প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, ৭ মে ২০২৬ তারিখে ওড়িশা উপকূল থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) সফলভাবে ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন (TARA) অস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই উদ্ভাবনটি ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট-এর আগমনকে চিহ্নিত করে, যা সাধারণ নির্দেশনাবিহীন বোমাগুলোকে (unguided bombs) উচ্চ-নির্ভুল গ্লাইড অস্ত্রে রূপান্তর করতে সক্ষম।
১. সংজ্ঞা এবং কার্যকারিতা
ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন (TARA) হলো একটি গ্লাইড অস্ত্র ব্যবস্থা, যা বিদ্যমান নির্দেশনাবিহীন ওয়ারহেড (মাধ্যাকর্ষণ বোমা) গুলোকে নির্ভুল নির্দেশিত মারণাস্ত্র (PGMs)-এ রূপান্তর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি মূলত একটি “মডুলার কিট” হিসেবে কাজ করে যা সাধারণ বোমার সাথে যুক্ত করা যায়, যাতে সেগুলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বর্ধিত পাল্লা (range) প্রদান করা সম্ভব হয়।
২. প্রধান প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
- গ্লাইড প্রযুক্তি: এই ব্যবস্থায় মোতায়েনযোগ্য ডানা (wings) সম্বলিত একটি মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট ব্যবহার করা হয়। এই ডানাগুলো বোমাকে বাতাসের মধ্য দিয়ে “ভেসে যেতে” (glide) সাহায্য করে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে এর পাল্লা বা আক্রমণ করার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।
- নির্ভুল গাইডেন্স: অত্যাধুনিক গাইডেন্স সিস্টেমকে যুক্ত করার মাধ্যমে, TARA নিশ্চিত করে যে স্বল্পমূল্যের সাধারণ বোমাগুলোও অত্যন্ত নির্ভুলতার সাথে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।
- ভেরিয়েন্ট বা ধরন: বিভিন্ন ওজনের বোমার জন্য এই ব্যবস্থাটি একাধিক কনফিগারেশনে তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে TARA 250, TARA 450, এবং TARA 500 (যা যথাক্রমে ২৫০ কেজি, ৪৫০ কেজি এবং ৫০০ কেজি ওজনের বোমার জন্য প্রযোজ্য)।
- স্বল্প খরচ: TARA প্রকল্পের একটি প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ব্যয়বহুল ডেডিকেটেড মিসাইলের তুলনায় নির্ভুল হামলার জন্য একটি সাশ্রয়ী সমাধান প্রদান করা।
৩. উন্নয়ন ও দেশীয়করণ
- সংস্থা: এই সিস্টেমটি হায়দ্রাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI) এবং DRDO-র অন্যান্য ল্যাবরেটরির সহযোগিতায় ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে।
- শিল্প সহযোগিতা: এই প্রকল্পে ডেভেলপমেন্ট-কাম-প্রোডাকশন পার্টনারস (DcPP) এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে, যা আত্মনির্ভর ভারত কাঠামোর অধীনে একটি শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
- প্ল্যাটফর্ম ইন্টিগ্রেশন: যদিও প্রাথমিক ট্রায়ালগুলো জাগুয়ার (Jaguar) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে করা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এটি Su-30MKI এবং মিরাজ ২০০০ (Mirage 2000)-এর মতো অন্যান্য প্রথম সারির যুদ্ধবিমানেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. কৌশলগত গুরুত্ব
- স্ট্যান্ডঅফ সক্ষমতা: পাল্লা বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে, TARA ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলটদের এমন দূরত্ব থেকে বোমা ছোড়ার সুযোগ দেয় যেখানে তারা শত্রুর গ্রাউন্ড-বেসড এয়ার ডিফেন্স (GBAD) সিস্টেম থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন।
- ঘাতকতা এবং দক্ষতা: এটি মজুত থাকা সাধারণ “ডাম্ব বোম্ব” (dumb bombs)-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করা যায় এবং আশেপাশের অপ্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
Q. ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন (TARA) সিস্টেমের রেফারেন্সে, নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি-I: TARA হলো একটি মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট যা নির্দেশনাবিহীন ওয়ারহেডকে নির্ভুল নির্দেশিত গ্লাইড অস্ত্রে রূপান্তর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বিবৃতি-II: এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি স্বল্পমূল্যের দেশীয় বিকল্প প্রদানের জন্য রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।
উপরের বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে নিচের কোনটি সঠিক?
(a) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা।
(b) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
(c) বিবৃতি-I সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II ভুল।
(d) বিবৃতি-I ভুল কিন্তু বিবৃতি-II সঠিক।
সমাধান: (a)
বিবৃতি I সঠিক: TARA বিশেষভাবে একটি মডুলার কিট হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে যা সাধারণ বোমার সাথে ডানা এবং নির্দেশিকা যুক্ত করে সেগুলোকে গ্লাইড অস্ত্রে পরিণত করে।
বিবৃতি II সঠিক: DRDO-র একটি প্রধান ল্যাব রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI), কম পরিচালন খরচে হামলার নির্ভুলতা বাড়ানোর জন্য এর উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছে, যা বিবৃতি I-এ উল্লিখিত সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তাকে ব্যাখ্যা করে।