বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা FCRA

প্রেক্ষাপট

এনজিও (NGO)-দের বিদেশি তহবিল এবং সেই তহবিল থেকে তৈরি হওয়া সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ভারত সরকার পার্লামেন্টের চলতি অধিবেশনে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল, ২০২৬ (Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026) পেশ করতে পারে।

১. প্রস্তাবিত প্রধান আইনি পরিবর্তনসমূহ

  • নিযুক্ত কর্তৃপক্ষ (Designated Authority): একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে যেখানে কোনো এনজিও-র নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল হলে, তাদের বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে তৈরি সম্পদ দেখভাল বা নিষ্পত্তির জন্য একজন “নিযুক্ত কর্তৃপক্ষ” নিয়োগ করা যাবে।
  • “মূল কর্মকর্তা” (Key Functionary)-র সংজ্ঞা সম্প্রসারণ: এনজিও-র মূল কর্মকর্তার সংজ্ঞায় এখন ডিরেক্টর বা পদাধিকারীদের পাশাপাশি পার্টনার, ট্রাস্টি এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কর্তা (Karta)-দেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
  • শাস্তি হ্রাস: বিলে এফসিআরএ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • দায়বদ্ধতা (Liability): এনজিও-র মাধ্যমে হওয়া অপরাধের জন্য এখন থেকে মূল কর্মকর্তারা সরাসরি দায়ী থাকবেন।
  • তদন্তের অনুমতি: ধারা ৪৩-এর সংশোধনী অনুযায়ী, এফসিআরএ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের তদন্ত শুরু করার আগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
  • তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা: “পূর্ব অনুমতি” (Prior permission) ক্যাটাগরিতে পাওয়া বিদেশি তহবিল ব্যবহারের জন্য বিলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২. এফসিআরএ (FCRA) সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা

  • প্রেক্ষাপট: ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময় প্রণীত এফসিআরএ (FCRA) আইনটি ভারতের ব্যক্তি, সমিতি এবং সংস্থাগুলোর বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।
  • উদ্দেশ্য: জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করা; বিদেশি তহবিল যেন নির্বাচনী রাজনীতি, জনমত বা নীতি নির্ধারণকে এমনভাবে প্রভাবিত না করে যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা নিশ্চিত করা।
  • পরিচালনাকারী সংস্থা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MHA) হলো এই আইনের নিবন্ধন, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল মন্ত্রণালয়।
  • এফসিআরএ (২০১০) আইন: নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সমিতি বা কোম্পানিগুলোর বিদেশি অনুদান বা আতিথেয়তা গ্রহণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করে এমন কাজে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সংসদ এই আইনটি কার্যকর করেছে।
  • ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী “ব্যক্তি” (Person)-র সংজ্ঞা: এফসিআরএ অনুযায়ী “ব্যক্তি” বলতে বোঝায়—
    • একজন ব্যক্তি;
    • একটি হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF);
    • একটি সমিতি (Association);
    • কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ৮-এর অধীনে নিবন্ধিত একটি কোম্পানি।

·       নিষেধাজ্ঞা (Prohibitions):

নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি অনুদান গ্রহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে:

  • নির্বাচনের প্রার্থী।
  • যেকোনো আইনসভার সদস্য (MP/MLA)।
  • রাজনৈতিক দল বা তাদের পদাধিকারী।
  • বিচারক এবং সরকারি কর্মচারী।
  • নিবন্ধিত সংবাদপত্রের প্রকাশক বা সম্পাদক।

·       মূল সংশোধনীসমূহ (২০২০):

  • আধার (Aadhaar) কার্ডের বাধ্যবাধকতা: এনজিও-র সমস্ত পদাধিকারীদের জন্য আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • এফসিআরএ অ্যাকাউন্ট (FCRA Account): সমস্ত বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), নিউ দিল্লি মেইন ব্রাঞ্চ-এ খোলা একটি নির্দিষ্ট “FCRA অ্যাকাউন্টে” গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
  • প্রশাসনিক ব্যয় (Administrative Expenses): প্রশাসনিক কাজে বিদেশি তহবিলের ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা ৫০% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে।
  • তহবিল হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা: কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা তাদের প্রাপ্ত বিদেশি অনুদান অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে হস্তান্তর করতে পারবে না।

·       ২০২২ সালের সংশোধনীসমূহ:

  • আত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তহবিলের সীমা বৃদ্ধি: আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া বিদেশি অনুদান রিপোর্ট করার সীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
  • রিপোর্ট করার সময়সীমা বৃদ্ধি: আত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিদেশি অনুদানের তথ্য সরকারকে জানানোর সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩ মাস করা হয়েছে।
Q. নিচের মধ্যে কাদের এফসিআরএ-র অধীনে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করা নিষিদ্ধ? 

1. নির্বাচনের প্রার্থী
2. আইনসভার সদস্য (এমপি/এমএলএ)
3. বিচারক
4. সরকারি কর্মচারী

সঠিক উত্তর বেছে নিন:
(a)
কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 1, 2 এবং 3
(c) কেবল 2, 3 এবং 4
(d) 1, 2, 3 এবং 4

সঠিক উত্তর: (b)

ব্যাখ্যা: আইন অনুযায়ী নিচের ব্যক্তিদের বিদেশি অনুদান নেওয়া নিষিদ্ধ:
• নির্বাচনের প্রার্থী: নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধ করতে।
• আইনসভার সদস্য: এর মধ্যে সংসদ সদস্য (MP) এবং বিধানসভার সদস্য (MLA) অন্তর্ভুক্ত।
• বিচারক: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে।
• সরকারি কর্মচারী: সরকারের অধীনে কর্মরত যেকোনো ব্যক্তি।

Practice Today’s MCQs