নিচু এলাকায় বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে। তাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর মতো বিমা বা পর্যাপ্ত সম্পদ থাকে না।
  • দেশীয় জ্ঞানের অবক্ষয়: আধুনিক কংক্রিট-নির্ভর ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চক্করে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এবং পরিবেশ-বান্ধব দুর্যোগ সহনশীল পদ্ধতিগুলো (যেমন- হিমালয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য) হারিয়ে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথ

১. উন্নয়নে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR)-কে মূলধারায় আনা প্রতিটি পরিকাঠামো প্রকল্পে (মহাসড়ক, স্মার্ট সিটি) বাধ্যতামূলক দুর্যোগ ঝুঁকি অডিট করতে হবে। “যে কোনো মূল্যে উন্নয়ন” থেকে সরে এসে সহনশীল পরিকাঠামো” (CDRI মানদণ্ড) নিশ্চিত করতে হবে যাতে চরম দুর্যোগেও স্কুল, হাসপাতাল এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকে।

২. স্থানীয় প্রশাসন ও জননেতৃত্বকে শক্তিশালী করা জেলা পর্যায়ের DDMA-গুলোকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। আপদা মিত্র”-র মতো জনমুখী উদ্যোগগুলো আরও বাড়াতে হবে যাতে পেশাদার সাহায্য পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় মানুষ গোল্ডেন আওয়ার” বা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

৩. “প্রভাব-ভিত্তিক” আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা (EWS) শুধু “আবহাওয়া কেমন থাকবে” তা না জানিয়ে আবহাওয়া কী ক্ষতি করতে পারে” সেই তথ্য প্রদান করতে হবে (যেমন- সচেত পোর্টাল)। AI, মেশিন লার্নিং এবং ইসরো (ISRO)-র ডেটা ব্যবহার করে একদম স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভুল সতর্কবার্তা দিতে হবে যাতে মানুষ জানে তাদের ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (NbS) এবং ব্লু-গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার শহরগুলোতে জলাভূমি এবং ম্যানগ্রোভ রক্ষার মাধ্যমে স্পঞ্জ সিটি” ধারণা গ্রহণ করতে হবে। কংক্রিটের দেয়ালের চেয়ে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (যেমন- বায়ো-শিল্ড বা প্রাকৃতিক রক্ষা কবচ) বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

৫. ঝুঁকি অর্থায়নের ফাঁক পূরণ করা সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি বিমা ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমে। ১৬তম অর্থ কমিশনের প্রশমন তহবিল (SDMF) কঠোরভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করতে হবে যাতে “দুর্যোগ-ত্রাণ-পুনরাবৃত্তি”-র এই চক্র ভেঙে ফেলা যায়।

উপসংহার

১৬তম অর্থ কমিশনের সহায়তায় ভারতের একটি ঝুঁকি-সচেতন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মডেলে রূপান্তর টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় স্তরের প্রতিকার ক্ষমতা ও জনসাধারণের সহনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য আসবে।