GS প্রিলিমসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: পরিবেশ
জৈবিক বৈশিষ্ট্য
- আকার (Size): এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জীবিত সরীসৃপ এবং সবচেয়ে বড় কুমির প্রজাতি। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কুমিরের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার (২০ ফুট) বা তারও বেশি হতে পারে।
- লবণাক্ততা সহনশীলতা (Salinity Tolerance): অন্যান্য কুমিরের তুলনায় এটি ইউরিহ্যালাইন (Euryhaline)—অর্থাৎ বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম। এর জিহ্বার পিছনে বিশেষ লবণগ্রন্থি (Salt Glands) থাকে, যা শরীরের অতিরিক্ত লবণ বের করে দেয়। ফলে এটি সমুদ্রের লবণাক্ত জলে বাস করতে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্ব পর্যন্ত সমুদ্রপথে চলাচল করতে সক্ষম।
- বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা (Ecological Role): এটি একটি শীর্ষ শিকারি (Apex Predator)। উপকূলীয় ও মোহনা অঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরে থেকে শিকার প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।
ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আবাসস্থল
- বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি (Global Range): ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
- আবাসস্থল (Habitat): প্রধানত ম্যানগ্রোভ বন, মোহনা (Estuary), উপকূলীয় বদ্বীপ, লেগুন এবং নদীর নিম্ন অববাহিকায় বাস করে।
ভারতে প্রধান বিস্তৃতি
- ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান (ওডিশা): ভারতে লবণজলীয় কুমিরের বৃহত্তম জনসংখ্যার আবাসস্থল। এখানকার ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র তাদের প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- সুন্দরবন (পশ্চিমবঙ্গ): জোয়ার-ভাটার জলপথ এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বনে এদের দেখা যায়।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: দ্বীপপুঞ্জের সামুদ্রিক খাঁড়ি ও উপকূলীয় জলাঞ্চলে বিস্তৃত।
আইনগত ও সংরক্ষণ মর্যাদা
| সংস্থা / আইন | মর্যাদা |
| IUCN Red List | Least Concern (ন্যূনতম উদ্বেগ) |
| CITES | Appendix I (ভারত ও অধিকাংশ বিস্তৃতি অঞ্চলে) |
| বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২ | তফসিল-I (Schedule I) – ভারতের সর্বোচ্চ আইনগত সুরক্ষা |
ভারতের তিনটি কুমির প্রজাতির তুলনা
| বিষয় | লবণজলীয় কুমির | মাগর বা মার্শ কুমির | ঘড়িয়াল |
| বৈজ্ঞানিক নাম | Crocodylus porosus | Crocodylus palustris | Gavialis gangeticus |
| আবাসস্থল | লবণাক্ত জল, মোহনা, ম্যানগ্রোভ | মিঠা জলের হ্রদ, নদী ও জলাভূমি | স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রবাহমান মিঠা জলের নদী |
| IUCN মর্যাদা | Least Concern | Vulnerable | Critically Endangered |
| WPA, 1972 | Schedule I | Schedule I | Schedule I |
| প্রধান বিস্তৃতি | ভিতরকণিকা, সুন্দরবন, আন্দামান ও নিকোবর | সারা ভারত (যেমন: চম্বল, গুজরাট) | জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্য |
প্রধান হুমকি
- চিংড়ি চাষ (Aquaculture) ও উপকূলীয় উন্নয়নের কারণে আবাসস্থল খণ্ডিত হওয়া (Habitat Fragmentation)
- চামড়ার জন্য অবৈধ শিকার (Illegal Poaching)
- ম্যানগ্রোভ সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় মানুষ–কুমির সংঘাত (Human–Crocodile Conflict) বৃদ্ধি
সংরক্ষণ উদ্যোগ
- ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সহায়তায় শুরু হয়।
- এই প্রকল্পে “Rear-and-Release” (কৃত্রিমভাবে প্রতিপালন করে পরে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা) পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।
- এর ফলে লবণজলীয় কুমির, মাগর এবং ঘড়িয়াল—ভারতের তিনটি কুমির প্রজাতিকেই বিলুপ্তির মুখ থেকে পুনরুদ্ধার করতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।