🔥 42 IAS Prelims 2026 Questions Themes Came Directly from Our Expected Topics. Click for the Proof. 🔥 Free IAS Guidance Programme. Click Now. 🔥 Free Mains Performance Enhancement Programme For IAS Mains 2026. Click Now. 🔥 Free Ethics & Essay Marks Improvement Programme For IAS Mains 2026. Click Now.

জল বণ্টন: তুঙ্গভদ্রা বাঁধ এবং সহযোগিতামূলক জল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা

Sharing Waters: Tungabhadra Dam and the Need for Cooperative Water Governance

এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি ইউপিএসসি মেইনস-এর এই মডেল প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবেন: “আন্তঃরাজ্য নদীর জল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো (Cooperative Federalism), সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন এবং বাঁধের নিরাপত্তা (Dam Safety)-র মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। তুঙ্গভদ্রা বাঁধের প্রেক্ষাপটে এটি আলোচনা করুন।” ১৫ নম্বর (GS-2, রাষ্ট্রব্যবস্থা)

খবরের শিরোনামে কেন?

২৫ জুন ২০২৬ তারিখে কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী যৌথভাবে তুঙ্গভদ্রা বাঁধের ৩৩টি নবনির্মিত স্পিলওয়ে গেট (Spillway Gates) উদ্বোধন করেন, যা জল ব্যবস্থাপনায় আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।

তুঙ্গভদ্রা বাঁধ সম্পর্কে

  • এটি কৃষ্ণা নদীর একটি প্রধান উপনদী তুঙ্গভদ্রা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে।
  • এটি কর্ণাটকের কোপ্পাল (Koppal) জেলায় অবস্থিত।
  • এটি কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা—এই তিন রাজ্যকে পরিষেবা দেয়।
  • এটি একটি সম্মত জল-বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী তুঙ্গভদ্রা বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • এটি প্রায় ১৬.৪ লাখ একর জমিতে সেচ প্রদান করে:
    • কর্ণাটক – ৯.২৬ লাখ একর
    • অন্ধ্রপ্রদেশ – ৬.২৫ লাখ একর
    • তেলেঙ্গানা – ৮৭,০০০ একর
  • এটি অঞ্চলের কৃষি, পানের জলের সরবরাহ এবং গ্রামীণ জীবিকাকে সহায়তা করে।

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, অতিরিক্ত জলের চাপের কারণে বাঁধের ধারণক্ষমতা (১০৫ টিএমসি) পূর্ণ থাকাকালীন তুঙ্গভদ্রা বাঁধের একটি ক্রেস্ট গেট (Crest Gate) ভেসে যায়। এই ঘটনাটি পুরোনো হতে থাকা বাঁধের পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এর ফলেই ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ বছরের দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ-মানের স্টিল গেট দিয়ে ৩৩টি স্পিলওয়ে গেটের সবকটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ

ক) সাংবিধানিক বিধান

১. অনুচ্ছেদ ২৬২ (Article 262): এটি সংসদকে আন্তঃরাজ্য নদীর জলবিবাদ নিষ্পত্তির জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয় এবং এই ধরনের বিবাদের ক্ষেত্রে সাধারণ আদালতের এক্তিয়ারকে বাদ দেওয়ার সুযোগ দেয়। ২. রাজ্য তালিকার ১৭ নম্বর এন্ট্রি (Entry 17, State List): জল, সেচ, খাল, নিষ্কাশন, বাঁধ এবং জল সংরক্ষণকে মূলত রাজ্যগুলির আইনি এক্তিয়ারে রাখা হয়েছে, তবে তা কেন্দ্রের বিশেষ বিধান সাপেক্ষ। ৩. কেন্দ্রীয় তালিকার ৫৬ নম্বর এন্ট্রি (Entry 56, Union List): বৃহত্তর জনস্বার্থে আন্তঃরাজ্য নদী এবং নদী উপত্যকাগুলির নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদান করে।

খ) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা

১. নদী বোর্ড (River Boards): আন্তঃরাজ্য নদী অববাহিকার সমন্বিত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য নদী বোর্ড আইন, ১৯৫৬ (River Boards Act, 1956)-এর অধীনে এটি গঠিত হয়, যদিও বাস্তবে এগুলি খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।

২. আন্তঃরাজ্য নদীর জলবিবাদ ট্রাইব্যুনাল (Inter-State River Water Disputes Tribunals): আন্তঃরাজ্য নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য আন্তঃরাজ্য নদীর জলবিবাদ আইন, ১৯৫৬-এর অধীনে এটি গঠিত হয়।

৩. কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC): এটি জল সম্পদের পরিকল্পনা, নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বাঁধের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদান করে।

৪. জাতীয় বাঁধ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (NDSA): এটি ভারতজুড়ে বাঁধের নিরাপত্তার মান, নজরদারি, পরিদর্শন এবং জরুরি প্রস্তুতি তদারকি করার জন্য বাঁধ নিরাপত্তা আইন, ২০২১ (Dam Safety Act, 2021)-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৫. তুঙ্গভদ্রা বোর্ড (Tungabhadra Board): এটি কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার মধ্যে সম্মত জল-বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত জল বণ্টন নিশ্চিত করতে জলাধারের কার্যক্রম এবং জল ছাড়ার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তাৎপর্য

১. সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শক্তিশালীকরণ: তিনটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের যৌথ অংশগ্রহণ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

২. দক্ষ আন্তঃরাজ্য জল শাসন: একটি সুপ্রতিষ্ঠিত জল-বণ্টন সূত্র এবং তুঙ্গভদ্রা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো আন্তঃরাজ্য বিবাদ কমিয়ে ন্যায়সঙ্গত জল বণ্টন নিশ্চিত করেছে।

৩. বাঁধের নিরাপত্তা এবং আধুনিকীকরণ: পুরোনো স্পিলওয়ে গেটগুলির প্রতিস্থাপন বাঁধের কাঠামোগত নিরাপত্তা বাড়ায়, কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৪. কৃষি নিরাপত্তা: উন্নত বাঁধ পরিকাঠামো প্রায় ১৬.৪ লাখ একর জমিতে নির্ভরযোগ্য সেচ নিশ্চিত করে, যা তিন রাজ্যের কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকাকে টিকিয়ে রাখে।

জল শাসনের ক্ষেত্রে উদীয়মান চ্যালেঞ্জসমূহ

১. আন্তঃরাজ্য জল বণ্টন বিবাদ: উচ্চ ভদ্রা প্রকল্প (Upper Bhadra Project) জল বণ্টনের সমতাকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিম্নপ্রবাহের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, উচ্চপ্রবাহে জল সরানোর ফলে তাদের জল প্রাপ্যতা কমে যাবে।

২. জলাধারে পলি জমা (Reservoir Siltation): অতিরিক্ত পলি জমার কারণে বাঁধের জল ধারণক্ষমতা ১৩৩ টিএমসি থেকে কমে প্রায় ১০৬ টিএমসি হয়ে গেছে, যা সেচ দক্ষতা, জলের প্রাপ্যতা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

৩. পুরোনো বাঁধ পরিকাঠামো (Ageing Dam Infrastructure): বাঁধের পুরোনো কাঠামো এবং স্পিলওয়ে সিস্টেমগুলির নিয়মিত সংস্কার প্রয়োজন, যাতে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

4. জলবায়ু পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়া: চরম বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং অনিয়মিত মৌসুমী বায়ুর কারণে জলাধার পরিচালনা করা দিন দিন আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

৫. বৈজ্ঞানিক জলাধার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন: রিয়েল-টাইম (Real-time) পর্যবেক্ষণ, পলি অপসারণ এবং আধুনিক জলাধার পরিচালন কৌশলের অভাব দক্ষ জল ব্যবহার এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে ব্যাহত করছে।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক এবং শাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ: কার্যকর জল শাসনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয়, সময়মতো সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অববাহিকা-ভিত্তিক পরিকল্পনার প্রয়োজন।

সেরা অনুশীলন এবং বিশেষজ্ঞের সুপারিশ

১. মিহির শাহ কমিটি (২০১৬): প্রচলিত প্রকৌশল ও নির্মাণ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা (IWRM)-এর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC) এবং কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল বোর্ড (CGWB)-এর পরিবর্তে একটি জাতীয় জল কমিশন (NWC) গঠন করা।

২. মারে-ডার্লিং বেসিন কর্তৃপক্ষ (অস্ট্রেলিয়া): এটি সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (IRBM)-এর একটি বিশ্বস্বীবৃত মডেল। এখানে একটি একক কেন্দ্রীয় authority (কর্তৃপক্ষ) একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বেসিন পরিকল্পনার মাধ্যমে পাঁচটি অঞ্চলের নদী অববাহিকা পরিচালনা করে, যা ন্যায়সঙ্গত জল বণ্টন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

৩. মেকং নদী কমিশন (Mekong River Commission): এটি সদস্য দেশগুলির মধ্যে যৌথ তথ্য আদান-প্রদান, বন্যার পূর্বাভাস, সমন্বিত অববাহিকা পরিকল্পনা এবং ঐকমত্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সফল আন্তঃসীমান্ত জল শাসনের একটি অনন্য উদাহরণ।

জল শাসনের ভবিষ্যৎ পন্থা

১. সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে উৎসাহিত করা: সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও ঐকমত্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে শক্তিশালী করা, যাতে জল সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

২. সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (IRBM) গ্রহণ করা: রাজ্য-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ভূপৃষ্ঠের জল, ভূগর্ভস্থ জল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ন্যায়সঙ্গত বণ্টনকে একীভূত করে অববাহিকা-স্তরের পরিকল্পনা করা।

৩. বৈজ্ঞানিক জলাধার ব্যবস্থাপনা: জল সঞ্চয় এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নিখুঁত করতে নিয়মিত পলি অপসারণ, রিয়েল-টাইম হাইড্রোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জলাধার পরিচালনার সাহায্য নেওয়া।

৪. বাঁধের নিরাপত্তা জোরদার করা: নিয়মিত কাঠামোগত অডিট (Structural Audits), পুরোনো পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বাঁধ পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প (DRIP) সময়মতো বাস্তবায়ন করা। ৫. কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বৃদ্ধি করা: আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত সাহায্য, কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃরাজ্য জল সমস্যার সময়োপযোগী সমাধানের মাধ্যমে সমবায় শাসনকে শক্তিশালী করা।

৬. জলবায়ু-সহনশীল জল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা: বন্যার উন্নত পূর্বাভাস, সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি, জল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-অনুকূল জলাধার পরিচালনা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরি করা।

উপসংহার

ভারতের জল শাসনের মূল ফোকাস বিবাদ মীমাংসা থেকে সরিয়ে বিবাদ প্রতিরোধে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করা, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ জলসম্পদের টেকসই ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

Latest Articles

×

FREE IAS GUIDANCE PROGRAMME

Enroll Now