ভারত সোনা ও রুপোর আমদানির শুল্ক বৃদ্ধি করেছে

India Raise Gold And Silver Import Duties

প্রেক্ষাপট

  • বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার বিরুদ্ধে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ভারত সরকার সোনা ও রুপোর ওপর কার্যকর আমদানির শুল্ক (Import Duty) ৯.২% থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১৮.৪% করেছে। এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হলো কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বা চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করা, যা পশ্চিম এশিয়া সংকট এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে চাপের মুখে পড়েছে।
  • সোনা-রুপোর মতো “অ-অপরিহার্য” আমদানিকে আরও ব্যয়বহুল করার মাধ্যমে সরকার অপরিশোধিত তেল এবং সারের মতো অপরিহার্য পণ্যের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা (Foreign Exchange) সংরক্ষণ করতে চায়।

১. ভারত কেন মূল্যবান ধাতুর ওপর আমদানির শুল্ক বাড়িয়েছে?

  • বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ (Conserving Foreign Exchange): চলমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে চাপের মুখে থাকা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য। কর্মকর্তাদের মতে, সোনার মতো “বিলাসবহুল” ভোগের চেয়ে অপরিশোধিত তেল, সার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মতো “অপরিহার্য” আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
  • কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) নিয়ন্ত্রণ: ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে সোনার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমলেও, বিশ্ববাজারে আকাশছোঁয়া দামের কারণে ২০২৬ অর্থবর্ষে সোনা আমদানির মূল্য ২৪% বেড়ে রেকর্ড ৭১.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা CAD-কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • রুপিকে শক্তিশালী করা (Supporting the Rupee): ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আঞ্চলিক সংঘাতের পর ভারতীয় রুপির মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং ডলার প্রতি ৯৫.৫-এর নিচে নেমে গেছে। বুলিয়ন (সোনা-রুপো) আমদানি কমানো মুদ্রার মান পতন রোধ করার একটি সরাসরি পদক্ষেপ।
  • জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির মোকাবিলা: একটি বড় তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত হরমোজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলার থেকে লাফিয়ে প্রায় ১০৭ ডলারে পৌঁছানোয়, জ্বালানি বিলের চাপ সামলাতে সরকার মূল্যবান ধাতুর “এড়ানো সম্ভব এমন চাহিদা” কমানোর পথে হাঁটছে।

২. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বা চলতি হিসাবের ঘাটতি

  • সংজ্ঞা: একটি দেশের পণ্য, পরিষেবা এবং হস্তান্তরের মোট আমদানি যখন তার মোট রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সেই ব্যবধানকে CAD বলা হয়। এটি ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট (BoP) বা লেনদেন ভারসাম্যের একটি অংশ।
  • চলতি হিসাবের (Current Account) উপাদানসমূহ:
    • পণ্য বাণিজ্য (রপ্তানি ও আমদানি)
    • পরিষেবা (আইটি, পর্যটন, শিপিং ইত্যাদি)
    • আয় (সুদ, লভ্যাংশ, মুনাফা)
    • হস্তান্তর/রেমিট্যান্স (Transfers/Remittances)
  • উচ্চ CAD-এর প্রভাব:
    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ।
    • দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন।
    • বৈদেশিক ঋণের বৃদ্ধি।
    • বিশ্বব্যাপী সংকটের সময় অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

৩. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (চলতি হিসাব) ও ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টের (মূলধনী হিসাব) মধ্যে পার্থক্য

কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (Current Account)ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট (Capital Account)
এটি পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে।এটি বিনিয়োগ ও সম্পদের প্রবাহ নিয়ে কাজ করে।
এর মধ্যে রপ্তানি, আমদানি এবং রেমিট্যান্স অন্তর্ভুক্ত।এর মধ্যে FDI, FPI এবং ঋণ অন্তর্ভুক্ত।
এটি আয় এবং ব্যয় প্রতিফলিত করে।এটি মালিকানা এবং বিনিয়োগ প্রতিফলিত করে।
উদাহরণ: তেল আমদানির বিল।উদাহরণ: ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ।
Q. সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ভারতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. সোনা আমদানি বৃদ্ধি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বাড়িয়ে দিতে পারে।
2. কারেন্ট অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) অন্তর্ভুক্ত।
3. মূল্যবান ধাতুর ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সহায়তা করতে পারে।
4. ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ এবং সম্পদের প্রবাহ নিয়ে কাজ করে।
ওপরে দেওয়া বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) 1, 3 and 4 only
(b) 1 and 2 only
(c) 2, 3 and 4 only
(d) 1, 2, 3 and 4
উত্তর: (a) 1, 3 and 4 only
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 সঠিক: উচ্চ সোনা আমদানি বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ায় এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বৃদ্ধি করে।
• বিবৃতি 2 ভুল: FDI এবং FPI হলো ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টের উপাদান, কারেন্ট অ্যাকাউন্টের নয়।
• বিবৃতি 3 সঠিক: আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করলে অ-অপরিহার্য আমদানি কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সাহায্য করে।
• বিবৃতি 4 সঠিক: ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট বিনিয়োগ এবং আর্থিক সম্পদের প্রবাহ যেমন FDI, FPI এবং ঋণ রেকর্ড করে।