প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা-র নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারত এবং ব্রাজিল বেশ কিছু ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলো মূলত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (বিশেষ করে রেয়ার আর্থ এবং লিথিয়াম), ইস্পাত খনি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিজিটাল জনকাঠামো ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার ওপর জোর দেয়।
১. রাজনৈতিক অবস্থান ও সীমানা
- বিশাল ভূখণ্ড: ব্রাজিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় ৪৭% এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- অক্ষাংশীয় বিস্তার: এটি বিশ্বের একমাত্র দেশ যার মধ্য দিয়ে নিরক্ষরেখা (Equator) এবং মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn) উভয়ই অতিক্রম করেছে।
- প্রতিবেশী দেশ: চিলি এবং ইকুয়েডর বাদে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিটি দেশের সাথেই ব্রাজিলের সীমানা রয়েছে।
- উপকূলরেখা: এর পূর্ব দিকে আটলান্টিক মহাসাগর বরাবর একটি বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা রয়েছে।
২. প্রধান প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
- আমাজন অববাহিকা (উত্তর): এটি বিশ্বের বৃহত্তম জলনিষ্কাশন অববাহিকা, যা সেলভাস (নিরক্ষীয় বৃষ্টিঅরণ্য) দ্বারা আবৃত। এটি একটি প্রধান কার্বন শোষক এবং একে প্রায়ই “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- ব্রাজিলিয়ান হাইল্যান্ডস বা উচ্চভূমি (দক্ষিণ-পূর্ব): এটি প্রাচীন স্ফটিক শিলা দ্বারা গঠিত একটি প্রাচীন মালভূমি। এর মধ্যে সেরা দো মার এবং সেরা দা মান্টিকুইরা-র মতো উপ-পর্বতশ্রেণী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- পান্তানাল (পশ্চিম): মূলত মাটো গ্রোসো দো সুল রাজ্যে অবস্থিত পান্তানাল হলো বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলাভূমি। এটি একটি অভ্যন্তরীণ ডেল্টা যেখানে বেশ কয়েকটি নদী মিলিত হয়েছে।
- মাটো গ্রোসো মালভূমি: এটি একটি কেন্দ্রীয় উচ্চভূমি অঞ্চল যা আমাজন এবং লা প্লাটা নদী ব্যবস্থার মধ্যে জলবিভাজিকা হিসেবে কাজ করে।
৩. নদী ব্যবস্থা (Drainage Systems)
- আমাজন নদী: এটি আন্দিজ পর্বতমালা (পেরু) থেকে উৎপন্ন হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে। ব্রাজিলে এর প্রধান উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে রিও নেগ্রো (কালো জল) এবং মাদিরা।
- সাও ফ্রান্সিসকো নদী: “জাতীয় সংহতির নদী” হিসেবে পরিচিত এই নদীটি সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের অভ্যন্তরে প্রবাহিত দীর্ঘতম নদী।
- পারানা-প্যারাগুয়ে ব্যবস্থা: এই নদীগুলো দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইতাইপু বাঁধে জল সরবরাহ করে (যা প্যারাগুয়ের সাথে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়)।
৪. অর্থনৈতিক ভূগোল ও সম্পদ
- আয়রন কোয়াড্র্যাঙ্গেল (Quadrilátero Ferrífero): মিনাস গেরাইস রাজ্যে অবস্থিত এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ লৌহ আকরিক খনি অঞ্চল।
- কারাজাস খনি: পারা রাজ্যে অবস্থিত এটি বিশ্বের বৃহত্তম লৌহ আকরিক খনি।
- গুরুত্বপূর্ণ খনিজ: ব্রাজিল নিওবিয়াম উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং এখানে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম ও গ্রাফাইটের মজুদ রয়েছে, যা ভারতের ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) ব্যাটারি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কৃষি: ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ (যা “ফাজেন্ডা”-তে চাষ করা হয়) এবং সয়াবিন ও চিনির অন্যতম প্রধান উৎপাদনকারী।
Q: ব্রাজিলের ভূগোল সম্পর্কে নিচের বাক্যগুলো বিবেচনা করুন:
1. ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ যা মহাদেশের অন্য সমস্ত দেশের সাথে সীমানা ভাগ করে।
2. সাও ফ্রান্সিসকো নদী হলো সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের অভ্যন্তরে প্রবাহিত দীর্ঘতম নদী।
3. বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলাভূমি 'পান্তানাল' সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের মাটো গ্রোসো রাজ্যে অবস্থিত।
ওপরের কয়টি বাক্য সঠিক?
(a) মাত্র একটি
(b) মাত্র দুটি
(c) তিনটিই সঠিক
(d) একটিও নয়
সমাধান: (a) মাত্র একটি
• 1 নম্বর বাক্যটি ভুল: ব্রাজিল বিশাল দেশ হলেও এর সাথে চিলি এবং ইকুয়েডরের কোনো সীমানা নেই।
• 2 নম্বর বাক্যটি সঠিক: সাও ফ্রান্সিসকো নদী সত্যিই দীর্ঘতম নদী যা সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের ভেতরে অবস্থিত; এটি মিনাস গেরাইস থেকে উৎপন্ন হয়ে আটলান্টিকে পড়েছে।
• 3 নম্বর বাক্যটি ভুল: যদিও পান্তানালের বেশিরভাগ অংশ ব্রাজিলে (মাটো গ্রোসো এবং মাটো গ্রোসো দো সুল), তবে এর কিছু অংশ বলিভিয়া এবং প্যারাগুয়েতেও বিস্তৃত।