প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডের গবেষকরা একটি নিয়ন্ত্রিত এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা পরিবেশে সফলভাবে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ভূমিকম্প (Micro-earthquakes) ঘটিয়েছেন। সুইস আল্পসের নিচে ১.৫ কিমি গভীর টানেলে অবস্থিত BedrettoLab ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ফল্ট লাইনের (Fault lines) মেকানিজম নিয়ে গবেষণা করছেন, যাতে প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও ভালোভাবে বোঝা এবং তা প্রশমিত করা যায়।
ভূমিকম্পের মেকানিজম এবং আবেশিত ভূকম্পন (Induced Seismicity) বোঝা
১. পরীক্ষাটি যেভাবে কাজ করে
- পদ্ধতি: বিজ্ঞানীরা টানেলের পাথুরে দেয়ালে খনন করা বোরহোলের (Boreholes) মধ্যে ৭০০ ঘনমিটার জল ইনজেক্ট করেন।
- প্রক্রিয়া (The Mechanism): জল এখানে লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে এবং ফল্টের ভেতরে পোর প্রেসার (Pore pressure) বৃদ্ধি করে। এটি শিলাখণ্ডগুলোকে একত্রে ধরে রাখা ঘর্ষণকে কমিয়ে দেয়, যার ফলে তারা পিছলে যায় এবং শক্তি নির্গত হয়।
- মাত্রা: ৮,০০০-এর বেশি ছোট ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মাত্রা -৪ থেকে ০.১৪ পর্যন্ত। প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যায়, এগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র কম্পন বা “মাইক্রো-কোয়েক”, তবে ০.১৪ মাত্রায় ত্বরণ ছিল আদর্শ অভিকর্ষজ ত্বরণের ১.৩ গুণ।
২. আবেশিত বনাম প্রাকৃতিক ভূকম্পন
- প্রাকৃতিক ভূমিকম্প: টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া এবং ফল্ট লাইনে চাপের সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট হয়।
- আবেশিত ভূকম্পন (Induced Seismicity): মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ভূমিকম্পের কার্যকলাপ।
- সাধারণ কারণ: জলাধার-আবেশিত ভূকম্পন (বৃহৎ বাঁধ), ফ্র্যাকিং (শেল গ্যাস নিষ্কাশন), ভূ-তাপীয় শক্তি উৎপাদন এবং বর্জ্য জল ইনজেকশন।
৩. মূল শব্দভাণ্ডার
| শব্দ | অর্থ |
| ফোকাস/হাইপোসেন্টার | পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিন্দু যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় |
| এপিসেন্টার (Epicentre) | ফোকাসের ঠিক উপরে পৃথিবীর পৃষ্ঠের বিন্দু |
| সিসমিক ওয়েভ | ভূমিকম্পের সময় উৎপন্ন শক্তি তরঙ্গ |
| ফল্ট (Fault) | পৃথিবীর ভূত্বকের ফাটল বা বিচ্যুতি |
৪. রিখটার স্কেল বনাম মারকালি স্কেল
| ভিত্তি | রিখটার স্কেল | মারকালি স্কেল |
| কী পরিমাপ করে | ভূমিকম্পের সময় নির্গত শক্তি/মাত্রা (Magnitude) | ভূমিকম্পের তীব্রতা (Intensity)/ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রভাব |
| পদ্ধতি | সিসমোগ্রাফ এবং বৈজ্ঞানিক গণনা ব্যবহার করে | মানুষের পর্যবেক্ষণ এবং কাঠামোগত ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে |
| স্কেল | লগারিদমিক স্কেল (সাধারণত ০–১০+) | রোমান সংখ্যা I–XII |
| পরিমাপের প্রকৃতি | বস্তুনিষ্ঠ (Objective) এবং সব জায়গায় একই | ব্যক্তিভেদে ভিন্ন (Subjective) এবং স্থানভেদে পরিবর্তিত হয় |
৫. আল্পস পর্বতমালা সম্পর্কে
- বিস্তৃতি: ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, স্লোভেনিয়া, লিচেনস্টাইন এবং মোনাকো।
- গঠন: আফ্রিকান এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে গঠিত।
- প্রধান নদ-নদীর উৎস: রাইন, রোণ, পো, দানিউব।
- অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- স্কিইং এবং পর্বতারোহণের জন্য প্রধান পর্যটন গন্তব্য।
- জলবিদ্যুৎ শক্তির সমৃদ্ধ উৎস।
- দুগ্ধ খামার এবং গবাদি পশু পালনে সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন টানেল এবং পাস (Passes) ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্ত করে।
Q. 'আবেশিত ভূকম্পন' (Induced Seismicity) এবং ভূমিকম্পের মেকানিজম প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. একটি ফল্ট লাইন বরাবর পোর ওয়াটার প্রেসার বৃদ্ধি করলে তা কার্যকর ঘর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে শিলা পিছলে যেতে পারে।
2. রিখটার স্কেল হলো একটি রৈখিক (Linear) স্কেল যেখানে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প ২ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী।
3. বৃহৎ আকারের জলাধার নির্মাণ মানব-সৃষ্ট বা আবেশিত ভূকম্পন কার্যকলাপের একটি পরিচিত কারণ।
ওপরের বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) 1 এবং 2 শুধুমাত্র
(b) 2 এবং 3 শুধুমাত্র
(c) 1 এবং 3 শুধুমাত্র
(d) 1, 2, এবং 3
সঠিক উত্তর: (c) 1 এবং 3 শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: এটিই সুইজারল্যান্ডের পরীক্ষায় ব্যবহৃত মূল নীতি।
• বিবৃতি 2 ভুল: কারণ রিখটার স্কেল লগারিদমিক (Logarithmic), রৈখিক নয়; ৪ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তি নির্গমনের দিক থেকে ২ মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
• বিবৃতি 3 সঠিক: (যেমন- মহারাষ্ট্রের কয়না বাঁধ জলাধার-আবেশিত ভূকম্পনের একটি বিখ্যাত উদাহরণ)।