প্রেক্ষাপট (Context)
- মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান রাজ্যগুলি নর্মদা জল বিরোধ ট্রাইব্যুনাল (NWDT)-এর রায়ের সাথে সম্পর্কিত অমীমাংসিত বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
- এই নিষ্পত্তির ফলে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরদার সরোবর প্রকল্প থেকে নিরবচ্ছিন্ন জল ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নর্মদা জল বিরোধ ট্রাইব্যুনাল (NWDT) সম্পর্কে
- প্রতিষ্ঠা (Establishment): কেন্দ্রীয় সরকার 1969 সালের 6 অক্টোবর আন্তঃরাজ্য নদী জল বিরোধ আইন, 1956-এর ধারা 4-এর অধীনে NWDT গঠন করে。
- অংশীদার রাজ্যসমূহ (The Stakeholders): এই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত চারটি রাজ্য হলো: মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান।
- ট্রাইব্যুনাল এক দশক ধরে পর্যালোচনার পর 1979 সালের 7 ডিসেম্বর তার চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক রায় (Award) প্রদান করে。
নর্মদা নদী সম্পর্কে
- উৎস (Origin): নর্মদা নদী মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকণ্টক মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এটি দক্ষিণে সাতপুরা এবং উত্তরে বিন্ধ্য পর্বতের মধ্যবর্তী একটি গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley)-র মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রবাহের দিক (Flow Direction): এটি গুজরাটের ভরুচের কাছে খাম্বাত উপসাগরে (আরব সাগর) পতিত হওয়ার আগে প্রায় 1,312 কিমি দৈর্ঘ্য জুড়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহ (States Covered): এটি মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট-এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর অববাহিকা এলাকার সিংহভাগ (প্রায় 87%) মধ্যপ্রদেশের অধীনে রয়েছে।
- নর্মদা অববাহিকা মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং ছত্তিশগড় জুড়ে বিস্তৃত, যা দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় 3%।
- এটি জবলপুরের কাছে মার্বেল পাথরের মধ্যে একটি মনোরম গিরিখাত এবং ধুঁয়াধার জলপ্রপাত সৃষ্টি করেছে।
নর্মদা নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ বাঁধসমূহ (Important Dams on the Narmada)
| বাঁধ (Dam) | রাজ্য (State) | গুরুত্ব (Importance) |
| সরদার সরোবর বাঁধ | গুজরাট | সেচ, পানীয় জল এবং জলবিদ্যুতের জন্য বহুমুখী প্রকল্প |
| ইন্দিরা সাগর বাঁধ | মধ্যপ্রদেশ | জলধারণ ক্ষমতার দিক থেকে ভারতের বৃহত্তম জলাশয় |
| ওমকারেশ্বর বাঁধ | মধ্যপ্রদেশ | জলবিদ্যুৎ এবং সেচ |
| মহেশ্বর বাঁধ | মধ্যপ্রদেশ | জলবিদ্যুৎ প্রকল্প |
| বার্গি বাঁধ | মধ্যপ্রদেশ | নর্মদা নদীর ওপর নির্মিত প্রথম প্রধান সম্পূর্ণ বাঁধ |
| আন্তঃরাজ্য নদী সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুচ্ছেদ 262 (Article 262): আন্তঃরাজ্য নদী সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য সংসদ আইনের মাধ্যমে বিধান করতে পারে। সংসদ এই ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য আদালতের এখতিয়ার বা একাধিপত্যকে বর্জন করতে পারে। আন্তঃরাজ্য নদী জল বিরোধ আইন, 1956: এটি জল বিরোধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান দেয়। ট্রাইব্যুনালের রায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির জন্য বাধ্যতামূলক। |
প্রশ্ন. নর্মদা জল বিরোধ ট্রাইব্যুনাল (NWDT) প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. এটি আন্তঃরাজ্য নদী জল বিরোধ আইন, 1956-এর বিধানের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
2. ট্রাইব্যুনাল ব্যবহারযোগ্য জলের বৃহত্তম অংশ গুজরাট রাজ্যকে প্রদান করেছিল।
3. রাজস্থান একটি অ-নদী তীরবর্তী (Non-riparian) রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও, ট্রাইব্যুনাল দ্বারা নর্মদার জলের একটি অংশ বরাদ্দ পেয়েছিল।
ওপরের দেওয়া বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) 1 and 2 only
(b) 2 and 3 only
(c) 1 and 3 only
(d) 1, 2 and 3
উত্তর: (c) 1 and 3 only
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে জলবণ্টনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার 1969 সালের অক্টোবরে আন্তঃরাজ্য নদী জল বিরোধ আইন, 1956-এর ধারা 4-এর অধীনে নর্মদা জল বিরোধ ট্রাইব্যুনাল (NWDT) গঠন করেছিল।
• বিবৃতি 2 ভুল: ট্রাইব্যুনাল মোট ব্যবহারযোগ্য জলের পরিমাণ 28 মিলিয়ন একর ফুট (MAF) নির্ধারণ করেছিল। এটি সবচেয়ে বড় অংশ মধ্যপ্রদেশকে (18.25 MAF) প্রদান করেছিল, যার পরে ছিল গুজরাট (9.00 MAF)।
• বিবৃতি 3 সঠিক: রাজস্থান একটি অ-নদী তীরবর্তী (Non-riparian) রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও (নদীটি এই রাজ্যের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়নি), ট্রাইব্যুনাল তার খরাপ্রবণ মরুভূমি জেলাগুলির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেচ এবং পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে 0.50 MAF জল বরাদ্দ করেছিল।