প্রেক্ষাপট
- ১৯৭১ সালের আইনটি সংশোধন করার জন্য রাজ্যসভায় ‘দ্য প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
- এই বিলটির উদ্দেশ্য হলো বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত অবমাননা, বাধা প্রদান বা ব্যাঘাত সৃষ্টিকে শাস্তিযোগ্য করে তুলে গানটিকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা।
সংশোধনী বিল, ২০২৬ কী প্রস্তাব করে?
এই বিলটির উদ্দেশ্য হলো:
- বন্দে মাতরম-কে ১৯৭১ সালের আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- এটি গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা অবমাননা করাকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।
- জাতীয় সংগীতের (National Anthem) মতো একই আইনি সুরক্ষা এটিকেও প্রদান করা।
প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১ (জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১)
- ভারতের জাতীয় প্রতীকগুলোর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার্থে ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১’ প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- এই আইনটি জাতীয় পতাকা, ভারতের সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতের প্রতি ইচ্ছাকৃত অপমান বা অবমাননা প্রদর্শনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে, যার মাধ্যমে এই জাতীয় প্রতীকগুলোকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে নাগরিকদের কর্তব্য সুদৃঢ় হয়।
শাস্তি:
- এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যক্তি, অপরাধের প্রকৃতি ও গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
বন্দে মাতরম সম্পর্কে
উৎস:
- এটি রচনা করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- এটি মূলত সংস্কৃতঘেঁষা বাংলা ভাষায় রচিত হয়েছিল।
- এটি প্রথম ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) উপন্যাসে প্রকাশিত হয়।
জাতীয় আন্দোলন:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এটি একটি শক্তিশালী স্লোগানে পরিণত হয়েছিল।
- বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের (১৯০৫) সময় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
জাতীয় গানের মর্যাদা:
১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি, গণপরিষদ নিম্নলিখিতগুলি গ্রহণ করে:
- ‘জনগণমন’-কে জাতীয় সংগীত (National Anthem) হিসেবে।
- ‘বন্দে মাতরম’-কে সমমর্যাদার সাথে জাতীয় গান (National Song) হিসেবে।
জাতীয় প্রতীক সম্পর্কিত সাংবিধানিক বিধানাবলি
ধারা ৫১এ(এ) [Article 51A(a)] – মৌলিক কর্তব্য:
- প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য হবে: সংবিধান মেনে চলা এবং এর আদর্শ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানানো।
সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়
বিজয় ইমানুয়েল বনাম কেরল রাজ্য (১৯৮৬) মামলার রায়:
- যদি অস্বীকৃতির কারণ প্রকৃত ধর্মীয় বিশ্বাস হয়, তবে কোনো ব্যক্তিকে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য করা যাবে না।
- জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, তবে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ নয়।
- ধারা ১৯(১)(এ) এবং ধারা ২৫-কে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: বন্দে মাতরম প্রসঙ্গে নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
১. বন্দে মাতরম রচনা করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২. এটি প্রথম আনন্দমঠ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছিল।
৩. ভারতের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বন্দে মাতরম-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৪. দ্য প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬ বন্দে মাতরম-কে আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রস্তাব করেছে।
ওপরের বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনগুলি সঠিক?
(a) শুধুমাত্র ১, ২ এবং ৪
(b) শুধুমাত্র ১ এবং ৩
(c) শুধুমাত্র ২, ৩ এবং ৪
(d) ১, ২, ৩ এবং ৪
উত্তর: (a) শুধুমাত্র ১, ২ এবং ৪
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি ১: সঠিক। বন্দে মাতরম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেছিলেন।
• বিবৃতি ২: সঠিক। গানটি প্রথম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস আনন্দমঠ-এ (১৮৮২) প্রকাশিত হয়েছিল।
• বিবৃতি ৩: ভুল। ভারতের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বন্দে মাতরম-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি বা উল্লেখ করা হয়নি; ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল।
• বিবৃতি ৪: সঠিক। সংশোধনী বিল, ২০২৬ বন্দে মাতরম-কে আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রস্তাব করেছে।