প্রেক্ষাপট (Context)
- স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC) থেকে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি অরবিটাল লঞ্চ ভেহিকল বিক্রম-১ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ করতে চলেছে।
- আবহাওয়া, রেঞ্জ ক্লিয়ারেন্স এবং উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সমাপ্তির ওপর নির্ভর করে এই উদ্বোধনী মিশন, যার নাম ‘মিশন আগমন’ (Mission Aagaman), ১২ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- এই মিশনটি ২০২২ সালে বিক্রম-এস (Vikram-S)-এর সফল সাব-অরবিটাল পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিক্রম-১ লঞ্চ ভেহিকল সম্পর্কে (About Vikram-1 Launch Vehicle)
I. মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)
- উন্নয়নকারী (Developer): স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) (হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ)।
- ধরণ (Type): এটি একটি চার স্তরের, এক্সপেন্ডেবল অরবিটাল স্মল-লিফট লঞ্চ ভেহিকল (small-lift launch vehicle) । এর প্রথম তিনটি স্তর হলো কঠিন বা সলিড স্তর (solid stages), এবং চতুর্থ স্তরটি হলো তরল বা লিকুইড স্তর (liquid stage)।
- পেলোড ক্ষমতা (Payload Capacity):
- লো আর্থ অরবিট (LEO)-এ প্রায় ৩০০ কেজি।
- এটি ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- মিশন (Mission): প্রথম অরবিটাল মিশন, যার নাম ‘মিশন আগমন’ (Mission Aagaman)।
- উৎক্ষেপণস্থল (Launch Site): সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC), শ্রীহরিকোটা।
II. উদ্দেশ্য (Objective)
- স্বাধীনভাবে স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে স্থাপন করার ক্ষেত্রে ভারতের বেসরকারি খাতের সক্ষমতা প্রদর্শন করা।
- বৈশ্বিক ছোট স্যাটেলাইট বাজারের জন্য সাশ্রয়ী এবং ডেডিকেটেড উৎক্ষেপণ পরিষেবা প্রদান করা।
- ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা।
মিশন আগমন (Mission Aagaman)
- এটি স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের প্রথম অরবিটাল মিশনকে চিহ্নিত করে।
- এটি একটি আংশিক বাণিজ্যিক মিশন হিসেবে পরিকল্পিত।
- প্রযুক্তি প্রদর্শনী পেলোডের পাশাপাশি এটি গ্রাহকদের পেলোডও বহন করবে।
- এটি সফল হলে, দুটি প্রদর্শনী বা ডেমোনস্ট্রেশন মিশনের পর বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ (Technological Features)
- ওজন কমানোর জন্য উন্নত কার্বন কম্পোজিট কাঠামো (Carbon composite structures) ।
- রকেটের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক আকারে 3D-প্রিন্টেড উপাদান (3D-printed components)-এর ব্যবহার।
- নিম্নলিখিত বিষয়গুলির জন্য সম্পূর্ণ সমন্বিত অ্যাভিওনিক্স (fully integrated avionics):
- নেভিগেশন (Navigation)
- গাইডেন্স (Guidance)
- ফ্লাইট কন্ট্রোল (Flight control)
- টেলিমետ্রি (Telemetry)
- দ্রুত উৎপাদন এবং কম উৎক্ষেপণ খরচের কথা মাথায় রেখে এটি ডিজাইন করা হয়েছে।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেস সম্পর্কে (About Skyroot Aerospace)
- এটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: হায়দ্রাবাদ।
- ২০২২ সালে সফলভাবে রকেট (বিক্রম-এস) উৎক্ষেপণকারী প্রথম ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানি।
- ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামানুসারে এর লঞ্চ ভেহিকলগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
বিক্রম-১ (Vikram-1)-এর প্রসঙ্গে, নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. এটি ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি অরবিটাল লঞ্চ ভেহিকল।
2. এটি অগ্নিকুল কসমস (Agnikul Cosmos) দ্বারা তৈরি করা হচ্ছে।
3. এটি ছোট স্যাটেলাইটগুলিকে লো আর্থ অরবিট (LEO)-এ স্থাপন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
উপরে দেওয়া বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) 1 and 2 only
(b) 2 and 3 only
(c) 1 and 3 only
(d) 1, 2 and 3
উত্তর ও ব্যাখ্যা (Answer & Explanation)
সঠিক উত্তর: (c) 1 and 3 only
• বিবৃতি 1 সঠিক: image_cef7a2.png-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্রম-১ হলো ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি অরবিটাল-ক্লাস রকেট বা লঞ্চ ভেহিকল। এর পূর্বসূরি, বিক্রম-এস (যা ২০২২ সালের নভেম্বরে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল) একটি সাব-অরবিটাল রকেট ছিল।
• বিবৃতি 2 ভুল: বিক্রম-১ রকেটটি হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ প্রস্তুতকারী সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) দ্বারা তৈরি করা হচ্ছে। অগ্নিকুল কসমস হলো ভারতের আরেকটি অন্যতম বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ, তবে তারা 'অগ্নিবাণ' (Agnibaan) নামের একটি ভিন্ন লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করছে।
• বিবৃতি 3 সঠিক: বিক্রম-১ হলো একটি মাল্টি-স্টেজ, স্মল-লিফট লঞ্চ ভেহিকল যা মূলত ছোট স্যাটেলাইটগুলিকে (৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন সম্পন্ন) প্রায় ৪৫০ কিমি উচ্চতায় লো আর্থ অরবিট (LEO)-এ স্থাপন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।