🔥 42 IAS Prelims 2026 Questions Themes Came Directly from Our Expected Topics. Click for the Proof. 🔥 Admissions Open for 31st August GS Batch. Register Now. 🔥 IAS Scholarship Test 2026. Register Now.

রেমিট্যান্স এবং বিওপি (BoP) অ্যাকাউন্টিং

Remittances & BoP Accounting

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, দেশের ভেতরে আসা রেমিট্যান্স (বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা) ভারতের বৈদেশিক খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি দেশের কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি (ট্রেড ডেফিসিট) মেটাতে এবং ভারতীয় রুপির বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে যেখানে নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং নিট বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) ঋণাত্মক বা মাইনাসে নেমে গেছে, সেখানে স্থির নিট মাধ্যমিক আয়—যার পরিমাণ প্রায় ১৩৮ বিলিয়ন ডলার—ধারাবাহিকভাবে ভারতের মোট বাণিজ্য ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়ন করেছে। এটি বৈদেশিক খাতের বিভিন্ন দুর্বলতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

 

১. বিওপি (BoP) অ্যাকাউন্টিং ফ্রেমওয়ার্ক

  • শ্রেণীবিন্যাস: রেমিট্যান্স বা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) অধীনে নথিভুক্ত করা হয় (মূলধন/আর্থিক হিসাবে বা ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টে নয়)।
  • উপ-শ্রেণী: এগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে অদৃশ্য লেনদেন $\rightarrow$ নিট মাধ্যমিক আয় (Net Secondary Income – NSI) উদ্বৃত্তের অধীনে ফেলা হয়, যা ভারতের বিশাল নিট ইতিবাচক ব্যক্তিগত স্থানান্তরকে নির্দেশ করে।
  • প্রকৃতি: এগুলো একতরফা হস্তান্তর (Unrequited Unilateral Transfers) হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, এগুলো কেবলই স্থানান্তর, এর বিপরীতে কোনো দাবি থাকে না। এফডিআই (FDI) বা এফপিআই (FPI)-এর মতো এগুলোর কারণে ভবিষ্যতে কোনো দায় বা বিনিয়োগের লভ্যাংশ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না।

২. প্রধান প্রবণতা এবং মূল উপাত্ত

  • বৈশ্বিক অবস্থান: বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ভারত অনেক বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত ১৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।
  • জিডিপি (GDP)-র অনুপাত: নিট রেমিট্যান্স ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড়ে প্রায় ৩%। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে এটি নিট এফডিআই এবং এফপিআই-এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে।
  • স্থিতিশীলতার কারণ: বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগের মতো রেমিট্যান্স হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় না বা দেশ থেকে পুঁজি চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না; এটি মূলত প্রবাসী ভারতীয়দের আয় এবং সঞ্চয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
  • ঘাটতি কমানোর উপায়: ২০১৩ সালের মাঝামাঝি থেকে রেমিট্যান্স গড়ে ভারতের মোট বাণিজ্য ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করে আসছে।

৩. সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব

  • অবমূল্যায়ন রোধ করা: ভারতীয় রুপির ওপর যখনই পতনের চাপ আসে (যেমন ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান প্রায় ১২% কমেছে), তখন রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা সামলানোর উপায় হিসেবে কাজ করে।
  • ক্যাড (CAD) ব্যবস্থাপনা: এটি লাগাতার পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতা সরাসরি পূরণ করে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতিকে (ক্যাড) একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সীমার মধ্যে রাখে।
  • পুঁজি কমে যাওয়ার প্রভাব থেকে সুরক্ষা: এফডিআই এবং এফপিআই কমে যাওয়ার কারণে যখন আর্থিক হিসাব (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) চাপে পড়ে, তখন রেমিট্যান্সের অবিরাম প্রবাহ লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) বড় কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেয় না।
প্রশ্ন: ভারতের বৈদেশিক খাত সম্পর্কিত নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি I: প্রবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স ব্যালেন্স অব পেমেন্টস (BoP) কাঠামোর মূলধন হিসাবের (ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট) অধীনে নথিভুক্ত করা হয়।
বিবৃতি II: ভারতে আসা রেমিট্যান্স একতরফা হস্তান্তর হিসেবে কাজ করে, যা দেশের জন্য ভবিষ্যতে কোনো ঋণ বা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।
উপরের বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে নিচের কোনটি সঠিক?
(a) বিবৃতি I এবং বিবৃতি II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি II হলো বিবৃতি I-এর সঠিক ব্যাখ্যা
(b) বিবৃতি I and বিবৃতি II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি II হলো বিবৃতি I-এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়
(c) বিবৃতি I সঠিক কিন্তু বিবৃতি II ভুল
(d) বিবৃতি I ভুল কিন্তু বিবৃতি II সঠিক
সমাধান ও উত্তর
সঠিক উত্তর: (d)
• বিবৃতি I ভুল: ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স সুনির্দিষ্টভাবে চলতি হিসাবের (বিশেষ করে নিট মাধ্যমিক আয় উদ্বৃত্তের) অধীনে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। কারণ এগুলো চলতি একতরফা আয় স্থানান্তরকে নির্দেশ করে, দেশের সম্পদ বা দায়ের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
• বিবৃতি II সঠিক: রেমিট্যান্স স্পষ্টভাবেই একতরফা হস্তান্তর (এগুলো স্থানান্তর, কোনো দাবি নয়)। এগুলো হলো প্রবাসীদের পাঠানো একমুখী অর্থপ্রবাহ, যার বিপরীতে কোনো অর্থনৈতিক সম্পদ বা পণ্য পাঠাতে হয় না। অর্থাৎ, এর ফলে ভারতের কোনো ভবিষ্যৎ ঋণ বা দায় তৈরি হয় না।

Latest Articles