প্রাসঙ্গিকতা: GS প্রিলিমস (শিল্প ও সংস্কৃতি, সাংবিধানিক বিধান এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ)
প্রেক্ষাপট (Context)
- সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “শব্দালোক“ (যা মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড বা শব্দের যাদুঘর নামেও পরিচিত) উদ্বোধন করেছেন, যা ভারতের প্রথম ইমার্সিভ (immersive) ভাষা মিউজিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল লাইব্রেরি দ্বারা এটি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সমৃদ্ধ ভাষাগত ঐতিহ্য উদযাপন এবং এর সাংস্কৃতিক বিরাসত (ঐতিহ্য) সংরক্ষণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
মূল আকর্ষণসমূহ (Key Highlights)
- মিউজিয়ামটি কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে।
- এই মিউজিয়ামটি “ভাষা শক্তি“ উদ্যোগের অধীনে তৈরি করা হয়েছে।
- এটি ভারতের সমৃদ্ধ ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রসার করতে চায়।
- মিউজিয়ামটির প্রথম পর্যায়ে ভারতীয় ভাষা, লিপি এবং সাহিত্যের বিশাল বৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটি ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশিলের (Eighth Schedule) অধীনে স্বীকৃত সমস্ত 22টি সরকারি ভাষাকে উদযাপন করে।
স্থাপত্য ও পরিচালনগত কাঠামো (Architectural & Operational Framework)
- থিম্যাটিক লেআউট (Thematic Layout): মিউজিয়ামের কাঠামোটিতে 9টি পৃথক গ্যালারি রয়েছে, যার প্রতিটি ভাষার ইতিহাস, বিকাশের মাইলফলক এবং ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর তাদের গভীর প্রভাবের আলাদা আলাদা দিক অন্বেষণ করে।
- প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ (Technological Interventions): সনাতন বা প্রথাগত ডিসপ্লে কেস থেকে সরে এসে দর্শকদের সক্রিয়ভাবে আকর্ষিত করতে, শব্দালোক নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগুলি সংহত করে:
- ডিজিটাল ডিসপ্লে: গতিশীল পাঠ্য (dynamic text) এবং টাইমলাইন ম্যাপিংয়ের জন্য।
- হলোগ্রাম: ঐতিহাসিক ভাষাগত প্রেক্ষাপট পুনর্নির্মাণ করার জন্য।
- মোশন–সেন্সর প্রযুক্তি: প্রতিক্রিয়াশীল, ইন্টারেক্টিভ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য।
ইমার্সিভ মিউজিয়াম (Immersive Museum) কী?
- একটি ইমার্সিভ মিউজিয়াম এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেমন:
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)
- অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)
- প্রজেকশন ম্যাপিং
- ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লে
- অডিও–ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা
- এটি দর্শকদের একটি ইন্টারেক্টিভ এবং অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতিতে প্রদর্শনীর সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
ভারতের ন্যাশনাল লাইব্রেরি (National Library of India) সম্পর্কে
- ন্যাশনাল লাইব্রেরিটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় অবস্থিত।
- এটি ভলিউম বা বইয়ের সংখ্যা এবং সর্বজনীন রেকর্ডের দিক থেকে ভারতের বৃহত্তম লাইব্রেরি।
- এটি সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে।
- এই লাইব্রেরিটি তার উৎপত্তির সন্ধান পায় ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি (Imperial Library) থেকে।
- ১৯৫৩ সালে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল লাইব্রেরি হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।
- এটি ডেলিভারি অফ বুকস অ্যান্ড নিউজপেপারস (পাবলিক লাইব্রেরিজ) অ্যাক্ট, 1954-এর অধীনে ভারতে প্রকাশিত বইগুলির ভান্ডার (repository) হিসেবে কাজ করে।
ভাষার সাংবিধানিক কাঠামো (Constitutional Framework of Languages)
- পার্ট XVII (আর্টিকেল 343 থেকে 351): ইউনিয়নের সরকারি ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা এবং সুপ্রিম কোর্ট/হাইকোর্টের ভাষা নিয়ে আলোচনা করে。
- আর্টিকেল 351 (হিন্দি ভাষার বিকাশের নির্দেশিকা): হিন্দির প্রচার ও প্রসার বাড়াতে ইউনিয়নকে নির্দেশ দেয় যাতে এটি ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির সমস্ত উপাদানের প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে, যার প্রাথমিক শব্দভাণ্ডার সংস্কৃত থেকে এবং গৌণভাবে অন্যান্য ভাষা থেকে নেওয়া হবে।
- অষ্টম তপশিল (Eighth Schedule): মূলত 14টি ভাষা ছিল; বর্তমানে 22টি ভাষা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংশোধনীগুলির মধ্যে রয়েছে:
- 21st Amendment Act, 1967: সিন্ধি ভাষা যুক্ত করা হয়।
- 71st Amendment Act, 1992: কোঙ্কণি, মণিপুরি এবং নেপালি যুক্ত করা হয়।
- 92nd Amendment Act, 2003: বোড়ো, ডোগরি, মৈথিলি এবং সাঁওতালি যুক্ত করা হয়।
ভারতীয় ভাষা অনুভব মিউজিয়ামের (Bharatiya Bhasha Anubhav Museum) প্রসঙ্গে নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. এটি ভাষা এবং ভাষাগত ঐতিহ্যের জন্য উৎসর্গীকৃত ভারতের প্রথম ইমার্সিভ মিউজিয়াম।
2. এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে তৈরি করা হয়েছে।
3. মিউজিয়ামটির লক্ষ্য ডিজিটাল এবং এআই (AI)-চালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষা করা।
ওপরের দেওয়া বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
(a) 1 and 2 only
(b) 2 and 3 only
(c) 1 and 3 only
(d) 1, 2 and 3
উত্তর: (c) 1 and 3
ব্যাখ্যা (Explanation):
• বিবৃতি 1 সঠিক: ভারতীয় ভাষা অনুভব মিউজিয়াম হলো ভারতের প্রথম ইমার্সিভ ভাষা মিউজিয়াম।
• বিবৃতি 2 ভুল: মিউজিয়ামটি সংস্কৃতি মন্ত্রকের (Ministry of Culture) অধীনে তৈরি করা হয়েছে।
• বিবৃতি 3 সঠিক: এটি ভারতের ভাষাগত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি, মাল্টিমিডিয়া এবং এআই-চালিত (AI-driven) প্রদর্শনী ব্যবহার করে।