🔥 42 IAS Prelims 2026 Questions Themes Came Directly from Our Expected Topics. Click for the Proof. 🔥 Admissions Open for 31st August GS Batch. Register Now. 🔥 IAS Scholarship Test 2026. Register Now.

পদ্ম পুরস্কার

Padma Awards

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক বেসামরিক নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ পদ্ম পুরস্কার-এর প্রথম পর্বের মেডেল ও শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ জনসেবা ও অবদানের জন্য দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। চলতি বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি তিনটি ভিন্ন বিভাগে মোট ১৩১টি পুরস্কারের অনুমোদন দিয়েছেন। এবারের পুরস্কারে তৃণমূল স্তরের সফল ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতির ধারক-বাহক এবং মরণোত্তর স্বীকৃতি পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

১. শ্রেণীবিভাগ এবং মর্যাদার ক্রম

১৯৫৪ সালে প্রবর্তিত পদ্ম পুরস্কার হলো ভারতরত্নের পাশাপাশি গণপ্রজাতন্ত্রী ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক সম্মান। অবদানের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই পুরস্কারের কাঠামোকে তিনটি নির্দিষ্ট স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

  • পদ্মবিভূষণ: “অসাধারণ এবং বিশিষ্ট সেবামূলক কাজের” জন্য দেওয়া হয় (এটি পদ্ম পুরস্কারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর)।
  • পদ্মভূষণ: “উচ্চমানের বিশিষ্ট সেবামূলক কাজের” জন্য দেওয়া হয়।
  • পদ্মশ্রী: যেকোনো ক্ষেত্রে “বিশিষ্ট সেবামূলক কাজের” জন্য দেওয়া হয়।

২. কর্মক্ষেত্রসমূহ

এই পুরস্কারের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পকলা (সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, চিত্রাঙ্কন), সমাজসেবা, জনকল্যাণমূলক কাজ, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসা ও শিল্প, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শিক্ষা, সিভিল সার্ভিস এবং খেলাধুলা। এর পাশাপাশি আদিবাসী স্বাস্থ্যসেবা, ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট, কৃষিক্ষেত্রে নতুন আবিষ্কার এবং প্রাচীন হস্তশিল্পের মতো বিশেষ ক্ষেত্রগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

 

মনোনয়ন প্রদানের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া

পদ্ম পুরস্কারের মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন পর্যন্ত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়:

1.উন্মুক্ত আবেদন (Open Submissions):ধাপ ১.

এই প্রক্রিয়ার শুরুতে দেশের সাধারণ নাগরিকরা নিজের বা অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তির নাম অনলাইনে কেন্দ্রীয় জাতীয় পুরস্কার পোর্টাল (Rashtriya Puraskar Portal)-এর মাধ্যমে জমা দিতে পারেন।

2.কমিটির যাচাই-বাছাই (Committee Screening):ধাপ ২.

জমা পড়া সমস্ত আবেদন পদ্ম পুরস্কার কমিটি দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী এই উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির প্রধান থাকেন ক্যাবিনেট সচিব (Cabinet Secretary) এবং এর অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থাকেন স্বরাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিব এবং সমাজসেবা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ৪ থেকে ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

3.প্রশাসনিক পর্যালোচনা (Executive Review):ধাপ ৩.

এই কমিটির তৈরি করা চূড়ান্ত সুপারিশগুলো সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছে শেষ অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

4.আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (Public Announcement):ধাপ ৪.

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) প্রাক্কালে (আগের দিন সন্ধ্যায়) সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবিধিবদ্ধ নিয়ম এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা

১. প্রাতিষ্ঠানিক অযোগ্যতা

বাছাই প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য এই পুরস্কারের নিয়মে কিছু স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:

  • সরকারি কর্মচারী: সরকারি দপ্তর বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU)-তে কর্মরত কোনো জনসেবক—তিনি বৈজ্ঞানিক, প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত যে পদেই থাকুন না কেন—চাকরি জীবনের কর্মকালীন সময়ে পদ্ম পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
  • নিয়মের ব্যতিক্রম: এই নিয়মের একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীগণ। সরকারি হাসপাতাল বা রাষ্ট্রীয় গবেষণাগারে কর্মরত থাকলেও তাঁদের এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা যাবে।

২. আইনি বাস্তবতা: উপাধি বনাম সম্মাননা

এই বেসামরিক পুরস্কারগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি ঐতিহাসিক মামলা হয়েছিল, যা বালাজি রাঘবন বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (১৯৯৫) নামে পরিচিত। আদালত এই মামলায় বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করে দেয়:

  • ১৮(১) অনুচ্ছেদের সামঞ্জস্য: সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, জাতীয় পুরস্কারগুলো (ভারতরত্ন এবং পদ্ম পুরস্কার) মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া সম্মাননা মাত্র। এগুলো ভারতীয় সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো “উপাধি” (Title) নয়।
  • ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ফলস্বরূপ, এই পুরস্কারগুলোকে প্রাপকরা তাঁদের নামের আগে বা পরে (Prefix বা Suffix হিসেবে) ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কোনো পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর নামের সাথে এটি ব্যবহার করেন (যেমন: চিঠিপত্রে, ভিজিটিং কার্ডে বা সামাজিক জীবনে), তবে আইনগতভাবে তাঁর কাছ থেকে এই পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।

৩. সংখ্যাগত নিয়ম এবং সময়সীমার শর্ত

  • সর্বোচ্চ সংখ্যা: যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বছরে মোট পদ্ম পুরস্কারের সংখ্যা ১২০-এর বেশি হতে পারবে না। তবে মরণোত্তর পুরস্কার এবং প্রবাসী ভারতীয় (NRI), ওভারসিজ সিটিজেনস অব ইন্ডিয়া (OCI) ও বিদেশিদের দেওয়া পুরস্কারগুলো এই ১২০-এর হিসাবের বাইরে থাকে।
  • পরবর্তী স্তরের ব্যবধান: পদ্ম পুরস্কার পাওয়া কোনো ব্যক্তি কেবল তখনই উচ্চতর স্তরের পদ্ম পুরস্কারের (যেমন: পদ্মশ্রী থেকে পদ্মভূষণ) জন্য বিবেচিত হতে পারেন, যদি আগের পুরস্কার পাওয়ার পর কমপক্ষে ৫ বছর সময় পার হয়ে থাকে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাছাই কমিটি চাইলে এই সময়সীমা শিথিল করতে পারে।
  • মরণোত্তর নিয়ম: সাধারণত মরণোত্তর (মৃত্যুর পর) এই পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও যোগ্য ক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু প্রজাতন্ত্র দিবসের ঘোষণার ঠিক আগের এক বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।
Q. ভারতের জাতীয় বেসামরিক পুরস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি I: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) এবং সরকারি প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের তাঁদের কর্মকালীন সময়ে পদ্ম পুরস্কার দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যতিক্রম নেই।
বিবৃতি II: বালাজি রাঘবন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, বেসামরিক পুরস্কারগুলো মেধার সম্মাননা, কোনো উপাধি নয় এবং পুরস্কার প্রাপকের নামের আগে বা পরে এর ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
উপরের বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে নিচের কোনটি সঠিক?
(a) বিবৃতি I এবং বিবৃতি II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি II হলো বিবৃতি I-এর সঠিক ব্যাখ্যা
(b) বিবৃতি I এবং বিবৃতি II উভয়ই সঠিক কিন্তু বিবৃতি II হলো বিবৃতি I-এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়
(c) বিবৃতি I সঠিক কিন্তু বিবৃতি II ভুল
(d) বিবৃতি I ভুল কিন্তু বিবৃতি II সঠিক
সমাধান ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (d)
• বিবৃতি I ভুল: এটি সত্য যে সরকারি দপ্তর এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU)-তে কর্মরত কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি জীবনে সাধারণত এই পুরস্কারের যোগ্য নন। তবে নিয়মে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাই "কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যতিক্রম নেই" এই দাবিটি ভুল।
• বিবৃতি II সঠিক: ১৯৯৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বেসামরিক পুরস্কারগুলোর বৈধতা বজায় রাখে এবং জানায় যে এগুলো সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে না, যদি সেগুলোকে কেবল সম্মাননা হিসেবে দেখা হয়। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এগুলো নামের আগে বা পরে ব্যবহার করা যাবে না এবং এমনটা করলে পুরস্কার বাতিল হতে পারে। যেহেতু প্রথম বিবৃতিটি ভুল এবং দ্বিতীয় বিবৃতিটি সঠিক, তাই সঠিক বিকল্প হলো (d)।

Latest Articles